ঢাকা, শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬

৭ কার্তিক ১৪৩৩, ১১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮

ইরান সীমান্তের কাছে গিয়ে ফিরে এল ইসরাইলের ডজনখানেক যুদ্ধবিমান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ: ১৬:৪৫, ২২ অক্টোবর ২০২৬

ইরান সীমান্তের কাছে গিয়ে ফিরে এল ইসরাইলের ডজনখানেক যুদ্ধবিমান

ফাইল ছবি

মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা বাড়ার মধ্যে ইরানের সীমান্তের কাছাকাছি গিয়ে ফিরে এসেছে ইসরাইলের ডজনখানেক যুদ্ধবিমান। গত সোমবার পরিচালিত এ অভিযানে যুদ্ধবিমানের পাশাপাশি আকাশে জ্বালানি সরবরাহকারী বিমানও অংশ নেয়। ইসরাইলি ও মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইসরাইল থেকে ৮০০ মাইলেরও বেশি দূরে পরিচালিত এ অভিযানের লক্ষ্য ছিল ইরানকে সামরিক শক্তির বার্তা দেওয়া। তবে অভিযানটি মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের ইসরাইল সফরের সঙ্গে সম্পর্কিত ছিল না বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা। সোমবার ইসরাইলের ওভদা বিমানঘাঁটিতে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠক করেন হেগসেথ।

ইসরাইলি যুদ্ধবিমানগুলো সিরিয়া ও ইরাকের আকাশসীমা অতিক্রম করে ইরানের সীমান্তের দিকে অগ্রসর হয়। তাদের উড্ডয়নপথ ইরানে সম্ভাব্য সামরিক হামলার জন্য ব্যবহৃত পথের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল। তবে সীমান্তের কাছে পৌঁছে বিমানগুলো দিক পরিবর্তন করে ইসরাইলে ফিরে আসে।

ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকজন কর্মকর্তা অভিযানটিকে নিয়মিত সামরিক মহড়া হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তাদের ভাষ্য, এর মাধ্যমে ইরানকে সতর্ক করার পাশাপাশি ইসরাইলের সামরিক সক্ষমতা প্রদর্শন করা হয়েছে। তবে এ ধরনের তৎপরতা ভুল বোঝাবুঝি তৈরি করে বৃহত্তর সংঘাতের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

ইরানে নতুন করে হামলার সম্ভাবনা নিয়ে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ পর্যায়ে আলোচনার খবরের মধ্যেই এ অভিযান চালানো হয়। ফলে এর উদ্দেশ্য নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে।

অভিযানটি সম্পর্কে যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকজন কর্মকর্তার মধ্যে সন্দেহও তৈরি হয়েছে। তাদের ধারণা, ইসরাইল জানত যে ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা তাদের যুদ্ধবিমানগুলোর গতিবিধি শনাক্ত করতে পারবে।

সূত্রগুলোর দাবি, অভিযান শুরুর আগেই ইসরাইল যুক্তরাষ্ট্রকে এ বিষয়ে জানিয়েছিল। ইসরাইল এটিকে প্রশিক্ষণ মহড়া হিসেবে উল্লেখ করে জানায়, সামরিক শক্তি প্রদর্শনের মাধ্যমে নির্বাচনের আগে ইরানকে ইসরাইলে হামলা চালানো থেকে বিরত রাখাই এর উদ্দেশ্য ছিল।

তবে কয়েকজন মার্কিন কর্মকর্তার ধারণা, ইসরাইল হয়তো চেয়েছিল ইরান যুদ্ধবিমানগুলোকে লক্ষ্য করে হামলা চালাক। এমন পরিস্থিতি তৈরি হলে ইরানের বিরুদ্ধে পাল্টা হামলা চালানোর যুক্তি তৈরি হতে পারত।

এদিকে, ইরান যদি যুদ্ধবিমানগুলোর উপস্থিতিকে আসন্ন হামলার প্রস্তুতি হিসেবে বিবেচনা করে পাল্টা পদক্ষেপ নিত, তাহলে পরিস্থিতি নতুন করে সরাসরি সংঘাতের দিকে এগিয়ে যেতে পারত।

ঢাকা এক্সপ্রেস/এসআই

আরও পড়ুন