শিরোনাম
বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশ: ১১:১৫, ২৫ অক্টোবর ২০২৬
টাইগার শ্রফ। ছবি: সংগৃহীত
বলিউড অভিনেতা টাইগার শ্রফের ওপর গত ১৮ অক্টোবর মুম্বাইয়ে গুলিবর্ষণের ঘটনার আতঙ্ক এখনো কাটেনি। পুলিশকে তিনি বলেছেন, ‘কারও সঙ্গে আমার কোনো শত্রুতা নেই, তাহলে কেন আমার ওপর এমন প্রাণঘাতী হামলা হলো?’
মুম্বাই পুলিশের ক্রাইম ব্রাঞ্চের একটি দল অভিনেতার বাড়িতে তার জবানবন্দি নিতে গেলে তিনি হতাশা ও শঙ্কার কথা জানান।
গত ১৮ অক্টোবর সন্ধ্যায় জুহু এলাকায় ফুটবল খেলে ফেরার পথে টাইগার শ্রফের বিএমডব্লিউ গাড়ি লক্ষ্য করে ৫ থেকে ৬ রাউন্ড গুলি চালায় দুর্বৃত্তরা। এতে অভিনেতা অক্ষত থাকলেও তার গাড়িচালক ও ঘটনাস্থলে উপস্থিত এক ভ্লগার আহত হন।
ঘটনার আকস্মিকতায় হতবাক টাইগার পরে নিজেই গাড়ি চালিয়ে আহত চালককে হাসপাতালে নিয়ে যান।
ঘটনার দিন সন্ধ্যায় গাড়ির সামনের যাত্রীর আসনে বসে ছিলেন টাইগার শ্রফ। সে সময়ই দুই হামলাকারী তার গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি চালায়। পরে তারা মোটরসাইকেলে করে তাদের তৃতীয় সহযোগীর সঙ্গে পালিয়ে যায়।
পুলিশের তদন্তে জানা গেছে, হামলাকারীদের ব্যবহৃত একটি তুর্কি পিস্তল জ্যাম হয়ে যাওয়ায় দুটি তাজা কার্তুজ পড়ে যায়। অন্য হামলাকারী দেশি কট্টা দিয়ে গুলি চালায়।
এ ঘটনায় পুলিশের তদন্তে চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। হামলার মূল হোতা হিসেবে লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাংয়ের নাম এসেছে। গোষ্ঠীটি ইতোমধ্যে হামলার দায় স্বীকার করেছে।
জানা গেছে, হামলার পর অভিযুক্তরা নেপালে পালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিল। এ জন্য সুরাট থেকে বাসে করে দিল্লি যাওয়ার ছক কষে তারা। তবে বাস মিস করায় ট্রেনে করে পালানোর চেষ্টা করে। শেষ পর্যন্ত তাদের সেই পরিকল্পনা সফল হয়নি।
সুরাট বাসস্ট্যান্ড ও রেলস্টেশনের সিসিটিভি ফুটেজ অনুসরণ করে মুম্বাই ক্রাইম ব্রাঞ্চের একটি দল রাজস্থানের কোটা থেকে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করে।
এ মামলায় এখন পর্যন্ত মোট ১১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সর্বশেষ গত শনিবার ইন্দোর থেকে প্রনজল থাকরান (২২) নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি হরিয়ানার সনিপাতের বাসিন্দা। পুলিশের ধারণা, হামলাকারীদের লজিস্টিক ও আর্থিক সহায়তা দিয়েছিলেন তিনি।
এর আগে শুক্রবার সুরাটে অভিযান চালিয়ে হামলায় ব্যবহৃত দুটি আগ্নেয়াস্ত্র ও ১০টি তাজা কার্তুজ উদ্ধার করে পুলিশ। অস্ত্র ও কার্তুজগুলো বর্তমানে ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে।
ঢাকা এক্সপ্রেস/এসএস