শিরোনাম
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৭:৪২, ১২ আগস্ট ২০২৬ | আপডেট: ১৭:৪৬, ১২ আগস্ট ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
দেশের পিছিয়ে পড়া বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর অনেক মানুষ জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) না থাকায় সরকারের বিভিন্ন সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। আজ বুধবার এসডিজিবিষয়ক এক সম্মেলনে এ চিত্র উঠে এসেছে।
অনুষ্ঠানে বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিরা নিজেদের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন। মিরপুর মাজার রোড এলাকার ভ্যানচালক মো. ওয়াসিম বলেন, সেখানে অনেক ছিন্নমূল মানুষের এনআইডি নেই।
তৃতীয় লিঙ্গের জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধি রামিসা চৌধুরী বলেন, এই জনগোষ্ঠীর মানুষের এনআইডি করতে নানা সমস্যার মুখে পড়তে হয়। তরুণ সমাজের প্রতিনিধি সোহানুর রহমান অভিযোগ করেন, বরিশালের মান্তা সম্প্রদায়ের মানুষও এনআইডি পাচ্ছেন না।
বাংলাদেশ পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগ (জিইডি) ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের গভর্ন্যান্স ইনোভেশন ইউনিটের (জিআইইউ) যৌথ উদ্যোগে এসডিজিবিষয়ক এ সম্মেলন আয়োজন করা হয়েছে। এর সঙ্গে যুক্ত রয়েছে নাগরিক প্ল্যাটফর্ম।
তিন দিনের আয়োজনের শেষ দিনে রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে ‘অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন, সংস্কার ও উন্নয়নে পঞ্চবার্ষিক কৌশলগত কাঠামো ও এসডিজি’ শীর্ষক অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো ও নাগরিক প্ল্যাটফর্মের আহ্বায়ক দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য। প্রধান অতিথি ছিলেন সমাজকল্যাণমন্ত্রী আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন।
এনআইডি না থাকায় প্রান্তিক মানুষ সরকারি বিভিন্ন সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বলে অভিযোগ করেন বক্তারা। দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের প্রথম পদক্ষেপ হলো এনআইডি।
সংসদ সদস্য সেলিমা রহমান বলেন, মূলত জন্মনিবন্ধন না থাকায় এনআইডি নিয়ে এমন জটিলতা তৈরি হয়। সমস্যা সমাধানে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি আশ্বাস দেন।
সমাজকল্যাণমন্ত্রী বলেন, এসডিজি বাস্তবায়নে বাংলাদেশের অবস্থান এখন ১১০তম। হাতে পাঁচ বছরেরও কম সময় রয়েছে। তাই দ্রুতগতিতে এগোতে হবে। সরকার সবার জন্য বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় কাজ করছে।
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন বলেন, আর্থিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে। ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড বাস্তবায়িত হচ্ছে।
দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, শুধু প্রবৃদ্ধির হার দেখলে হবে না। এর কাঠামো ও গুণগত মানও বিবেচনায় নিতে হবে। সম্প্রতি দারিদ্র্য বিমোচনের গতি কমেছে এবং বৈষম্য বেড়েছে। প্রতি তিনজন শিক্ষিত মানুষের মধ্যে একজন বেকার।
তিনি সবাইকে অন্তর্ভুক্ত করে নীতি প্রণয়নের পরামর্শ দেন। অনুষ্ঠানে উন্মুক্ত আলোচনায় বিভিন্ন শ্রেণির প্রান্তিক মানুষ নিজেদের সমস্যার কথা তুলে ধরেন।
ঢাকা এক্সপ্রেস/এসআই