শিরোনাম
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৪:৫৮, ২২ অক্টোবর ২০২৬
ফাইল ছবি
অবৈধ মোবাইল ফোনের আমদানি ও বিক্রির মাধ্যমে বছরে প্রায় ২ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকি রোধে জাতীয় যন্ত্রপাতি শনাক্তকরণ নিবন্ধন ব্যবস্থা (এনইআইআর) পুনরায় চালুর উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে দুই ধাপে এ ব্যবস্থা চালু করা হবে।
বিটিআরসির কমিশন সভায় উপস্থাপিত কার্যপত্রে বলা হয়েছে, এনইআইআরের মাধ্যমে অবৈধভাবে আমদানি করা, চোরাচালানের মাধ্যমে দেশে প্রবেশ করা এবং শুল্ক-কর ফাঁকি দিয়ে বাজারজাত করা মোবাইল ফোন শনাক্ত করা হবে। পাশাপাশি ক্লোন হ্যান্ডসেট শনাক্ত ও মোবাইল আর্থিক সেবায় (এমএফএস) জালিয়াতি প্রতিরোধের লক্ষ্য রয়েছে।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) মূল্যায়ন অনুযায়ী, অবৈধ মোবাইল ফোনের কারণে সরকার বছরে প্রায় ২ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব হারাচ্ছে।
পরিকল্পনার প্রথম ধাপে এনইআইআরের মূল কার্যক্রম চালু করা হবে। বর্তমানে মোবাইল অপারেটরদের নেটওয়ার্কে সচল থাকা হ্যান্ডসেটগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিবন্ধিত হবে। অনুমোদিত আমদানিকারক ও দেশীয় উৎপাদকদের অবিক্রীত ফোনের আইএমইআই নম্বরও ব্যবস্থাটিতে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। তবে এ পর্যায়ে হ্যান্ডসেটের নিবন্ধন বাতিলের ব্যবস্থা চালু হবে না।
দ্বিতীয় ধাপে উপযুক্ত সময়ে নিবন্ধন বাতিলের কার্যক্রম চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে ফোনের মালিকানা যাচাই, ক্লোন হ্যান্ডসেট শনাক্ত এবং আর্থিক জালিয়াতি প্রতিরোধ করা হবে।
বিটিআরসির স্পেকট্রাম ম্যানেজমেন্ট বিভাগ এ পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করবে। দুই ধাপে ব্যবস্থা চালুর বিষয়ে সরকারের অনুমোদন চেয়ে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগে চিঠি পাঠানো হবে।
এর আগে ২০২১ সালের ১ জুলাই পরীক্ষামূলকভাবে এনইআইআর চালু করা হয়েছিল। তবে তৎকালীন সরকারের সিদ্ধান্তে অবৈধভাবে আমদানি করা ফোন বন্ধ করা এবং ক্লোন হ্যান্ডসেট প্রতিরোধের গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম চালু হয়নি। ফলে ব্যবস্থাটির মূল উদ্দেশ্য পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি বলে বিটিআরসির কার্যপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।
অবৈধ হ্যান্ডসেটের মাধ্যমে রাজস্ব ফাঁকি বন্ধে ২০২৪ সালের ২৯ অক্টোবর এনবিআর বিটিআরসিকে আনুষ্ঠানিকভাবে ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানায়। পরে ২০২৫ সালের ২৮ জুন ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ এনইআইআর পুনরায় চালুর পরিকল্পনায় প্রাথমিক অনুমোদন দেয়।
২০২৫ সালের ১ ডিসেম্বরের উচ্চপর্যায়ের আন্তমন্ত্রণালয় সভায় দেশের সব নেটওয়ার্কে ব্যবস্থা পূর্ণাঙ্গভাবে চালুর নির্দেশনা দেওয়া হয়। ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি এটি চালুর প্রস্তুতি থাকলেও জনভোগান্তি এড়াতে ফোন বন্ধ করার কার্যক্রম কার্যকর করা হয়নি।
চলতি বছরের ৯ জুন নিরাপত্তা সংস্থাগুলো অর্থনৈতিক ও জাতীয় নিরাপত্তাঝুঁকির কথা উল্লেখ করে এনইআইআর পূর্ণাঙ্গভাবে চালুর প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে। পরে ২ জুলাইয়ের আন্তমন্ত্রণালয় সভায়ও এ বিষয়ে সুপারিশ করা হয়। সর্বশেষ ২২ সেপ্টেম্বর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উচ্চপর্যায়ের সভায় ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে দুই ধাপে ব্যবস্থা চালুর সুপারিশ করা হয়।
সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মতে, অনিবন্ধিত, চোরাই ও ক্লোন হ্যান্ডসেট মোবাইল ফোন চুরি, সংঘবদ্ধ অপরাধ এবং আর্থিক জালিয়াতিতে ব্যবহৃত হচ্ছে। তাই নেটওয়ার্কে ব্যবহৃত প্রতিটি যন্ত্রের পরিচয় নিশ্চিত করতে এনইআইআর পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করা প্রয়োজন।
এদিকে, ২০২৯ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে দ্বিতীয় প্রজন্মের (২জি) নেটওয়ার্ক-সমর্থিত মোবাইল ফোনের ব্যবহার বন্ধের একটি পর্যায়ক্রমিক পরিকল্পনাও অনুমোদন করেছে বিটিআরসি। এ পরিকল্পনার আওতায় এসব ফোনের অনুমোদন, উৎপাদন, আমদানি ও বাজারজাতকরণে বিধিনিষেধ আরোপ করা হবে।
ঢাকা এক্সপ্রেস/এসআই