ঢাকা, শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬

২৩ আশ্বিন ১৪৩৩, ২৬ রবিউস সানি ১৪৪৮

বিচারের পরই পুনর্মিলন, নাকি আগে রাজনৈতিক সমঝোতা

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১৭:৩৮, ৮ অক্টোবর ২০২৬

বিচারের পরই পুনর্মিলন, নাকি আগে রাজনৈতিক সমঝোতা

ফাইল ছবি

রাজনৈতিক বিরোধ ও সংঘাতের দীর্ঘমেয়াদি সমাধানে ‘রিকনসিলিয়েশন’ বা পুনর্মিলনের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। সম্প্রতি ঢাকায় অনুষ্ঠিত ‘বে অব বেঙ্গল কনভারসেশন-২০২৬’-এ বিষয়টি গুরুত্ব পায়।

আলোচনায় বক্তারা বলেন, অপরাধের বিচার যেমন প্রয়োজন, তেমনি সমাজের বিভাজন কাটিয়ে উঠতেও পুনর্মিলনের উদ্যোগ দরকার। তবে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের বিচার, যৌথ তদন্ত, ভুক্তভোগীদের ক্ষতিপূরণ এবং অপরাধীদের অনুশোচনা ও শাস্তির মতো বিষয়কে এর সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে।

বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় পুনর্মিলন কতটা সম্ভব, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। বিশেষ করে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে ক্ষমা না চাওয়া এবং রাজনীতিতে ফেরার বিষয়ে বিভিন্ন বক্তব্য ও অভিযোগকে পুনর্মিলনের পথে বড় বাধা হিসেবে দেখছেন আলোচকরা।

পুনর্মিলন কীভাবে হবে, তা নিয়েও সরকার ও রাজনৈতিক দলগুলোর অবস্থানে ভিন্নতা রয়েছে। দায় স্বীকার ও ক্ষমা প্রার্থনার পাশাপাশি বিচার ও জবাবদিহির মধ্য দিয়ে প্রক্রিয়াটি শুরু হবে, নাকি আগে রাজনৈতিক সমঝোতা প্রয়োজন—এ নিয়ে মতভেদ রয়েছে।

ইমেরিটাস অধ্যাপক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ড. আনোয়ারউল্লাহ্ চৌধুরী বলেন, আওয়ামী লীগের সঙ্গে জুলাইয়ের পক্ষের শক্তির রাজনৈতিক সমঝোতার সম্ভাবনা তিনি দেখছেন না। তবে আওয়ামী লীগের যারা গুরুতর অপকর্মে সরাসরি জড়িত নন, তারা নিজেদের ভুল ও অপরাধের জন্য প্রকাশ্যে অনুতপ্ত হয়ে ক্ষমা চাইলে তাদের রাজনীতি করার সুযোগ বিবেচনা করা যেতে পারে বলে মনে করেন তিনি।

তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে ভুল স্বীকার বা ক্ষমা চাওয়ার মতো কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি।

সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, একটি বিভক্ত জাতি পরস্পরের সঙ্গে সংঘাতে থাকলে দেশ এগিয়ে যেতে পারে না। তাই রিকনসিলিয়েশনের প্রয়োজন রয়েছে।

তার মতে, পুনর্মিলনের জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে নিজেদের ভুল স্বীকার করে অনুশোচনা প্রকাশ করতে হবে। অতীতের অন্যায় থেকে শিক্ষা নিয়ে ভবিষ্যতে একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকানোর উদ্যোগও প্রয়োজন।

তিনি আরও বলেন, অন্যায় ও লুটপাটের সঙ্গে জড়িতদের মধ্যে এখনো সেই উপলব্ধি দেখা যাচ্ছে না। বরং প্রতিহিংসা ও প্রতিশোধের বক্তব্য পরিস্থিতিকে আরও জটিল করছে।

লেখক, গবেষক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক আলতাফ পারভেজ বলেন, বাংলাদেশের বর্তমান বাস্তবতায় রিকনসিলিয়েশন কঠিন হলেও এটি প্রয়োজন। তা না হলে দেশ প্রতিশোধের চক্রে আটকে থাকবে।

তার মতে, রাজনৈতিক প্রতিশোধ চলতে থাকলে দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতিও বাধাগ্রস্ত হবে। এ অবস্থায় সরকারকে পুনর্মিলনের একটি প্রক্রিয়া শুরুর উদ্যোগ নেওয়া উচিত। এ উদ্যোগ রাষ্ট্রপতি বা সংসদ নিতে পারে বলেও মত দেন তিনি।

আলতাফ পারভেজ বলেন, আওয়ামী লীগ এখনো তাদের ভুল স্বীকার বা অনুতাপ প্রকাশ করেনি। তবে বিজয়ী পক্ষ হিসেবে বর্তমান সরকারেরও পুনর্মিলন প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার দায়িত্ব রয়েছে।

অন্যদিকে, কনভারসেশনে ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, আগে ফ্যাসিস্টদের বিচার হতে হবে, এরপর রিকনসিলিয়েশন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, সহিংসতার সঙ্গে জড়িতদের আইনি পরিণতি থেকে আড়াল করার চেষ্টা থাকলে পুনর্মিলন প্রক্রিয়া ব্যর্থ হতে পারে।

ঢাকা এক্সপ্রেস/এসআই

আরও পড়ুন