ঢাকা, শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬

১৭ আশ্বিন ১৪৩৩, ১৯ রবিউস সানি ১৪৪৮

তুরস্কে সিরিয়া-হিজবুল্লাহর গোপন বৈঠক, সামনে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১২:৪০, ২ অক্টোবর ২০২৬ | আপডেট: ১২:৪৫, ২ অক্টোবর ২০২৬

তুরস্কে সিরিয়া-হিজবুল্লাহর গোপন বৈঠক, সামনে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য

ছবি: সংগৃহীত

সিরিয়ায় দুই দশক ধরে বাশার আল-আসাদকে সামরিক সহায়তা দেওয়া লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ এবং আসাদ-পরবর্তী নতুন সিরিয়া সরকারের মধ্যে উত্তেজনা প্রসমন করতে তুরস্কে এক নজিরবিহীন ও গোপন বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।

আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক বিশেষ প্রতিবেদনে দুই পক্ষের প্রথম এই সরাসরি যোগাযোগের দাবি করা হলেও, তুরস্ক ও নতুন সিরিয়া সরকার পুরো বিষয়টিকে ‘বানোয়াট ও ভিত্তিহীন’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে।

২০২৪ সালের শেষভাগে আসাদ সরকারের পতনের পর আহমেদ আল-শারার নেতৃত্বে গঠিত নতুন সিরীয় সরকারের সঙ্গে হিজবুল্লাহর সম্পর্কের চরম অবনতি ঘটে। দামেস্কের অভিযোগ, তাদের ভূখণ্ড ব্যবহার করে লেবাননে অবৈধভাবে অস্ত্র পাচার করছে হিজবুল্লাহ। অন্যদিকে, সিরীয় বাহিনীকে লেবাননে সেনা পাঠিয়ে হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানে উদ্বুদ্ধ করার চেষ্টা চালাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র।

এমন প্রেক্ষাপটে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে এগিয়ে আসে তুর্কি গোয়েন্দা সংস্থা। গত সেপ্টেম্বর মাসে তুর্কি কর্তৃপক্ষের আমন্ত্রণে সিরিয়ার গোয়েন্দা ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা এবং হিজবুল্লাহ প্রতিনিধিদের মধ্যে এই রুদ্ধদ্বার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি।

 

সূত্রের তথ্য মতে, বৈঠকে দুপক্ষই স্বীকার করেছে যে তাদের মধ্যে কোনো ঐতিহাসিক বা সামরিক শত্রুতা নেই। 

 

আলোচনায় হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্রীকরণ করতে নতুন সিরীয় সরকার কোনো সামরিক অভিযান বা হস্তক্ষেপ চালাবে না বলে আশ্বস্ত করেছে। বিনিময়ে লেবানন সীমান্তে অস্ত্রপাচার রোধ এবং সিরিয়ার অভ্যন্তরীণ (বিশেষ করে দক্ষিণাঞ্চলে) হিজবুল্লাহর অবশিষ্ট গোপন নেটওয়ার্কগুলো ভেঙে দিতে সহযোগিতা চায় দামেস্ক। তবে হিজবুল্লাহ প্রতিনিধিরা সিরিয়ার অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে হস্তক্ষেপ না করার প্রতিশ্রুতি দিলেও সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ বা গোপন সেল ভেঙে দেওয়ার বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো উত্তর দেয়নি। এ ছাড়া লেবাননের ভেতরে যাতে সিরীয় বাহিনী তাদের ওপর পেছন থেকে আক্রমণ না চালায়, সেই নিরাপত্তা তারা নিশ্চিত করতে চেয়েছে।

রয়টার্সের এই খবর প্রকাশ্যে আসার পরপরই তা তীব্র ভাষায় প্রত্যাখ্যান করে আঙ্কারা ও দামেস্ক। তুরস্কের রাষ্ট্রপতির দপ্তর থেকে সামাজিক মাধ্যম এক্সে জানানো হয়, বৈঠকের তারিখ, স্থান বা আলোচনার বিষয়বস্তু সম্পর্কিত সব তথ্য সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও কল্পনাপ্রসূত। একইভাবে সিরীয় সরকারের পক্ষ থেকেও সংবাদের সত্যতা নাকচ করে একে ‘মিথ্যা’ আখ্যা দেওয়া হয়। প্রতিবেদন অনুযায়ী, হিজবুল্লাহর প্রধান অভিভাবক ইরান এই বৈঠকের কথা জানলেও আঙ্কারা বৈঠকে তেহরানকে সরাসরি যুক্ত করেনি। আবার নতুন সিরীয় প্রধান আহমেদ আল-শারাও বর্তমানে ইরানের সঙ্গে সরাসরি কোনো চুক্তি বা সম্পর্কে যেতে ইচ্ছুক নন। মূল পৃষ্ঠপোষক ইরানের এই সরাসরি অনুপস্থিতি ও অসন্তোষের কারণেই বৈঠক নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো চূড়ান্ত সমঝোতা বা ঘোষণার দিকে যায়নি কোনো পক্ষই।

ঢাকা এক্সপ্রেস/ ই

আরও পড়ুন