শিরোনাম
ঝিনাইদহ প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১০:৩৩, ১ নভেম্বর ২০২৬
ছবি: ঢাকা এক্সপ্রেস
১১ দলীয় ঐক্যের সাত দফা দাবি যেকোনো সময় এক দফায় রূপান্তরিত হতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। সরকারের উদ্দেশে তিনি বলেছেন, ‘এই সাত দফা মেনে নেন। তাহলে এক দফার পাথর আপনাদের ওপর চাপবে না। কিন্তু সাত দফা যদি ভালোয় ভালোয় না মানেন, তাহলে এক দফার পাথরের নিচে পিষ্ট হয়ে যাবেন।’
শনিবার (৩১ অক্টোবর) রাত ১০টায় ঝিনাইদহ শহরের চুয়াডাঙ্গা বাসস্ট্যান্ডে ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা-খুলনা-ঝিনাইদহ-কুষ্টিয়া লংমার্চের পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ভোটে ইঞ্জিনিয়ারিং করে সরকার গঠন করেছে বিএনপি। সেখানে তাদের দাবি হবে, ৫১ শতাংশ মানুষ বা ভোটার তাদের ভোট দিয়েছেন। দ্বিতীয় আরেকটি ভোটও হয়েছিল। সেই ভোটে তারা ‘হ্যাঁ’ বলতে বলেছিল, তারাও ‘হ্যাঁ’ বলার আহ্বান জানিয়েছিলেন। ওই ভোটে ৭০ শতাংশ মানুষ ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়েছেন। ৫১ শতাংশ মানুষের ভোটকে তারা সম্মান করলেও ৭০ শতাংশ মানুষের ভোটকে অপমানিত করেছে। তারা কোনো ভোটের রায় এখনো বাস্তবায়ন করেনি। তারা ধানাই-পানাই করছে। কখনো ডানে, আবার কখনো বামে যাচ্ছে। তাদের বিভিন্ন ধরনের লোভ দেখানো হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি বলেন, ‘আমরা ব্যক্তির জন্য সংসদে যাইনি। ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিলের জন্যও যাইনি। আপনারা সাক্ষী, নির্বাচনের আগেই আমরা ঘোষণা দিয়েছিলাম, যদি আমাদের জোট নির্বাচিত হয়, আমরা যদি সরকার গঠনের সুযোগ পাই, তাহলে আমরা সরকারি কোনো প্লট গ্রহণ করব না। আমরা ঘোষণা দিয়েছিলাম, আমাদের কোনো এমপি-মন্ত্রী করমুক্ত গাড়ি বিদেশ থেকে আমদানি করবেন না। আমরা আমাদের কথা রেখেছি। সরকার বাধ্য হয়ে আমাদের কথার সঙ্গে একমত হয়েছে।’
বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, বিএনপি ও তারা উভয়েই বলেছিলেন, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ বিজয়ী হলে অক্ষরে অক্ষরে সেই গণভোটের দাবি পূরণ করবেন। কিন্তু বিএনপি এখন সেই অবস্থান থেকে সরে গেছে। সংসদে দাঁড়িয়ে তাদের একজন বলেছেন, ভোট না হলে সেদিন অনেক কিছু মেনে নেওয়া হয়েছিল। অর্থাৎ ক্ষমতা দখল করতে না পারলে তারা সেসব মেনে নিতেন। কিন্তু ১৪০০ মানুষ বুকের তাজা রক্ত দিয়ে এক দলকে সরিয়ে আরেক দলকে ক্ষমতায় বসানোর জন্য জীবন দেননি। তারা পরিবর্তন চেয়েছিলেন, বাংলাদেশকে মেরামত করতে চেয়েছিলেন। তারাও রাষ্ট্র মেরামত ও সংস্কার চান বলে জানান তিনি।
তিনি বলেন, ‘আমাদের কথা স্পষ্ট। সরকারকে এটা মানতেই হবে। কারণ, এটা জনগণের রায়। ৭০ শতাংশ জনগণ রায় দিয়ে বলেছে, এই ভোট অগ্রাহ্য করার কোনো অধিকার সরকারের নেই। যদি সংসদ নির্বাচন অবৈধ হয়, তাহলে গণভোটও অবৈধ। আর গণভোট যদি অবৈধ হয়, তাহলে সংসদ নির্বাচন কখনো বৈধ হবে না। তাহলে কোনো সরকার নেই, কোনো বিরোধী দল নেই। এটা হতে পারে না। এই দ্বিচারিতা জাতির সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা। আমরা ১১ দল বিশ্বাসঘাতকতা করতে দেব না। এই জায়গায় সরকারকে আসতে বাধ্য করব, ইনশাল্লাহ। এটি আজ হোক, কাল হোক। সোজা আঙুলে হলে ভালো, না হলে আঙুল বাঁকা হবে, ইনশাল্লাহ।’
জামায়াত আমির আরও বলেন, তারা দেশে কোনো বিশৃঙ্খলা চান না। তাদের তিনটি লংমার্চ দেশের বিশাল অংশ কাভার করেছে। এখন পর্যন্ত সেগুলো শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। তবে জনগণের শান্তি কেড়ে নেওয়া হলে কিংবা অধিকার পায়ের নিচে ফেলে দেওয়া হলে বিরোধী দল বসে থাকবে না। তখন সাত দফা যেকোনো সময় এক দফায় রূপান্তরিত হবে।
তিনি আরও বলেন, ‘এক দফার কথা শুনলে কলিজা কাঁপবে। আমরা তো কলিজা কাঁপাতে চাই না। সরকার যদি আমাদের গণভোটের গণরায় মেনে নেয়, তাহলে পরবর্তী সময়ে আরেকটি লংমার্চের ডাক আমরা দেব না। কিন্তু যদি গণভোটের গণরায় না মানার অবস্থানে জিদ ধরে বসে থাকে, তাহলে আজ ঢাকা থেকে এখানে এসেছি, কাল আপনাদের আহ্বান জানাব—এখান থেকে আপনারা ঢাকায় চলে আসবেন।’
জাতির জন্য আরেকবার লড়াই করতে প্রস্তুত হওয়ার আহ্বান জানিয়ে জামায়াত আমির বলেন, ‘আমরা আপনাদের সঙ্গে আছি। আপনারা আমাদের সঙ্গে থাকবেন। এই লড়াইয়ে জনতার বিজয় হবে, ইনশাল্লাহ। ফ্যাসিবাদ হেরে যাবে, জনগণ জিতে যাবে।’
পথসভায় ঝিনাইদহ জেলা জামায়াতের আমির আলী আজম মো. আবু বকর এমপির সভাপতিত্বে বক্তব্য দেন এলডিপির চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম আহ্বায়ক ও সংসদ সদস্য আব্দুল হান্নান মাসউদ, ডাকসুর ভিপি হান্নান মাসঊদ, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির মুখপাত্র রাশেদ প্রধানসহ অন্যরা। এ সময় স্থানীয় ১১ দলীয় ঐক্যের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
ঢাকা এক্সপ্রেস/এসএস