ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬

৭ কার্তিক ১৪৩৩, ১০ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮

প্রধানমন্ত্রীকে ঘিরে উৎসবমুখর পরিবেশ, নৌপথে গেলেন মোংলায়

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১২:৩৯, ২২ অক্টোবর ২০২৬

প্রধানমন্ত্রীকে ঘিরে উৎসবমুখর পরিবেশ, নৌপথে গেলেন মোংলায়

ছবি: ঢাকা এক্সপ্রেস

খুলনার দাকোপ উপজেলার দুর্গম উপকূলীয় জনপদ নলিয়ানে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সকাল ১০টা ২৮ মিনিটে হেলিকপ্টারে নলিয়ান মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে অবতরণ করেন তিনি। পরে পায়ে হেঁটে নলিয়ান কোস্টগার্ডের পন্টুনে যান।

সকাল ১০টা ৪৮ মিনিটে পন্টুন থেকে নৌপথে মোংলার উদ্দেশে রওনা হন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় নলিয়ান বাজার মোড়ে অপেক্ষমাণ শত শত মানুষের সঙ্গে হাত নেড়ে শুভেচ্ছা বিনিময় ও করমর্দন করেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীকে একনজর দেখতে সকাল থেকেই সেখানে ভিড় করেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে রয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, বাণিজ্যমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, খুলনা-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও হুইপ রকিবুল ইসলাম বকুল এবং খুলনা-১ আসনের সংসদ সদস্য আমির এজাজ খান। এ ছাড়া খুলনা বিভাগীয় কমিশনার মো. আবদুল্লাহ হারুন, জেলা প্রশাসক মিজ হুরে জান্নাতসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা তাঁর সঙ্গে রয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই নলিয়ানে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করে। নদীভাঙন, সুপেয় পানির সংকট, দুর্বল যোগাযোগব্যবস্থা ও অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতায় ভুগতে থাকা এ অঞ্চলের মানুষের মধ্যে সফরটি ঘিরে নতুন প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে।

সফর উপলক্ষে নলিয়ান মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠ ও আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। পুলিশ, প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্ট (পিজিআর), নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ডসহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সতর্ক অবস্থানে ছিলেন। প্রধানমন্ত্রীর অবতরণের স্থানেও ডগ স্কোয়াড দিয়ে তল্লাশি চালানো হয়।

এদিকে সফরকে কেন্দ্র করে নলিয়ান বাজারের পশ্চিম প্রান্তের পাকা সড়ক থেকে কোস্টগার্ড কার্যালয় পর্যন্ত প্রায় এক কিলোমিটার সড়কে ইট বিছিয়েছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)। একই সঙ্গে নলিয়ান মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে হেলিপ্যাড প্রস্তুত করা হয়।

সফরসূচি অনুযায়ী, সকালে সুন্দরবনের হিরণ পয়েন্ট ও সংলগ্ন এলাকা পরিদর্শন শেষে নলিয়ানে অবতরণ করেন প্রধানমন্ত্রী। সেখান থেকে নৌপথে মোংলার নৌঘাঁটিতে যাওয়ার পর সভায় অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে তাঁর। এ ছাড়া মোংলা বন্দরের জেটি এবং বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) প্রস্তাবিত অর্থনৈতিক অঞ্চল পরিদর্শনের কর্মসূচিও রয়েছে।

সুন্দরবন এলাকায় সম্ভাব্য ভাসমান তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) টার্মিনাল স্থাপনের স্থান পরিদর্শন নিয়েও আলোচনা রয়েছে। মোংলা বন্দর সম্প্রসারণ, অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা ও এলএনজি টার্মিনাল ঘিরে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মধ্যে বিনিয়োগ এবং কর্মসংস্থান বাড়ার প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। তাঁদের আশা, এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দক্ষিণাঞ্চলের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড আরও গতিশীল হবে।

ঢাকা এক্সপ্রেস/এসআই

আরও পড়ুন