ঢাকা, শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬

৭ কার্তিক ১৪৩৩, ১১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮

সাজেকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সশস্ত্র গোষ্ঠীর গোলাগুলি, আহত কয়েকজন

রাঙামাটি প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৫:৫৮, ২২ অক্টোবর ২০২৬ | আপডেট: ১৬:০০, ২২ অক্টোবর ২০২৬

সাজেকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সশস্ত্র গোষ্ঠীর গোলাগুলি, আহত কয়েকজন

ছবি: ঢাকা এক্সপ্রেস

রাঙামাটির সাজেকের উজোবাজার এলাকায় নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সশস্ত্র ব্যক্তিদের গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। এতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কয়েকজন সদস্য আহত হয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। তবে এ তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সকাল ১১টার দিকে সাজেক সড়কে অবরোধ চলাকালে এ ঘটনা ঘটে। অবরোধের কারণে আটকে পড়া পর্যটকদের খাগড়াছড়িতে নেওয়ার জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ব্যারিকেড সরানোর চেষ্টা করলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। প্রথমে অবরোধকারীরা ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন। পরে পরিস্থিতি গোলাগুলিতে রূপ নেয়।

শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত পর্যটকেরা নিরাপদে দীঘিনালা এলাকার কাছাকাছি পৌঁছেছেন বলে জানা গেছে।

সাজেকের উজোবাজারে অবস্থানরত বাঘাইছড়ি উপজেলা প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন জানান, সকালে প্রায় তিন হাজার পর্যটককে বহনকারী গাড়ির বহর উজোবাজারে আন্দোলনকারীদের দেওয়া ব্যারিকেডের সামনে আটকে পড়ে।

তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা আন্দোলনকারীদের সরে যেতে বারবার অনুরোধ করেন। তবে তারা অবরোধ প্রত্যাহার করেননি। একপর্যায়ে পর্যটকদের গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি ছোড়া হলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অবরোধকারীদের সরিয়ে পর্যটকদের নিরাপদে নিয়ে যায়।

আনোয়ার হোসেন আরও জানান, পর্যটকেরা উজোবাজার এলাকা ত্যাগ করার পর সশস্ত্র ব্যক্তিদের সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনীর গোলাগুলি শুরু হয়।

তিন দফা দাবিতে তৃতীয়বারের মতো রাঙামাটির বাঘাইছড়ি-সাজেক সড়কে অনির্দিষ্টকালের অবরোধের ডাক দিয়েছে সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশন ও সাজেক গণ অধিকার রক্ষা কমিটি। নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে সাজেকে পর্যটক প্রবেশ সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করেছে জেলা প্রশাসন।

বৃহস্পতিবার সকাল থেকে সাজেকের বাঘাইহাটের শুকনাছড়াসহ সড়কের বিভিন্ন স্থানে টায়ার জ্বালিয়ে ও স্লোগান দিয়ে অবরোধের সমর্থনে পিকেটিং করেন আন্দোলনকারীরা।

স্থানীয়দের ভাষ্য, আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে আঞ্চলিক দুই রাজনৈতিক সংগঠনের বিরোধের জেরে সাজেক গণ অধিকার রক্ষা কমিটি ও কার্বারি অ্যাসোসিয়েশন সড়ক অবরোধের কর্মসূচি দিয়েছে।

এদিকে, জনসংহতি সমিতির (জেএসএস) কেন্দ্রীয় তথ্য ও প্রচার সম্পাদক সজীব চাকমা অভিযোগ করেছেন, এসব ইউপিডিএফের ষড়যন্ত্রমূলক অপপ্রচার। তাঁর দাবি, সাজেকে ইউপিডিএফের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড এবং জনগণের ওপর শোষণ-পীড়ন থেকে দৃষ্টি সরাতে এ ধরনের কর্মকাণ্ড চালানো হচ্ছে।

ঘটনার বিষয়ে জানতে রাঙামাটি জেলা পুলিশ ও সাজেক থানায় একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মতে, অনিবন্ধিত, চোরাই ও ক্লোন হ্যান্ডসেট মোবাইল ফোন চুরি, সংঘবদ্ধ অপরাধ এবং আর্থিক জালিয়াতিতে ব্যবহৃত হচ্ছে। তাই নেটওয়ার্কে ব্যবহৃত প্রতিটি যন্ত্রের পরিচয় নিশ্চিত করতে এনইআইআর পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করা প্রয়োজন।

এদিকে, ২০২৯ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে দ্বিতীয় প্রজন্মের (২জি) নেটওয়ার্ক-সমর্থিত মোবাইল ফোনের ব্যবহার বন্ধের একটি পর্যায়ক্রমিক পরিকল্পনাও অনুমোদন করেছে বিটিআরসি। এ পরিকল্পনার আওতায় এসব ফোনের অনুমোদন, উৎপাদন, আমদানি ও বাজারজাতকরণে বিধিনিষেধ আরোপ করা হবে।

ঢাকা এক্সপ্রেস/এসআই

আরও পড়ুন