শিরোনাম
ক্রীড়া প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০৯:৪২, ৯ অক্টোবর ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
যুদ্ধবিধ্বস্ত আফগানিস্তানে এখনো আন্তর্জাতিক ক্রিকেট শুরু হয়নি। তাই সংযুক্ত আরব আমিরাতেই নিজেদের হোম সিরিজ আয়োজন করে আফগানিস্তান। দেশটির ক্রিকেট বোর্ডের কার্যালয়ও রয়েছে সেখানে। আফগান ক্রিকেটারদের অনেকে আমিরাতে বাড়ি-গাড়ি কিনে স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন। ফলে আবুধাবির পরিবেশ আফগান ক্রিকেটারদের কাছে বেশ পরিচিত।
শুক্রবার (০৯ অক্টোবর) বাংলাদেশ সময় দুপুর ১২টায় আবুধাবির শেখ জায়েদ ক্রিকেট স্টেডিয়ামে একমাত্র টেস্টে মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ ও আফগানিস্তান।
সাদা বলের ক্রিকেটে আফগানিস্তান যতটা ভয়ংকর দল, লাল বলের ক্রিকেটে এখনো ততটা শক্তিশালী হয়ে উঠতে পারেনি। যদিও বাংলাদেশের মাটিতে বাংলাদেশকে টেস্টে হারানোর রেকর্ড রয়েছে তাদের।
এখনো বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে জায়গা করে নিতে পারেনি আফগানিস্তান। ফলে আফগানিস্তান ও বাংলাদেশের মধ্যকার এ টেস্ট বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ নয়। এখানে পয়েন্টেরও কোনো হিসাব নেই।
তবে প্রতিপক্ষকে হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই বাংলাদেশের। হুট করে পা হড়কানোর অভিজ্ঞতা কম নেই টাইগারদের। কিছুদিন আগেই জিম্বাবুয়ের মাটিতে স্বাগতিকদের কাছে ইনিংস ব্যবধানে হেরেছিল বাংলাদেশ। যদিও পরে ডারউইনে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে মহাকাব্যিক জয়ে সেই পরাজয়ের ক্ষত অনেকটাই মুছে গেছে। তবু অপেক্ষাকৃত দুর্বল প্রতিপক্ষের বিপক্ষে হঠাৎ ছন্দ হারানোর নজির বাংলাদেশের ক্রিকেটে বহুবার দেখা গেছে।
তাই আবুধাবি টেস্টে সতর্ক থেকেই মাঠে নামতে হবে বাংলাদেশকে। একাদশ সাজানোর ক্ষেত্রেও প্রায় সব ক্রিকেটারকে পাচ্ছে দল। অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত কিছুটা অসুস্থ থাকলেও সুস্থ হয়ে উঠেছেন। দলের সঙ্গে অনুশীলনও করেছেন তিনি। সবকিছু ঠিক থাকলে এই টেস্টে তার খেলার কথা।
ব্যাটিং অর্ডারে শান্তকে চারে রেখে মুমিনুল হককে তিন নম্বরে খেলানোর পরিকল্পনা রয়েছে বাংলাদেশের। ওপেনিংয়ে তানজিদ হাসান তামিমের জায়গাও প্রায় নিশ্চিত। তবে তাঁর সঙ্গী কে হবেন, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন। সাদমান ইসলামের পাশাপাশি সৌম্য সরকারও রয়েছেন বিবেচনায়। প্রস্তুতি ম্যাচে অর্ধশতক হাঁকিয়ে একাদশে জায়গা পাওয়ার দাবি জোরালো করেছেন সৌম্য। ফলে সুযোগ পেলে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না।
পাঁচ নম্বরে মুশফিকুর রহিম, ছয়ে লিটন দাস ও সাতে মেহেদী হাসান মিরাজের খেলা প্রায় নিশ্চিত। বোলিং বিভাগে তাইজুল ইসলামের জায়গাও অনেকটাই পাকা। তবে মূল আলোচনা পেসার ও স্পিনারের সমন্বয় নিয়ে। বাংলাদেশ কি তিন পেসার নিয়ে খেলবে, নাকি একাদশে রাখবে তিন স্পিনার?
আবুধাবির শেখ জায়েদ ক্রিকেট স্টেডিয়ামের উইকেট ও কন্ডিশন দেখে ব্যাটিংয়ের জন্য অনুকূল পরিস্থিতির ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। তবে সময় গড়ানোর সঙ্গে উইকেট কিছুটা ধীর হয়ে আসতে পারে। সে ক্ষেত্রে স্পিনাররা বাড়তি সুবিধা পেতে পারেন। এই বিবেচনায় তিন স্পিনার নিয়ে একাদশ সাজানোর সম্ভাবনাও রয়েছে।
বাংলাদেশ তিন স্পিনার নিয়ে মাঠে নামলে রিজার্ভে থাকা নাঈম হাসানের খেলার সুযোগ তৈরি হতে পারে। অন্যদিকে, তিন পেসার খেলানোর সিদ্ধান্ত হলে হাসান মাহমুদ ও শরিফুল ইসলামের সঙ্গে দেখা যেতে পারে খালেদ আহমেদকে। হাসান ও খালেদ দুজনই সম্প্রতি কেন্টের হয়ে কাউন্টি ক্রিকেট খেলে ফিরেছেন। ডারউইন টেস্টে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে হাসান মাহমুদের দারুণ পারফরম্যান্সের স্মৃতিও এখনো টাটকা।
ঢাকা এক্সপ্রেস/এসএস