শিরোনাম
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৫:১৯, ৬ অক্টোবর ২০২৬
ছবি: ঢাকা এক্সপ্রেস
ধানমন্ডি লেকের খনন ও সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ শুরু হয়েছে। এ জন্য প্রাথমিকভাবে ২৬ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌ পরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।
ধানমন্ডি লেকের উন্নয়ন ও আধুনিকায়ন নিজের নির্বাচনী অঙ্গীকার ছিল বলেও জানান তিনি। মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) ধানমন্ডি লেকের খননকাজ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন মন্ত্রী।
শেখ রবিউল আলম বলেন, ধানমন্ডি লেক রাজধানীর পরিচিত ও ঐতিহ্যবাহী জলাধার। দীর্ঘদিন ধরে এর উন্নয়ন, সৌন্দর্যবর্ধন ও আধুনিকায়নের দাবি ছিল।
তিনি বলেন, নির্বাচনের সময় লেকটিকে আরও মনোরম ও আধুনিক করার অঙ্গীকার করেছিলেন। সেই কাজ শুরু হওয়ায় তিনি সন্তোষ প্রকাশ করেন।
মন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে ধানমন্ডি লেকের উন্নয়নের বিষয়ে অনুরোধ করা হয়েছিল। পরে প্রাথমিকভাবে ২৬ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়।
এই অর্থে প্রায় সাড়ে তিন কিলোমিটার দীর্ঘ লেকটির খনন ও সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ করা হবে। তলদেশে দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা স্লাজ অপসারণ করা হবে।
প্রতিদিন প্রায় ৭০০ ঘনমিটার স্লাজ অপসারণের সক্ষমতা থাকবে বলে জানান মন্ত্রী। এতে লেকের জলধারণ ক্ষমতা বাড়বে। একই সঙ্গে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ ও পরিবেশগত ভারসাম্য ফেরানোর সুযোগ তৈরি হবে।
শেখ রবিউল আলম বলেন, শুধু খনন ও সৌন্দর্যবর্ধন করলেই হবে না। লেকটিকে দীর্ঘমেয়াদে নগরবাসীর জন্য ব্যবহারযোগ্য ও আকর্ষণীয় করে তুলতে হবে।
এ জন্য লেকের চারপাশে হাঁটাচলা, বিনোদন ও শরীরচর্চার সুযোগসহ বিভিন্ন নাগরিক সুবিধা তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। লেক উন্নয়নে দুটি প্রকল্প নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
পরিকল্পনার আওতায় লাইব্রেরি, জিমনেসিয়াম ও নজরুল মঞ্চ নির্মাণের কথাও জানান মন্ত্রী। উন্নয়নকাজ শেষে লেকটি হাঁটাচলা, শরীরচর্চা, বিনোদন ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পরিণত হবে বলে আশা করেন তিনি।
মন্ত্রী বলেন, ধানমন্ডি লেককে ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ সবুজ ও উন্মুক্ত পরিসর হিসেবে সংরক্ষণ করা প্রয়োজন। উন্নয়নের পাশাপাশি এর পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্ব দিতে হবে।
তিনি বলেন, লেকের সৌন্দর্য ধরে রাখতে সরকারের পাশাপাশি এলাকাবাসীকেও দায়িত্ব নিতে হবে। পানি পরিষ্কার রাখতে স্থানীয় বাসিন্দা ও দর্শনার্থীদের লেকে ময়লা-আবর্জনা না ফেলার আহ্বান জানান তিনি।
শেখ রবিউল আলম বলেন, ধানমন্ডি লেকের উন্নয়ন শুধু স্থানীয় বাসিন্দাদের জন্য নয়, পুরো ঢাকার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। ঘনবসতিপূর্ণ রাজধানীতে জলাধার ও সবুজ পরিবেশ মানুষের স্বস্তি ও বিনোদনের সুযোগ তৈরি করে।
অনুষ্ঠানে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সালাম বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
ঢাকা এক্সপ্রেস/এসআই