শিরোনাম
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ০৯:৩৮, ১৮ অক্টোবর ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কলকাতায় দুর্গাপূজার মণ্ডপে অতিরিক্ত ভিড়ের চাপে পদদলিত হয়ে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৯ জনে দাঁড়িয়েছে। নিহতদের মধ্যে ১৩ জন নারী ও একটি শিশু রয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ২৫ জন। তাদের মধ্যে আটজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) সন্ধ্যায় উত্তর কলকাতার গিরিশ পার্ক থানা এলাকার সারদা পার্কের (চোরবাগান) দুর্গাপূজার মণ্ডপের প্রবেশপথে এ দুর্ঘটনা ঘটে। বৃষ্টি উপেক্ষা করে বিপুলসংখ্যক মানুষ মণ্ডপে ভিড় করায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় বলে জানিয়েছে কলকাতা পুলিশ।
শনিবার সন্ধ্যায় দেওয়া এক বিবৃতিতে পুলিশ জানায়, স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৭টা ৪০ মিনিটের দিকে মণ্ডপের বের হওয়ার পথে পদদলিত হওয়ার ঘটনা ঘটে। আহত সবাইকে উদ্ধার করে মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।
উদ্ধারকাজে পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস, দুর্যোগ মোকাবিলা দল ও চিকিৎসক দল মোতায়েন করা হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে নিয়ন্ত্রণকক্ষ থেকেও অতিরিক্ত পুলিশ পাঠানো হয়। দুর্ঘটনার পর মণ্ডপটি দর্শনার্থীদের জন্য বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
এ ঘটনায় চোরবাগান দুর্গাপূজার আয়োজকদের কয়েকজনসহ ১২ জনকে আটক করেছে পুলিশ।
পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ও মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়াল হাসপাতালে গিয়ে আহতদের খোঁজখবর নেন। দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করা হবে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
এক ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, মণ্ডপে ভিড় যথাযথভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছিল কি না, তা সিসিটিভি ফুটেজ দেখে খতিয়ে দেখা হবে। আয়োজক কমিটি, পুলিশ, বেসরকারি নিরাপত্তাকর্মী কিংবা অন্য কেউ দায়ী হলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।
এ ছাড়া রাজ্যের বড় দুর্গাপূজার মণ্ডপগুলোতে নিরাপত্তাব্যবস্থা পর্যালোচনার জন্য একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠনের ঘোষণা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
দুর্ঘটনায় নিহত প্রত্যেকের পরিবারকে ২৫ লাখ রুপি আর্থিক সহায়তা দেওয়ার পাশাপাশি পরিবারের একজন সদস্যকে গ্রুপ ডি পদে সরকারি চাকরি দেওয়ার ঘোষণাও দিয়েছেন তিনি।
প্রত্যক্ষদর্শীদের একজন বার্তা সংস্থা এএনআইকে জানান, পদদলিত হওয়ার সময় অনেক মানুষ জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। আরেক প্রত্যক্ষদর্শী দুর্ঘটনার জন্য মণ্ডপের প্রবেশ ও বের হওয়ার পথ সরু হওয়াকে দায়ী করেছেন।
তিনি বলেন, প্রবেশপথটি খুব সরু ছিল। বের হওয়ার পথও সরু ছিল। ওই এলাকায় কোনো আলোর ব্যবস্থাও ছিল না। তার মেয়ে ও নাতনি হাসপাতালে ভর্তি।
দুর্ঘটনার পর মণ্ডপে দর্শনার্থীদের প্রবেশ বন্ধ করে দেন আয়োজকেরা। একই সঙ্গে মণ্ডপের আলোও নিভিয়ে দেওয়া হয়।
পূজার আয়োজক বিকাশ দাস বার্তা সংস্থা আইএএনএসকে বলেন, কীভাবে দুর্ঘটনাটি ঘটেছে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। এই মুহূর্তে তাদের মূল লক্ষ্য উদ্ধারকাজ পরিচালনা করা এবং আহতদের হাসপাতালে পাঠানো। ঘটনাস্থলে পুলিশ, রাজ্য ফায়ার সার্ভিস ও দুর্যোগ মোকাবিলা বিভাগের কর্মীরা কাজ করছেন।
ভিড়ের চাপে পদদলিত হয়েই হতাহতদের মৃত্যু হয়েছে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয় বলে জানান তিনি।
ঢাকা এক্সপ্রেস/এসএস