শিরোনাম
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ০৮:২৭, ২৮ অক্টোবর ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নির্বাচনের বুথফেরত জরিপে (এক্সিট পোল) প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর জোট এবং ইয়াশার দলের প্রধান গাদি আইজেনকোটের নেতৃত্বাধীন প্রধান বিরোধী জোটের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস পাওয়া গেছে।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) অনুষ্ঠিত নির্বাচন নিয়ে ইসরায়েলের প্রধান সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম ‘কান ১১’ এবং টেলিভিশন ‘চ্যানেল ১৩’-এর সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, নেতানিয়াহুর ডানপন্থী জোট ও আইজেনকোটের বিরোধী জোট উভয়ই ৫১টি করে আসন পেতে পারে।
১২০ আসনের পার্লামেন্টে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ৬১ আসনের সংখ্যাগরিষ্ঠতা কোনো পক্ষই নিশ্চিত করতে পারছে না।
জরিপ অনুযায়ী, গাদি আইজেনকোটের নেতৃত্বাধীন জোট ও নেতানিয়াহুর শিবিরের মধ্যে আসনসংখ্যায় ব্যবধান না থাকলেও আরব দলগুলো সম্মিলিতভাবে ১৮টি আসন পেতে পারে। চার বছর আগের নির্বাচনের তুলনায় তাদের এই ফল ভালো হওয়ার আভাস দিচ্ছে বুথফেরত জরিপ।
দেশটির কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটির তথ্য অনুযায়ী, এবারের নির্বাচনে ভোট পড়েছে ৭৭ দশমিক ৭ শতাংশ। প্রায় ৩০ বছরের মধ্যে এটি সর্বোচ্চ ভোটার উপস্থিতি।
এদিকে আরব নেতৃত্বাধীন দলগুলোর রাজনীতিকেরা অভিযোগ করেছেন, নির্বাচনে সুবিধা পেতে নেতানিয়াহু দেশটির ফিলিস্তিনি নাগরিকদের বিরুদ্ধে ঘৃণা উসকে দিয়েছেন।
বুথফেরত জরিপের ফল অনুযায়ী, কোনো পক্ষ এককভাবে সরকার গঠনের মতো সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ায় সরকার গঠনের সমীকরণ জটিল হতে পারে। তবে জরিপের এই পূর্বাভাসই চূড়ান্ত ফল নয়।
সরকার গঠন নিয়ে অনিশ্চয়তা
নির্বাচনে কোনো পক্ষই এককভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার মতো অবস্থানে নেই। ফলে আগামী দিন ও সপ্তাহগুলোতে সরকার গঠন নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে দর-কষাকষি হতে পারে।
নেতানিয়াহু ও আইজেনকোট—উভয় নেতাই সরকার গঠনের প্রথম সুযোগ পেতে প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগের কাছে যেতে পারেন। নেতানিয়াহু একক বৃহত্তম দলের নেতা হিসেবে এবং আইজেনকোট বৃহত্তর জোটের নেতা হিসেবে নিজেদের দাবি তুলে ধরতে পারেন।
কোনো পক্ষই ৬১টি আসনের সমর্থন নিশ্চিত করতে না পারলে দেশটিতে আবারও নির্বাচন হতে পারে। এমন পরিস্থিতি তৈরি হলে ২০১৯ থেকে ২০২২ সালের রাজনৈতিক অস্থিরতার পুনরাবৃত্তি ঘটতে পারে। ওই সময়ে ইসরায়েলে পাঁচবার সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল।
নতুন সরকার গঠিত না হওয়া পর্যন্ত নেতানিয়াহু তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
এদিকে ইসরায়েলের কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটি আনুষ্ঠানিকভাবে ভোট গণনা শুরু করেছে। বুথফেরত জরিপের সঙ্গে চূড়ান্ত ফলাফলের পার্থক্য থাকতে পারে।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের নেতৃত্বে ইসরায়েলে হামলার পর এটিই দেশটির প্রথম পার্লামেন্ট নির্বাচন। নির্বাচনী প্রচারে নিরাপত্তা ও দেশটির ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক নেতৃত্বসহ বিভিন্ন বিষয় গুরুত্ব পেয়েছে।
ঢাকা এক্সপ্রেস/এসএস