ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬

১৩ কার্তিক ১৪৩৩, ১৭ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮

বিশ্ব স্ট্রোক দিবস আজ, জীবন বাঁচাতে যা করবেন

ডেস্ক রিপোর্ট

প্রকাশ: ১০:১৬, ২৯ অক্টোবর ২০২৬

বিশ্ব স্ট্রোক দিবস আজ, জীবন বাঁচাতে যা করবেন

ছবি: সংগৃহীত

ওপ্রতি বছর ২৯ অক্টোবর বিশ্বজুড়ে পালিত হয় বিশ্ব স্ট্রোক দিবস। স্ট্রোক সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানো, রোগের লক্ষণ দ্রুত শনাক্ত করা এবং সময়মতো সঠিক চিকিৎসা নিশ্চিত করাই দিবসটির মূল লক্ষ্য। স্ট্রোকের অন্যতম প্রধান ঝুঁকির কারণ উচ্চ রক্তচাপ। বিশ্বজুড়ে মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবেও বিবেচিত হয় স্ট্রোক।

স্ট্রোক এমন একটি গুরুতর শারীরিক অবস্থা, যেখানে মস্তিষ্কের রক্তনালি বন্ধ হয়ে গেলে বা রক্তনালি ছিঁড়ে গেলে মস্তিষ্কে রক্ত সরবরাহ বিঘ্নিত হয়। এতে মস্তিষ্কের কোষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে রোগীর জীবন ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। এবারের বিশ্ব স্ট্রোক দিবসের মূল বার্তা ‘এভরি মিনিট কাউন্টস’। অর্থাৎ, স্ট্রোকের ক্ষেত্রে প্রতিটি মিনিট গুরুত্বপূর্ণ।

স্ট্রোকের ভয়াবহতা, লক্ষণ, ঝুঁকির কারণ ও প্রতিরোধের উপায় সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে সচেতন করাই দিবসটির মূল উদ্দেশ্য। ২০০৬ সাল থেকে বিশ্ব স্ট্রোক দিবস পালন শুরু হয়।

অনেক সময় রোগী বা পরিবারের সদস্যরা স্ট্রোকের লক্ষণ বুঝতে পারেন না। কেউ কেউ লক্ষণগুলোকে সাধারণ সমস্যা মনে করে চিকিৎসা নিতে দেরি করেন। বিশ্ব স্ট্রোক দিবসে মানুষকে শেখানো হয়, কীভাবে স্ট্রোকের লক্ষণ শনাক্ত করে আক্রান্ত ব্যক্তিকে দ্রুত হাসপাতালে নিতে হবে।

মস্তিষ্কের স্বাভাবিক কার্যক্রম চালিয়ে যেতে অবিরাম রক্ত সরবরাহ প্রয়োজন। কোনো কারণে এই সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেলে বা মস্তিষ্কের রক্তনালি ফেটে রক্তক্ষরণ হলে স্ট্রোক হতে পারে।

স্ট্রোক প্রধানত দুই ধরনের। প্রথমটি ইস্কেমিক স্ট্রোক। মস্তিষ্কের রক্তনালিতে রক্ত জমাট বেঁধে রক্ত চলাচল বন্ধ হয়ে গেলে এ ধরনের স্ট্রোক হয়। দ্বিতীয়টি হেমোরেজিক স্ট্রোক। মস্তিষ্কের কোনো রক্তনালি ফেটে রক্তক্ষরণ হলে এ ধরনের স্ট্রোক হয়।

স্ট্রোকের লক্ষণ সাধারণত হঠাৎ দেখা দেয়। উল্লেখযোগ্য লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে মুখের এক পাশ বেঁকে যাওয়া, শরীরের এক পাশের হাত বা পা অবশ হয়ে যাওয়া, কথা জড়িয়ে যাওয়া, অন্যের কথা বুঝতে সমস্যা হওয়া, হঠাৎ এক বা দুই চোখে ঝাপসা দেখা, মাথা ঘোরা কিংবা হাঁটতে অসুবিধা হওয়া।

তবে সব রোগীর ক্ষেত্রে একই লক্ষণ দেখা যায় না। এসব লক্ষণের কোনোটি দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা জরুরি।

স্ট্রোকের লক্ষণ দ্রুত শনাক্ত করতে বিশ্বজুড়ে ‘ফাস্ট’ পদ্ধতি ব্যবহৃত হয়। এ পদ্ধতিতে চারটি বিষয় খেয়াল রাখতে বলা হয়। ‘এফ’ বা ফেস—আক্রান্ত ব্যক্তিকে হাসতে বলুন এবং মুখের এক পাশ বেঁকে যাচ্ছে কি না দেখুন। ‘এ’ বা আর্ম—দুই হাত তুলতে বলুন এবং একটি হাত নিচে নেমে যাচ্ছে কি না খেয়াল করুন। ‘এস’ বা স্পিচ—কথা জড়িয়ে যাচ্ছে কি না দেখুন। ‘টি’ বা টাইম—এসব লক্ষণের কোনোটি দেখা গেলে অপেক্ষা না করে দ্রুত চিকিৎসা নিন।

বিশ্বে প্রতি ছয় সেকেন্ডে একজন স্ট্রোকে আক্রান্ত হন। বছরে আক্রান্ত হন প্রায় ছয় কোটি মানুষ, আর মারা যান প্রায় দুই কোটি। স্ট্রোকের কারণে দেড় কোটি মানুষ পঙ্গুত্বের শিকার হচ্ছেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে বর্তমানে প্রায় ২০ লাখ মানুষ স্ট্রোকে আক্রান্ত। তাদের মধ্যে প্রায় পাঁচ লাখ মানুষ দীর্ঘমেয়াদি পঙ্গুত্ব নিয়ে বেঁচে আছেন।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্য অনুযায়ী, দেশে প্রতি এক হাজার মানুষের মধ্যে স্ট্রোকের প্রাদুর্ভাব ১১ দশমিক ৩৯ জন। আক্রান্তদের ৭৫ শতাংশের বেশি ইস্কেমিক স্ট্রোকে ভুগছেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে। বিভাগভিত্তিক হিসাবে ময়মনসিংহে এ হার বেশি। শহরের তুলনায় গ্রামাঞ্চলে স্ট্রোকের প্রাদুর্ভাব বেশি বলেও দাবি করা হয়েছে।

বাংলাদেশেও প্রতিবছর ২৯ অক্টোবর আন্তর্জাতিক স্ট্রোক দিবস পালন করা হয়। তবে পৃথকভাবে স্ট্রোক অ্যাসোসিয়েশনের কার্যক্রম না থাকায় বাংলাদেশ নিউরোলজি অ্যাসোসিয়েশনের উদ্যোগে দিবসটি পালনের আয়োজন করা হয়ে থাকে।

ঢাকা এক্সপ্রেস/এসএস

আরও পড়ুন