ঢাকা, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

৮ আশ্বিন ১৪৩৩, ১০ রবিউস সানি ১৪৪৮

ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দিতে এরদোগানের আহ্বান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ: ০৮:৫৪, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দিতে এরদোগানের আহ্বান

ছবি: সংগৃহীত

জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের ক্ষমতার কাঠামো পরিবর্তন করে বিশ্ব ব্যবস্থাকে আরও ন্যায়সংগত করার দাবি জানিয়েছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগান। একই সঙ্গে ফিলিস্তিনকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে এখনো স্বীকৃতি না দেওয়া দেশগুলোর প্রতি নিজেদের অবস্থান পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে এরদোগান বলেন, বিশ্বে শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার যে দায়িত্ব জাতিসংঘের, সংস্থাটি সেই দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হচ্ছে। তাঁর মতে, ৮১ বছর আগে যে লক্ষ্য ও আদর্শ নিয়ে জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, বর্তমান কাঠামো সেই উদ্দেশ্য পূরণ করতে পারছে না।

নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য পাঁচ দেশের আধিপত্যের সমালোচনা করে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট বলেন, ১৯০টিরও বেশি দেশের সামগ্রিক ইচ্ছা মাত্র পাঁচটি দেশের সিদ্ধান্ত ও স্বার্থের ওপর নির্ভরশীল থাকতে পারে না। তিনি নিরাপত্তা পরিষদকে আরও বিস্তৃত, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সমতাভিত্তিক করতে জরুরি ও আমূল সংস্কারের আহ্বান জানান।

গাজার পরিস্থিতি নিয়েও কঠোর অবস্থান তুলে ধরেন এরদোগান। তিনি বলেন, সেখানে যে মানবিক বিপর্যয় চলছে, ন্যূনতম মানবিক বোধ ও বিবেকসম্পন্ন কোনো মানুষের পক্ষেই তার প্রতি চোখ বন্ধ করে থাকা সম্ভব নয়।

গাজাকে তিনি আমাদের সময়ের সবচেয়ে অমানবিক ও লজ্জাজনক আটক শিবির হিসেবে বর্ণনা করেন। একই সঙ্গে গাজার পুনর্গঠন দ্রুত শুরু করার পাশাপাশি ইসরাইলের ওপর আরও বেশি আন্তর্জাতিক চাপ প্রয়োগের আহ্বান জানান তিনি।

ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে অনুপস্থিতির বিষয়টিও তুলে ধরেন এরদোগান। যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা না দেওয়ার কারণে টানা দ্বিতীয় বছর আব্বাস নিউইয়র্কে সশরীরে জাতিসংঘের অধিবেশনে অংশ নিতে পারেননি। এরদোগান বলেন, এই পরিস্থিতি ফিলিস্তিনিদের প্রতি অবিচার এবং তা মানুষের বিবেককে আহত করে। আব্বাস উপস্থিত থাকতে না পারলেও তুরস্ক স্বাধীন ও সার্বভৌম ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের পক্ষে কথা বলে যাবে বলেও জানান তিনি।

জাতিসংঘের সদস্য দেশগুলোর উদ্দেশে এরদোগান বলেন, যারা এখনো ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেয়নি, তারা যেন নিজেদের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করে। তাঁর ভাষণে ১৯৬৭ সালের সীমান্তের ভিত্তিতে এবং পূর্ব জেরুজালেমকে রাজধানী করে একটি স্বাধীন ও ভৌগোলিকভাবে অখণ্ড ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার প্রত্যাশার কথাও উঠে আসে।

গাজায় ইসরাইলের সামরিক অভিযান নিয়ে তুরস্ক দীর্ঘদিন ধরেই কঠোর সমালোচনা করে আসছে। আঙ্কারা এসব কর্মকাণ্ডকে গণহত্যা হিসেবে আখ্যায়িত করে আন্তর্জাতিকভাবে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়ে আসছে। তবে ইসরাইল বরাবরই গণহত্যার অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।

ঢাকা এক্সপ্রেস/এসএস

আরও পড়ুন