ঢাকা, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬

১১ কার্তিক ১৪৩৩, ১৪ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮

বাহুবলে মাদক-জুয়া-বালু পাচারের অভিযোগ, ঝুঁকিতে সাংবাদিকরা

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১১:৩৩, ২৬ অক্টোবর ২০২৬

বাহুবলে মাদক-জুয়া-বালু পাচারের অভিযোগ, ঝুঁকিতে সাংবাদিকরা

ছবি: ঢাকা এক্সপ্রেস

হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলায় মাদক, জুয়া, চুরি, গরু চুরি ও বালু পাচারের মতো অপরাধ বেড়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এসব ঘটনায় জনমনে উদ্বেগ বাড়ছে। একই সঙ্গে উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো চোরাচালানের ট্রানজিট হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। এতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সচেতন মহল।

এসব অপরাধের প্রতিবাদে সম্প্রতি স্থানীয় এলাকাবাসী ও কল্যাণ যুব সমাজের উদ্যোগে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে চুরি-ডাকাতির বিরুদ্ধে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা দ্রুত অপরাধীদের গ্রেপ্তার এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নের দাবি জানান।

স্থানীয়দের অভিযোগ, উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় সহজেই মাদক পাওয়া যাচ্ছে। এতে তরুণ সমাজের একটি বড় অংশ বিপথগামী হচ্ছে। পাশাপাশি বিভিন্ন প্রত্যন্ত এলাকার গুরুত্বপূর্ণ স্থানে রাতের আঁধারে জমজমাট জুয়ার আসর বসছে। স্থানীয়দের দাবি, এসব আসর থেকে নিয়মিত মাসোহারা আদায় করা হয় বলেই সেগুলো বন্ধ হচ্ছে না।

এ ছাড়া উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে চুরি ও গরু চুরির ঘটনা বেড়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। রাতের আঁধারে কৃষকের গোয়াল থেকে গরু নিয়ে পালিয়ে যাচ্ছে চোরচক্র। এসব ঘটনায় থানায় অভিযোগ করেও সাধারণ মানুষ প্রতিকার পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।

এ পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষ বাধ্য হয়ে মানববন্ধনের মতো কর্মসূচি পালন করছেন।

সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে বাহুবলের হরিতলা এলাকায় সরকারি মহাল থেকে সিলিকা বালু পাচার নিয়ে। স্থানীয়দের দাবি, দিন-রাত এক্সকাভেটর দিয়ে বালু উত্তোলন করে শত শত ট্রাকে করে তা পাচার করা হচ্ছে। এতে একদিকে সরকার কোটি টাকার রাজস্ব হারাচ্ছে, অন্যদিকে ভারী ট্রাক চলাচলের কারণে গ্রামীণ সড়কগুলো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, উপজেলার কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক সড়ক চোরাচালানের নিরাপদ ট্রানজিট হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। কী ধরনের পণ্য পাচার হচ্ছে এবং কারা এর সঙ্গে জড়িত, তা প্রশাসনের জানা থাকলেও রহস্যজনক কারণে কার্যকর অভিযান দেখা যাচ্ছে না বলে দাবি তাদের। এতে থানা পুলিশের ভূমিকা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।

এদিকে সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, কোনো সাংবাদিক অপরাধ বা বালু পাচার নিয়ে তথ্য সংগ্রহের জন্য প্রশাসনের কাছে গেলে কিছুক্ষণের মধ্যেই ওই সাংবাদিকের নাম-পরিচয় অপরাধীদের কাছে পৌঁছে যায়। এতে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা ঝুঁকির মুখে পড়ছে এবং তথ্যদাতাদের নিরাপত্তাও হুমকির মধ্যে পড়ছে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

এ অবস্থায় স্থানীয় সচেতন মহল মাদক ও জুয়ার বিরুদ্ধে দৃশ্যমান অভিযান, চুরি ও গরু চুরির ঘটনায় দ্রুত তদন্ত, অবৈধ বালু পাচার বন্ধ এবং চোরাচালান প্রতিরোধে জেলা প্রশাসন ও পুলিশ সুপারের সরাসরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন। একই সঙ্গে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং তথ্য ফাঁসের অভিযোগ তদন্তেরও আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

ঢাকা এক্সপ্রেস/এসএস

আরও পড়ুন