ঢাকা, শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬

২৩ আশ্বিন ১৪৩৩, ২৬ রবিউস সানি ১৪৪৮

১৫ বছরের জন্য এনসিটি পরিচালনায় ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চুক্তি

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১৬:৪৪, ৮ অক্টোবর ২০২৬

১৫ বছরের জন্য এনসিটি পরিচালনায় ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চুক্তি

ছবি : সংগৃহীত

চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) পরিচালনায় সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চুক্তি করেছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে ইনভেস্ট বাংলাদেশ-বিডা কার্যালয়ে চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠান হয়। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মনিরুজ্জামান ও ডিপি ওয়ার্ল্ডের চেয়ারম্যান এইচ ই ইসা কারিম নিজ নিজ পক্ষে চুক্তিতে সই করেন।

চুক্তি অনুযায়ী, ১৫ বছরের জন্য এনসিটি পরিচালনার দায়িত্ব পাবে ডিপি ওয়ার্ল্ড। আন্তর্জাতিক বন্দর পরিচালনার ‘ল্যান্ডলর্ড মডেল’ অনুসরণ করে টার্মিনালটি পরিচালিত হবে।

এই ব্যবস্থায় এনসিটির মালিকানা ও নিয়ন্ত্রণ চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের কাছেই থাকবে। ডিপি ওয়ার্ল্ড নির্দিষ্ট মেয়াদে শুধু পরিচালনার দায়িত্ব পালন করবে।

চুক্তির মেয়াদে টার্মিনালে প্রায় ১৫ কোটি ডলার বিনিয়োগ করবে ডিপি ওয়ার্ল্ড। অগ্রিম অর্থ প্রদান, টার্মিনাল আধুনিকায়ন, যন্ত্রপাতি হালনাগাদ ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়াতে এ অর্থ ব্যয় হবে। এর একটি উল্লেখযোগ্য অংশ প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ হিসেবে আসবে।

এনসিটির পরিচালনা, যন্ত্রপাতির রক্ষণাবেক্ষণ ও মেরামতের দায়িত্বও থাকবে ডিপি ওয়ার্ল্ডের ওপর। কনসেশনের মেয়াদে এসব খাতে সরকার বা বন্দর কর্তৃপক্ষকে কোনো অর্থ ব্যয় করতে হবে না।

চুক্তিতে রাজস্ব ভাগাভাগির ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। প্রতি টিইইউ কনটেইনার থেকে রাজস্বের একটি অংশ পাবে বন্দর কর্তৃপক্ষ। টার্মিনালের গড় আয় বাড়ার সঙ্গে বন্দর কর্তৃপক্ষের রাজস্বের অংশও বাড়বে। প্রতি টিইইউ থেকে ৪০ থেকে ৬৭ শতাংশ পর্যন্ত রয়্যালটি বা রাজস্বের অংশ পাবে বন্দর কর্তৃপক্ষ।

এনসিটিতে বর্তমানে কর্মরত কোনো কর্মীকে ছাঁটাই করা হবে না। পর্যায়ক্রমে তাদের পিপিপি কাঠামোর নতুন ব্যবস্থায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে। তাদের বেতন-ভাতাও কমবে না বলে জানানো হয়েছে।

ডিপি ওয়ার্ল্ড টার্মিনালে আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা, সুরক্ষা ও পরিবেশগত মানদণ্ড বাস্তবায়ন করবে। প্রতিষ্ঠানটির ৬০টির বেশি বন্দরের টার্মিনাল পরিচালনার অভিজ্ঞতা রয়েছে।

আধুনিক প্রযুক্তি ও উন্নত ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে এনসিটির কার্যক্রমে গতি আনার পরিকল্পনা রয়েছে। ধীরে ধীরে ট্রাকের টার্নঅ্যারাউন্ড সময় ৯০ মিনিটে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। কাগজবিহীন কার্যক্রম ও অটোমেশনের মাধ্যমে আমদানি-রপ্তানি প্রক্রিয়াও সহজ করার কথা বলা হয়েছে।

কনসেশনের মেয়াদ শেষে এনসিটি চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হবে। একই সঙ্গে প্রযুক্তি ও কারিগরি জ্ঞান হস্তান্তরের মাধ্যমে স্থানীয় কর্মীদের দক্ষতা বাড়ানো হবে।

চট্টগ্রাম বন্দরের চারটি প্রধান কনটেইনার টার্মিনালের মধ্যে এনসিটি সবচেয়ে বড়। গত অর্থবছরে এ টার্মিনাল দিয়ে প্রায় ১৩ লাখ ৮৫ হাজার একক কনটেইনার ওঠানামা করেছে। এটি বন্দরের মোট কনটেইনার পরিবহনের প্রায় ৪৪ শতাংশ।

এর আগে গত ১ অক্টোবর এনসিটি ১৫ বছরের জন্য বিদেশি অপারেটরের মাধ্যমে পরিচালনার লক্ষ্যে রেয়াতি চুক্তির খসড়া নীতিগতভাবে অনুমোদন করা হয়।

শ্রমিক সংগঠনসহ বিভিন্ন পক্ষের আপত্তির মধ্যেই চুক্তিটি সই হলো। আশপাশের দেশগুলোর তুলনায় চট্টগ্রাম বন্দরে আমদানি-রপ্তানিতে বেশি সময় লাগায় অর্থনীতিতে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। বন্দরের কার্যক্রমে গতি আনতেই এনসিটি বিদেশি অপারেটরের মাধ্যমে পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

ঢাকা এক্সপ্রেস/এসআই

আরও পড়ুন