ঢাকা, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬

৪ কার্তিক ১৪৩৩, ০৭ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮

কানাডার সেনা ঘাঁটিতে ভয়াবহ আগুন, নিহত ৪

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ: ০৯:৪১, ১৯ অক্টোবর ২০২৬

কানাডার সেনা ঘাঁটিতে ভয়াবহ আগুন, নিহত ৪

ছবি: সংগৃহীত

কানাডার আলবার্টা প্রদেশে সামরিক বাহিনীর একটি ঘাঁটিতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অন্তত চার সেনা সদস্য নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ৩৯ জন। তাদের মধ্যে অন্তত ১৯ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

স্থানীয় সময় রোববার (১৮ অক্টোবর) জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি ঘটনাটিকে ‘কানাডার মাটিতে সামরিক বাহিনীর জন্য অন্যতম ভয়াবহ ট্র্যাজেডি’ বলে অভিহিত করেন।

এর আগে শনিবার বিকেলে কানাডীয় সামরিক বাহিনীর অন্যতম ব্যস্ত প্রশিক্ষণ ঘাঁটি ‘কানাডিয়ান ফোর্সেস বেস ওয়েনরাইটে’ আগুন লাগে। বর্তমানে আগুন নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। অগ্নিকাণ্ডের কারণ এখনো স্পষ্ট নয়। তবে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এর সঙ্গে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের কোনো যোগসূত্র থাকার আশঙ্কা নেই।

প্রধানমন্ত্রী কার্নি বলেন, ‘আমাদের সশস্ত্র বাহিনীর যে সাহসী সদস্যদের আমরা হারিয়েছি, তাদের জন্য পুরো জাতি শোকাহত।’

বিবিসির প্রতিবেদনে নিহত চার সেনার পরিচয় নিশ্চিত করা হয়েছে। তারা হলেন সার্জেন্ট মরগান ওং, প্রাইভেট শন ফারেল, প্রাইভেট এইডান গোল্ডিং ও প্রাইভেট হেইডেন লাইকমার্ক।

রোববার এক সংবাদ সম্মেলনে আলবার্টার প্রিমিয়ার ড্যানিয়েল স্মিথ জানান, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ৩৯ জন আহতের মধ্যে অন্তত ১৯ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

ওয়েনরাইটের মেয়র ব্রুস পিউ জানিয়েছেন, আগুন যাতে নতুন করে ছড়িয়ে না পড়ে, সে জন্য দমকল ও উদ্ধারকারী দল এখনো ঘটনাস্থলে অবস্থান করছে।

সংবাদ সম্মেলনে মেজর জেনারেল ওয়েড রাটল্যান্ড জানান, পদাতিক বাহিনীর সদস্যরা একটি গ্রেনেড রেঞ্জ ও অ্যাটাক রেঞ্জে সরাসরি গোলাবারুদ ব্যবহার করে উচ্চ তীব্রতার যুদ্ধ প্রশিক্ষণ নিচ্ছিলেন। সেখানে ১০ জন সেনা কাল্পনিক শত্রুর ওপর আক্রমণের মহড়া চালাচ্ছিলেন।

তিনি আরও বলেন, ওয়েনরাইট প্রশিক্ষণ এলাকায় প্রচুর পরিমাণে সমরাস্ত্র ও গোলাবারুদ ছিল। এর মধ্যে গ্রেনেড লঞ্চার, গ্রেনেড, ছোট আগ্নেয়াস্ত্র এবং বিভিন্ন ধরনের গোলাবারুদও ছিল।

ঘটনাস্থল থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে ঘাসে আগুন লাগে। পরে সেই আগুন ধীরে ধীরে অ্যাটাক রেঞ্জের দিকে এগিয়ে যায়।

মেজর জেনারেল রাটল্যান্ড বলেন, ‘সেই সময় পুরো প্রশিক্ষণ এলাকাজুড়ে একাধিক প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চলছিল। অস্বাভাবিক শক্তিশালী বাতাসের কারণে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং এর দিক পরিবর্তন হয়ে রেঞ্জের প্রশাসনিক এলাকার দিকে চলে আসে।’

মেয়র ব্রুস পিউ জানান, শনিবার ঘাঁটির ভেতর থেকে কামানের গোলা ছোড়ার শব্দ শোনা যাচ্ছিল, যা হঠাৎ করেই থেমে যায়। তিনি উল্লেখ করেন, ওই ঘাঁটিতে কামানের গোলা ছোড়ার শব্দ শোনা খুব একটা অস্বাভাবিক নয়। এরপর খবর আসে, স্থানীয় জরুরি পরিষেবা বিভাগগুলোকে সর্বোচ্চ সতর্কতায় মোতায়েন করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী কার্নি জানান, সামরিক বাহিনী ও জরুরি পরিষেবার কর্মীরা সারা রাত ধরে আগুন নেভানোর কাজ চালিয়ে গেছেন। পরিস্থিতি ছিল কল্পনাতীত রকমের ভয়াবহ।

কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আহত সেনারা প্রশিক্ষণ এলাকার অ্যাটাক রেঞ্জে ছিলেন। তাদের মধ্যে রিজার্ভ বাহিনীর সদস্য এবং ‘প্রিন্সেস প্যাট্রিসিয়াস কানাডিয়ান লাইট ইনফ্যান্ট্রি’র সেনারাও রয়েছেন।

এক বিবৃতিতে কানাডিয়ান সশস্ত্র বাহিনী জানিয়েছে, ঘটনাটি এখনো তদন্তাধীন। তবে এখন পর্যন্ত এমন কোনো ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি যে এটি সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের ফল।

ব্রিফিংয়ে রাটল্যান্ড বলেন, তারা মনে করেন না যে ঘটনাটির সঙ্গে তেল ও গ্যাস অবকাঠামোর কোনো সম্পর্ক রয়েছে কিংবা এর পেছনে বাইরের কোনো হস্তক্ষেপ আছে।

আলবার্টার রাজধানী এডমন্টন থেকে প্রায় ২১০ কিলোমিটার পূর্বে অবস্থিত ওয়েনরাইট কানাডীয় সামরিক বাহিনীর অন্যতম প্রধান ঘাঁটি। সেখানে সরাসরি গোলাবারুদ ব্যবহার করে সামরিক প্রশিক্ষণ চালানো হয়। কানাডা ও মিত্র দেশগুলোর সেনারা এই ঘাঁটিতে অবস্থান করেন। সাধারণত একটি দিনে সেখানে প্রায় ৬৯০ জন সামরিক সদস্য এবং ৩০০ জন বেসামরিক কর্মী উপস্থিত থাকেন।

এ ঘটনায় ওয়েনরাইটের স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রগুলোতে ধারণক্ষমতার চেয়ে বেশি রোগী এসেছে বলে জানিয়েছেন এডমন্টনের রয়্যাল আলেকজান্দ্রা হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ওয়ারেন থারস্ক। সম্প্রচারমাধ্যম সিবিসিকে তিনি এ তথ্য জানান।

আহতদের এডমন্টনের রয়্যাল আলেকজান্দ্রা হাসপাতালে স্থানান্তর করা হচ্ছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ শুরুতে ‘কোড অরেঞ্জ’ ঘোষণা করেছিল। বড় ধরনের বিপর্যয় কিংবা বহু মানুষের হতাহতের ঘটনায় এ জরুরি প্রোটোকল কার্যকর করা হয়। তবে পরে সতর্কতা তুলে নেওয়া হয়েছে।

প্রাদেশিক স্বাস্থ্য সংস্থা রোববার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা ওয়েনরাইটে সরাসরি ৩০টি ইউনিট মোতায়েন করেছে। এর মধ্যে রয়েছে ২২টি অ্যাম্বুলেন্স, ছয়টি স্থির ডানাবিশিষ্ট বিমান এবং দুটি হেলিকপ্টার।

সংস্থাটি আরও জানায়, অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্তদের নিবিড় চিকিৎসার প্রয়োজন হতে পারে। এতে আলবার্টায় গুরুতর অসুস্থ রোগীদের চিকিৎসাসেবার ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

ঢাকা এক্সপ্রেস/এসএস

আরও পড়ুন