শিরোনাম
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১১:১৭, ৮ নভেম্বর ২০২৬
ছবি: ঢাকা এক্সপ্রেস
ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার অখণ্ড বাসুদেব ইউনিয়নের ছয়টি গ্রাম পুনর্বহাল এবং সদর উপজেলাকে বিভক্ত করার প্রস্তাবের প্রতিবাদে সড়ক ও রেলপথ অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
রোববার (৮ নভেম্বর) সকাল থেকে শুরু হওয়া এ অবরোধে ঢাকা-সিলেট ও ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথে ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে।
একই সঙ্গে আখাউড়া-আগরতলা সড়ক অবরোধ করায় ভারতগামী যাত্রী ও পণ্যবাহী যানবাহনসহ সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ রয়েছে।
এদিন সকাল থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার কোড্ডা কেবিন এলাকায় রেলপথ অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন বাসুদেব ইউনিয়নের বাসিন্দারা। এতে গুরুত্বপূর্ণ দুটি রেলপথে ট্রেন চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়।
এর ফলে পারাবত, পর্যটক এক্সপ্রেস, মহানগর, সুবর্ণ এক্সপ্রেসসহ বেশ কয়েকটি ট্রেনের নির্ধারিত সময়ে যাত্রা নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। পাশাপাশি আখাউড়া-আগরতলা সড়ক অবরোধের কারণে ভারতগামী যাত্রী ও পণ্য পরিবহনসহ সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ হয়ে পড়েছে। এতে এ পথে চলাচলকারী সাধারণ মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।
স্থানীয়রা জানান, চলতি বছরের মে মাসে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার বাসুদেব ইউনিয়ন থেকে ছয়টি গ্রাম আলাদা করে বরিশল নামে নতুন একটি ইউনিয়ন পরিষদ গঠন করা হয়।
গ্রামগুলো হলো—কোড্ডা, বৈষ্ণবপুর, শ্যামনগর, কোড়াবাড়ি, চান্দি ও বরিশল। নতুন ইউনিয়নটি আখাউড়া উপজেলার সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে। এ বিষয়ে গত ৪ জুন গেজেট প্রকাশিত হয়। শুরু থেকেই বাসুদেব ইউনিয়নের বাসিন্দারা এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়ে আসছেন। তবে দীর্ঘদিনেও বিষয়টির কোনো সমাধান হয়নি।
এর মধ্যে সম্প্রতি সদর উপজেলার বাসুদেব, সুলতানপুর ও রামরাইল ইউনিয়ন ভেঙে আখাউড়া উপজেলার সঙ্গে যুক্ত করা বরিশল ইউনিয়নের আওতায় এনে ‘বরিশল’ নামে নতুন একটি উপজেলা গঠনের প্রস্তাব সামনে আসে।
এ প্রস্তাবের নেপথ্যে জেলা বিএনপি নেতা কবির আহমেদ আহমেদ ভূঁইয়া কাজ করছেন বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের জন্য সম্প্রতি স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে একটি দাপ্তরিক চিঠি পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। এর প্রতিবাদে সড়ক ও রেলপথ অবরোধ করে বিক্ষোভে নামেন তারা।
এ বিষয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থানার ওসি খাইরুল আলম জানান, অবরোধের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে। জানমালের ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে এবং সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ দায়িত্ব পালন করছে।
ঢাকা এক্সপ্রেস/এসএস