ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬

১৪ কার্তিক ১৪৩৩, ১৭ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮

ফেসবুক লাইভে ক্ষোভ প্রকাশ, জামিন পেলেন নারী উদ্যোক্তা সাথী

ময়মনসিংহ প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১১:৩০, ২৯ অক্টোবর ২০২৬

ফেসবুক লাইভে ক্ষোভ প্রকাশ, জামিন পেলেন নারী উদ্যোক্তা সাথী

ছবি: ঢাকা এক্সপ্রেস

ময়মনসিংহের ভালুকায় ফেসবুক লাইভে সরকারের সমালোচনা করে বক্তব্য দেওয়ার জেরে গ্রেপ্তার হওয়া নারী উদ্যোক্তা ও বিউটি পার্লারের মালিক সাথী আক্তার জামিন পেয়েছেন।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) দুপুরে ময়মনসিংহের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক ৫০০ টাকার মুচলেকায় তার জামিন মঞ্জুর করেন।

বুধবার বিচারক সাজিদুল ইসলামের আদালতে সাথী আক্তারের জামিন শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। নির্ধারিত দিনে তাকে আদালতে হাজির করা হলে তার আইনজীবী জামিনের আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত ৫০০ টাকার বন্ডে নিজ জিম্মায় তার জামিন মঞ্জুর করেন। পরে আদালতের হাজতখানা থেকে মুক্তি পান তিনি।

ঘটনার সূত্রপাত গত রোববার (২৬ অক্টোবর) দুপুরে। ভালুকা উপজেলার স্কয়ার মাস্টারবাড়ী এলাকার খাদিজা প্যালেস মার্কেটে ‘সাথী বিউটি পার্লার’ ও ‘সাথী মেকওভার’ নামে দুটি প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী সাথী আক্তার তার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে বৈদ্যুতিক তার চুরির ঘটনাকে কেন্দ্র করে নিজের ফেসবুক আইডি থেকে দুটি সরাসরি সম্প্রচার করেন। প্রায় ৫ মিনিট ও ৮ মিনিটের ওই ভিডিওর একপর্যায়ে তাকে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলতে শোনা যায়, “বিএনপি সরকারকে ভোট দিয়া আজকে ভুক্তভোগী।”

ভিডিওটির একটি অংশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গন ও সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। পরে মার্কেটের অন্য ব্যবসায়ীরা তার সঙ্গে কথা বলতে গেলে তিনি তাদের সঙ্গে মারমুখী আচরণ করেন বলে অভিযোগ ওঠে। এতে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ ওই দিন রাতেই তাকে হেফাজতে নেয়। পরে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৫১ ধারায় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা হিসেবে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়।

ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর দেশজুড়ে আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হয়। অনেকেই ঘটনাটিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর আঘাত হিসেবে দেখেছেন। তাদের মতে, একজন নাগরিক দৈনন্দিন ভোগান্তি বা ক্ষোভ প্রকাশ করতেই পারেন। এ কারণে তাকে পুলিশি হেফাজতে নেওয়া স্বাধীন মতপ্রকাশের পরিপন্থী।

সাথী আক্তারের আইনজীবীরা প্রশ্ন তোলেন, ফেসবুক লাইভের বক্তব্যকে কেন্দ্র করে স্থানীয় লোকজন বা রাজনৈতিক কর্মীরা যখন তার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের সামনে জড়ো হয়ে চড়াও হয়েছিলেন, তখন তাদের নিবৃত্ত করা এবং সাথীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা পুলিশের দায়িত্ব ছিল। তা না করে উল্টো ভুক্তভোগী নারীকে কেন গ্রেপ্তার করা হলো, তা নিয়ে তারা সমালোচনা করেন।

সাথী আক্তারের আইনজীবী মাহতাব উদ্দিন আহমেদ গণমাধ্যমে ও আদালতে শুনানির সময় বলেন, “সংবিধানের ৩৯ অনুচ্ছেদে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা স্বীকৃত। সাথী তার নিজের ক্ষোভ ও মতামত প্রকাশ করেছেন, যা কোনো ফৌজদারি অপরাধ হতে পারে না। উপরন্তু, স্থানীয় লোকজন যখন তার প্রতিষ্ঠানের সামনে জড়ো হয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেন, তখন তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা পুলিশের দায়িত্ব ছিল, অথচ তাকেই গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।”

ভালুকা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম ঘটনার পর জানান, ওই নারীর ফেসবুক লাইভের পুরো ভিডিও পর্যালোচনা করে সেখানে সরাসরি সরকারবিরোধী বা দণ্ডনীয় কোনো অপরাধের উপাদান পাওয়া যায়নি। পুরো ভিডিও না দেখে মূলত গুজব ও ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হয়েছিল। তবে ভিডিও প্রকাশের পর মার্কেটের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে তার মারমুখী আচরণ এবং উত্তেজনাকর পরিস্থিতিতে আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখতেই তাকে ১৫১ ধারায় আদালতে পাঠানো হয়েছে।

ময়মনসিংহ আদালতের পরিদর্শক পি. এস. এম. মোস্তাছিনুর রহমান মামলার অগ্রগতি নিশ্চিত করে জানান, বুধবার নির্ধারিত দিনে সাথী আক্তারকে আদালতে হাজির করার পর বিচারক উভয় পক্ষের শুনানি শেষে ৫০০ টাকার মুচলেকায় তার জামিন মঞ্জুর করেন। আগামী ৩ নভেম্বর মামলার পরবর্তী তারিখ ধার্য রয়েছে।

ঢাকা এক্সপ্রেস/এসএস

আরও পড়ুন