ঢাকা, শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬

২৩ আশ্বিন ১৪৩৩, ২৬ রবিউস সানি ১৪৪৮

নেকাব নিয়ে মন্তব্য, ঢাবি শিক্ষকের সব ক্লাস স্থগিত

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১৯:০৭, ৮ অক্টোবর ২০২৬

নেকাব নিয়ে মন্তব্য, ঢাবি শিক্ষকের সব ক্লাস স্থগিত

ছবি : সংগৃহীত

নেকাব পরা এক ছাত্রীকে ‘মৌলবাদী’ ও ‘সন্ত্রাসী’ বলার অভিযোগ উঠেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক তাসনিম সিরাজ মাহবুবের বিরুদ্ধে। অভিযোগের পর ওই শিক্ষককে সব ধরনের ক্লাস থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বিভাগের জরুরি একাডেমিক কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

বিভাগীয় সূত্র জানায়, ওই শিক্ষকের কোর্সগুলো অন্য শিক্ষকদের মধ্যে পুনর্বণ্টন করা হয়েছে। একই সঙ্গে ঘটনাটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বুধবার (৭ অক্টোবর) ইংরেজি বিভাগের মাস্টার্সের একটি ক্লাসে নেকাব পরা এক ছাত্রীকে ওই শিক্ষক ‘ফান্ডামেন্টালিস্ট’ ও ‘সন্ত্রাসী’ বলে মন্তব্য করেন।

নেকাব পরা ওই ছাত্রী তাকে আক্রমণ করতে পারেন—এমন আশঙ্কার কথাও শিক্ষক বলেছেন বলে অভিযোগ শিক্ষার্থীদের। ঘটনার পর ওই ছাত্রী ক্লাস থেকে বের হয়ে যান। পরে অধিকাংশ শিক্ষার্থীও ক্লাস বর্জন করে প্রতিবাদ জানান। বিষয়টি বিভাগীয় চেয়ারম্যানকে জানানো হলে শিক্ষার্থীদের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে জরুরি একাডেমিক কমিটির সভা ডাকা হয়।

ইংরেজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. তাজিন আজিজ চৌধুরী বলেন, শিক্ষার্থীদের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে সভাটি অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় অভিযোগ ও সাম্প্রতিক ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে একটি রেজুলেশন নেওয়া হয়।

তিনি বলেন, রেজুলেশনের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকের কোর্সগুলো পুনর্বণ্টন করা হয়েছে। কোর্সগুলো অন্য শিক্ষকদের দেওয়া হয়েছে।

চেয়ারম্যান আরও বলেন, বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হচ্ছে। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার এখতিয়ার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের।

তার ভাষ্য, বিভাগীয় চেয়ারম্যান বা একাডেমিক কমিটির এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা নেই। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম অনুযায়ী উপাচার্য, একাডেমিক কাউন্সিল ও সিন্ডিকেট প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেবে।

ক্লাসে কী ঘটেছিল

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ক্লাসের শুরুতে ওই শিক্ষক শিক্ষার্থীদের আর্থিক অবস্থা ও পোশাক নিয়ে মন্তব্য করেন।

একপর্যায়ে নেকাব পরা এক ছাত্রীকে সামনে না বসে পেছনে বসতে বলেন তিনি। নেকাব পরা অবস্থায় ওই ছাত্রী তাকে অস্বস্তিতে ফেলছেন এবং মনোযোগে ব্যাঘাত ঘটাচ্ছেন বলেও মন্তব্য করেন শিক্ষক।

এ সময় ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী সুমি আক্তার এর প্রতিবাদ করেন। নেকাব ওই ছাত্রীর ধর্মীয় বিশ্বাস ও ব্যক্তিগত পছন্দের বিষয় বলে তিনি যুক্তি দেন।

এ নিয়ে শিক্ষকের সঙ্গে তার তর্ক হয় বলে জানান সুমি। তার ভাষ্য, একপর্যায়ে শিক্ষক তাকে প্রশ্ন করেন, নেকাব পরা ওই ছাত্রী ‘ফান্ডামেন্টালিস্ট’ বা ‘সন্ত্রাসী’ নন, সেটি তিনি কীভাবে নিশ্চিত করবেন।

নেকাব পরা কেউ শিক্ষককে আক্রমণ করতে পারেন বলেও মন্তব্য করা হয় বলে দাবি করেন সুমি।

ঘটনার প্রতিবাদে প্রথমে নেকাব পরা ওই ছাত্রী এবং পরে আরও কয়েকজন শিক্ষার্থী ক্লাস থেকে বেরিয়ে যান। এরপর অধিকাংশ শিক্ষার্থী ক্লাস বর্জন করেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিক্ষার্থীর অভিযোগ

ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে সুমি আক্তার বলেন, ঘটনাটি তাকে হতাশ করেছে।

তার অভিযোগ, নেকাব ও হিজাব নিয়ে ওই শিক্ষকের মন্তব্য এবং শিক্ষার্থীদের সঙ্গে তার আচরণ নিয়ে আগেও অস্বস্তি ছিল। তবে এতদিন তারা প্রকাশ্যে প্রতিবাদ করেননি।

সুমি বলেন, ইংরেজি বিভাগের অধিকাংশ শিক্ষক শিক্ষার্থীদের প্রতি আন্তরিক ও সহানুভূতিশীল। ধর্ম, পোশাক বা মতের কারণে সাধারণত কোনো শিক্ষার্থীকে বিব্রত করা হয় না।

একজন শিক্ষকের আচরণের দায় পুরো বিভাগের শিক্ষকদের ওপর দেওয়া উচিত নয় বলেও মনে করেন তিনি।

সুমি আরও অভিযোগ করেন, ওই শিক্ষক নিয়মিত ক্লাসের বড় একটি সময় একাডেমিক বিষয়ের বাইরে বিভিন্ন আলোচনা করেন। এ সময় নিজের অবস্থান ও মতামতকে প্রাধান্য দেন বলেও দাবি করেন তিনি।

শিক্ষার্থীদের আর্থিক অবস্থা নিয়ে শিক্ষকের মন্তব্যেও অনেকে বিব্রত হয়েছেন বলে জানান সুমি।

নেকাব পরা ওই ছাত্রীর বিষয়ে তিনি বলেন, চার বছর অনার্স শেষ করে বর্তমানে মাস্টার্সের শেষ সেমিস্টারে পড়ছেন ওই শিক্ষার্থী। এর আগে একাধিক মৌখিক পরীক্ষাতেও অংশ নিয়েছেন তিনি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন শিক্ষক তার ধর্মীয় অনুশীলনকে সম্মান করেছেন বলেও উল্লেখ করেন সুমি।

তার মতে, পোশাকের কারণে কোনো শিক্ষার্থীকে ‘সন্ত্রাসী’ হিসেবে চিহ্নিত করা গ্রহণযোগ্য নয়।

ঢাকা এক্সপ্রেস/এসআই

এ সম্পর্কিত খবর

আরও পড়ুন