শিরোনাম
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৭:৫৩, ৬ অক্টোবর ২০২৬
ফাইল ছবি
যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের পাশাপাশি এশিয়ার বড় বাজারগুলোতেও বাংলাদেশের পণ্য রপ্তানি বাড়ছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে চীন, ভারত ও দক্ষিণ কোরিয়ায় রপ্তানি প্রবৃদ্ধি হয়েছে।
রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্য অনুযায়ী, জুলাই-সেপ্টেম্বরে চীনে রপ্তানি ৯ দশমিক ৩৩ শতাংশ বেড়ে ২২ কোটি ৫৪ লাখ ১০ হাজার ডলারে দাঁড়িয়েছে। গত বছরের একই সময়ে রপ্তানি ছিল ২০ কোটি ৬১ লাখ ৮০ হাজার ডলার।
দক্ষিণ কোরিয়ায় রপ্তানি ৭ দশমিক ২৯ শতাংশ বেড়ে ১৩ কোটি ৪৫ লাখ ৫০ হাজার ডলারে পৌঁছেছে। গত বছরের একই সময়ে দেশটিতে রপ্তানি হয়েছিল ১২ কোটি ৫৪ লাখ ১০ হাজার ডলারের পণ্য।
ভারতে রপ্তানি বেড়েছে ৫ দশমিক ৪৪ শতাংশ। প্রথম প্রান্তিকে দেশটিতে রপ্তানি হয়েছে ৫১ কোটি ডলারের পণ্য। গত বছরের একই সময়ে এর পরিমাণ ছিল ৪৮ কোটি ৩৭ লাখ ১০ হাজার ডলার।
জাপানেও রপ্তানি কিছুটা বেড়েছে। এ সময়ে দেশটিতে ৩৯ কোটি ৯১ লাখ ১০ হাজার ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়েছে। গত বছরের একই সময়ে রপ্তানি ছিল ৩৯ কোটি ৬১ লাখ ১০ হাজার ডলার।
এশিয়ার বাজারে প্রবৃদ্ধির পাশাপাশি দেশের মোট পণ্য রপ্তানিও বেড়েছে। জুলাই-সেপ্টেম্বরে মোট রপ্তানি আয় ৬ দশমিক ৩৪ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ৩০৯ কোটি ডলারে দাঁড়িয়েছে। গত বছরের একই সময়ে আয় ছিল ১ হাজার ২৩১ কোটি ডলার।
ইপিবির ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হাসান আরিফ বলেন, এশিয়ার বাজারে অবস্থান শক্তিশালী করতে পণ্যভিত্তিক রপ্তানি সক্ষমতা ও ক্রেতাদের চাহিদা বিবেচনায় নিতে হবে।
তিনি বলেন, চীনের বিশাল ভোক্তা বাজারে নতুন পণ্যের বাজার তৈরির সুযোগ রয়েছে। ভারতের সঙ্গে ভৌগোলিক নৈকট্যের কারণে আন্তঃসীমান্ত বাণিজ্য বাড়ানোরও সুযোগ আছে।
চীনের বাজারে পণ্য বহুমুখীকরণে ইপিবি গুরুত্ব দিচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, দেশটির বড় ভোক্তা বাজার ও বাড়তি চাহিদা বাংলাদেশের রপ্তানিকারকদের জন্য সম্ভাবনা তৈরি করছে।
দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানে তৈরি পোশাকের পাশাপাশি চামড়াজাত পণ্য, জুতা, পাটজাত পণ্য, গৃহসজ্জার বস্ত্র, ওষুধ ও প্রক্রিয়াজাত খাদ্য রপ্তানি বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে বলে জানান তিনি। জাপানে হালকা প্রকৌশল পণ্যেরও সম্ভাবনা রয়েছে।
তবে ভারতের বাজারে শুল্ক ও অশুল্ক বাধাকে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করেন হাসান আরিফ। এসব প্রতিবন্ধকতা দূর করতে কাজ চলছে বলে জানান তিনি।
তিনি বলেন, এশিয়ার বাজারে রপ্তানি বাড়াতে পণ্যের মান, সংশ্লিষ্ট দেশের বিধিবিধান মেনে চলা, সময়মতো সরবরাহ ও বাজারের চাহিদা সম্পর্কে ধারণা থাকা জরুরি।
রপ্তানি বাজার ও পণ্যের বহুমুখীকরণে ইপিবি মেলা, ব্যবসায়ী প্রতিনিধি দল, বাজার অনুসন্ধান ও প্রচারমূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে রপ্তানিকারকদের সহায়তা করছে বলেও জানান তিনি।
ঢাকা এক্সপ্রেস/এসআই