ঢাকা, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬

৩ কার্তিক ১৪৩৩, ০৬ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮

হলিউডে খলনায়ক হয়ে উঠছেন প্রযুক্তি দুনিয়ার একসময়ের নায়করা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ: ১৪:১৪, ১৮ অক্টোবর ২০২৬

হলিউডে খলনায়ক হয়ে উঠছেন প্রযুক্তি দুনিয়ার একসময়ের নায়করা

ছবি : সংগৃহীত

হলিউডের সিনেমায় এবার খলনায়ক হিসেবে উঠে আসছেন সিলিকন ভ্যালির একসময়ের আলোচিত প্রযুক্তি উদ্যোক্তারা। ইলন মাস্ক, মার্ক জাকারবার্গ ও স্যাম অল্টম্যানের মতো ব্যক্তিত্বের পাশাপাশি জীবপ্রযুক্তি খাতে প্রতারণার দায়ে দণ্ডিত এলিজাবেথ হোমসও চলচ্চিত্রের আলোচনায় উঠে এসেছেন।

উদ্ভাবনের প্রতিশ্রুতি দিয়ে একসময় বিশ্ববাসী ও বিনিয়োগকারীদের মুগ্ধ করা এসব ব্যক্তিত্ব এখন সংবাদ শিরোনামের পাশাপাশি চলচ্চিত্রেরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছেন।

বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, একসময় প্রযুক্তি উদ্যোক্তাদের অনুপ্রেরণাদায়ী ব্যক্তিত্ব হিসেবে দেখা হতো। তবে সময়ের সঙ্গে তাদের প্রতি মানুষের দৃষ্টিভঙ্গিতে পরিবর্তন এসেছে।

জনপ্রিয় সংস্কৃতিবিষয়ক ওয়েবসাইট দ্য এভি ক্লাবের চলচ্চিত্র সমালোচক মনিকা কাস্তিয়ো এএফপিকে বলেন, একসময় এসব উদ্যোক্তাকে অনুকরণীয় ব্যক্তিত্ব হিসেবে বিবেচনা করা হতো। নিজেদের উদ্যোগ ও পরিশ্রমে শত শত কোটি ডলারের কোম্পানি গড়ে তুলে বিশ্ব বদলে দেওয়ার নায়ক হিসেবে তাদের উপস্থাপন করা হতো।

তবে এখন তাদের কর্মকাণ্ড নিয়ে মানুষের মধ্যে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। প্রযুক্তি খাতের প্রভাবশালীদের ভূমিকা ও তাদের অর্জনের পেছনের বাস্তবতা নিয়ে বাড়ছে পর্যালোচনা।

একসময় সিলিকন ভ্যালিকে প্রগতিশীল চিন্তাধারার উদ্যোক্তা তৈরির কেন্দ্র হিসেবে বিবেচনা করা হতো। তাদের রাজনৈতিক চিন্তা ও উদ্ভাবনী প্রযুক্তিকে একই ধারার অংশ হিসেবে দেখা হতো। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে প্রযুক্তি খাতের বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তাঁর ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতির প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন।

প্রযুক্তি উদ্যোক্তাদের নিয়ে নির্মিত চলচ্চিত্র ও তথ্যচিত্রেও এসব পরিবর্তন উঠে আসছে। বিশ্বের শীর্ষ ধনী ইলন মাস্ককে নিয়ে নির্মাতা অ্যালেক্স গিবনির চার ঘণ্টার তথ্যচিত্র ‘মাস্ক’ ইতোমধ্যে আলোচনায় এসেছে। এতে দক্ষিণ আফ্রিকায় জন্ম নেওয়া স্পেসএক্স ও টেসলার প্রধানের কর্মজীবন, প্রযুক্তি উদ্যোক্তা হিসেবে তাঁর উত্থান এবং ট্রাম্প ও রিপাবলিকান পার্টির সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠতা তুলে ধরা হয়েছে।

অন্যদিকে প্রেক্ষাগৃহে চলছে অ্যারন সরকিনের চলচ্চিত্র ‘দ্য সোশ্যাল রেকনিং’। এটি তাঁর অস্কারজয়ী সিনেমা ‘দ্য সোশ্যাল নেটওয়ার্ক’-এর পরবর্তী কিস্তি।

এবার ফেসবুকের প্রতিষ্ঠাতা মার্ক জাকারবার্গের উত্থানের পরিবর্তে চলচ্চিত্রটির কেন্দ্রে রয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির অভ্যন্তরীণ তথ্য ফাঁসকারী ফ্রান্সেস হাউগেন। অস্কারজয়ী অভিনেত্রী মাইকি ম্যাডিসন এতে হাউগেনের চরিত্রে অভিনয় করেছেন।

ফেসবুকের বিভিন্ন বিতর্কিত কর্মকাণ্ড কীভাবে হাউগেন প্রকাশ্যে এনেছিলেন, তা সিনেমাটির মূল বিষয়। এর মধ্যে রয়েছে এমন অ্যালগরিদমের ব্যবহার, যা ব্যবহারকারীদের দীর্ঘ সময় প্ল্যাটফর্মে ধরে রাখতে বিদ্বেষমূলক বক্তব্যের বিস্তার বাড়িয়ে দিতে পারে। এর ফলে সৃষ্ট গুরুতর সামাজিক প্রভাবও চলচ্চিত্রটিতে তুলে ধরা হয়েছে।

এসব চলচ্চিত্রে প্রযুক্তি উদ্যোক্তাদের বিপুল ক্ষমতা, সামাজিক প্রভাব এবং যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি নীতিনির্ধারণে তাদের ভূমিকার বিষয়গুলো গুরুত্ব পেয়েছে। তাদের কর্মকাণ্ডের প্রভাব যুক্তরাষ্ট্রের সীমানা ছাড়িয়ে বিশ্বজুড়েও ছড়িয়ে পড়েছে।

ঢাকা এক্সপ্রেস/এসআই

আরও পড়ুন