শিরোনাম
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ০৯:৪৪, ২১ অক্টোবর ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
বিক্ষোভ দমনে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ বন্ধ করতে ভারতের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘের মানবাধিকার বিশেষজ্ঞরা। একই সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের ওপর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর আচরণ নিয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তারা। আলজাজিরা ও রয়টার্সের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) দেওয়া এক বিবৃতিতে জাতিসংঘের ২৪ জন স্বাধীন বিশেষজ্ঞ ভারতের কর্তৃপক্ষের প্রতি এ আহ্বান জানান।
বিরোধী দল ও শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ দমনে পুলিশের পদক্ষেপ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তারা বলেন, শান্তিপূর্ণ সমাবেশেও নিরস্ত্র শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে বলপ্রয়োগের অভিযোগ উঠেছে।
বিক্ষোভ ও সংশ্লিষ্ট আটক অভিযানে যৌন সহিংসতা এবং লিঙ্গভিত্তিক নির্যাতনের অভিযোগ নিয়েও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা।
তারা বলেন, অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। পাশাপাশি নির্বিচারে সমাবেশে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, বায়োমেট্রিকসহ ডিজিটাল নজরদারির অপব্যবহার বন্ধ এবং ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা থেকে বিরত থাকার জন্য কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান তারা।
জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞরা আরও বলেন, বিক্ষোভগুলো শান্তিপূর্ণ হলেও নিরস্ত্র শিক্ষার্থীদের লাঠিপেটাসহ বিভিন্নভাবে বলপ্রয়োগের অভিযোগ রয়েছে। এ ছাড়া হাজারো মানুষকে বিক্ষোভে যোগ দিতে বাধা দেওয়ার অভিযোগও তুলেছেন তারা।
জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদ নির্দিষ্ট মানবাধিকার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও নথিবদ্ধ করার জন্য স্বাধীন বিশেষজ্ঞ নিয়োগ দেয়। তারা জাতিসংঘের হয়ে দায়িত্ব পালন করলেও সংস্থাটির বাইরে থেকে স্বাধীনভাবে কাজ করেন।
এর আগেও এ ধরনের সমালোচনা প্রত্যাখ্যান করেছে ভারত। এসব সমালোচনাকে দেশটির অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ হিসেবে বর্ণনা করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। চলতি মাসের শুরুতে সাম্প্রতিক বিক্ষোভ ঘিরে ব্যাপক আটকের ঘটনায় জাতিসংঘের মানবাধিকার দপ্তর উদ্বেগ প্রকাশ করলেও ভারত একই ধরনের অবস্থান নিয়েছিল।
চলতি মাসে ভারতে বিক্ষোভের নেতৃত্ব দিচ্ছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি), অন্যান্য বিরোধী দল ও শিক্ষার্থী সংগঠনগুলো। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে এসব বিক্ষোভ হচ্ছে। ভোটার তালিকা থেকে ১৩ কোটি মানুষের নাম বাদ দেওয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে আন্দোলন আরও জোরালো হয়েছে।
বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার প্রক্রিয়ায় দরিদ্র, গৃহহীন ও সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর মানুষ অসমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। তাদের মধ্যে মুসলিমরাও রয়েছেন। বিক্ষোভকারীদের দাবি, এসব জনগোষ্ঠীর অনেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির হিন্দুত্ববাদী দল ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) সমর্থক নন।
তবে বিজেপি ও ভারতের নির্বাচন কমিশন এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে। নির্বাচন কমিশনের দাবি, ভোটার তালিকা থেকে দ্বৈত নাম, মৃত ব্যক্তি, স্থানান্তরিত ভোটার ও অন্যান্য অযোগ্য ব্যক্তিদের নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে। ভুল করে কারও নাম বাদ পড়লে তিনি আপিল করতে পারবেন।
ঢাকা এক্সপ্রেস/এসএস