শিরোনাম
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০৮:৩৫, ৭ নভেম্বর ২০২৬
ফাইল ছবি
আজ ৭ নভেম্বর, ঐতিহাসিক জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস। বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের এক তাৎপর্যপূর্ণ অধ্যায় স্মরণে আজ দেশজুড়ে দিবসটি পালিত হচ্ছে।
১৯৭৫ সালের এই দিনে সংঘটিত সিপাহি-জনতার অভ্যুত্থান বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা করেছিল। বিএনপির রাজনৈতিক দর্শন ও ঐতিহাসিক মূল্যায়নে দিনটি জাতীয় স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, গণতন্ত্র ও জনগণের ঐক্যের প্রতীক।
দীর্ঘ ৫১ বছর পরও ৭ নভেম্বরের তাৎপর্য বাংলাদেশের রাজনীতিতে আলোচিত। বিশেষ করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) দিনটিকে জাতীয় জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচনা করে।
১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর দেশ যখন রাজনৈতিক অস্থিরতা, অনিশ্চয়তা ও সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছিল, তখন সিপাহি-জনতার ঐক্যবদ্ধ ভূমিকা রাষ্ট্রকে নতুন রাজনৈতিক গতিপথের সন্ধান দিয়েছিল বলে মনে করে বিএনপি। সেই ঘটনাপ্রবাহের মধ্য দিয়ে সামনে চলে আসেন তৎকালীন সেনাপ্রধান মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান।
১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যাকাণ্ডের পর বাংলাদেশের রাজনীতিতে চরম অস্থিরতা সৃষ্টি হয়। এরপর ৩ নভেম্বর সংঘটিত সামরিক অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে তৎকালীন সেনাপ্রধান জিয়াউর রহমানকে ঢাকা সেনানিবাসে গৃহবন্দি করা হয়। এর চার দিন পর ৭ নভেম্বর সেনাবাহিনীর বিভিন্ন পর্যায়ের সদস্য ও সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণে পাল্টা অভ্যুত্থান ঘটে। এ সময় জিয়াউর রহমান মুক্ত হন এবং দেশের রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে ফিরে আসেন।
বিএনপির মূল্যায়নে, সেদিনের ঘটনাপ্রবাহ ছিল আধিপত্যবাদী শক্তির বিরুদ্ধে জাতীয় স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার আকাঙ্ক্ষার বহিঃপ্রকাশ। দলটির মতে, সিপাহি-জনতার ঐক্য দেশের স্বাধীনতা ও জাতীয়তাবাদী চেতনাকে নতুনভাবে উজ্জীবিত করেছিল। এ কারণেই বিএনপি ৭ নভেম্বরকে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস হিসেবে পালন করে।
পরবর্তী সময়ে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ, বহুদলীয় রাজনৈতিক ব্যবস্থা, অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও স্বনির্ভরতার যে রাজনৈতিক দর্শন বিকশিত হয়, বিএনপি ৭ নভেম্বরকে সেই ধারার ঐতিহাসিক ভিত্তি হিসেবে মূল্যায়ন করে।
বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধে জিয়াউর রহমানের ভূমিকা, স্বাধীনতার ঘোষণা পাঠ এবং পরবর্তী সময়ে রাষ্ট্রীয় নেতৃত্ব বিএনপির রাজনৈতিক পরিচয়ের অন্যতম ভিত্তি। দলটির প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে তিনি বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের ধারণাকে রাজনৈতিক দর্শন হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেন।
দলটির নেতাকর্মীদের কাছে দিনটি কেবল অতীত স্মরণের উপলক্ষ নয়; বরং জাতীয় ঐক্য, গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং দেশের স্বার্থে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করার দিন।
বিএনপি মনে করে, ৭ নভেম্বরের রাজনৈতিক তাৎপর্য বাংলাদেশের বহুদলীয় গণতন্ত্রের বিকাশের ইতিহাসের সঙ্গেও গভীরভাবে সম্পর্কিত। দলটির বক্তব্য অনুযায়ী, স্বাধীনতার পর একদলীয় রাজনৈতিক ব্যবস্থার অভিজ্ঞতা, রাজনৈতিক সংকট ও নাগরিক অধিকার নিয়ে উদ্বেগের প্রেক্ষাপটে বহুদলীয় রাজনৈতিক পরিবেশ প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তা সামনে আসে।
বিএনপির সাত দিনের কর্মসূচি
ঐতিহাসিক জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে বিএনপি ৫ থেকে ১১ নভেম্বর পর্যন্ত সাত দিনব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা করেছে।
ঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে আজ সকাল ৬টায় নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ সারা দেশের দলীয় কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন করা হবে।
সকাল ৮টায় বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানসহ দলের জাতীয় নেতারা এবং বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও ফাতেহা পাঠ করবেন।
এ ছাড়া আজ বিকেল ৩টায় নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হবে। ঢাকা মহানগরীর পাশাপাশি সারা দেশের জেলা ও মহানগর পর্যায়েও শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
৮ নভেম্বর থানা ও উপজেলা পর্যায়ে কর্মসূচি পালন করবে দলটি। বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোও নিজ নিজ উদ্যোগে আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করবে।
ঢাকা এক্সপ্রেস এর ইউটিউব চ্যানেল SUBSCRIBE করুন।
ঢাকা এক্সপ্রেস/এসএস