ঢাকা, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬

১ কার্তিক ১৪৩৩, ০৪ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮

যুব উন্নয়নের প্রশ্নফাঁসে জড়িত ৫ সরকারি কর্মচারীসহ গ্রেপ্তার ৭

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১৯:৩৭, ১৬ অক্টোবর ২০২৬ | আপডেট: ১৯:৪১, ১৬ অক্টোবর ২০২৬

যুব উন্নয়নের প্রশ্নফাঁসে জড়িত ৫ সরকারি কর্মচারীসহ গ্রেপ্তার ৭

ছবি : সংগৃহীত

যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সহকারী যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে পাঁচ সরকারি কর্মচারীসহ সাতজনকে গ্রেপ্তার করেছে এসআরবি। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে দুজন চাকরিপ্রত্যাশী।

আজ শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে এসআরবির মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান এসআরবি-৩-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল ফায়েজুল আরেফীন।

গ্রেপ্তার সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে রয়েছেন পরিবেশ অধিদপ্তরের একজন ডেটা এন্ট্রি অপারেটর, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) দুজন কম্পিউটার অপারেটর ও একজন অফিস সহায়ক এবং প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের একজন অফিস সহায়ক।

এসআরবি জানায়, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের কাছ থেকে স্ট্যাম্প, ব্যাংকের চেক, বিভিন্ন সনদ, জাতীয় পরিচয়পত্র, প্রবেশপত্র ও মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে চাকরিপ্রত্যাশীদের কাছ থেকে ৮ থেকে ১০ লাখ টাকা নেওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা ফেসবুকের মাধ্যমে প্রশ্নপত্র পাওয়ার দাবি করলেও এ বিষয়ে নির্ভরযোগ্য তথ্য দিতে পারেননি। প্রশ্নপত্র ফাঁসের মূল উৎস ও এর সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত করতে তদন্ত চলছে।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন পরিবেশ অধিদপ্তরের ডেটা এন্ট্রি অপারেটর মো. রুবেল ইসলাম, এনবিআরের কম্পিউটার অপারেটর এস এম ইমদাদুল ইসলাম ও জাহাঙ্গীর, অফিস সহায়ক নূর মোহাম্মদ, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অফিস সহায়ক আসাদুল ইসলাম এবং চাকরিপ্রত্যাশী মো. মফিজুল ইসলাম ও মো. হাসিনুর রহমান সুজন।

এসআরবি জানায়, গত ১৪, ১৫ ও ১৬ অক্টোবর রাজধানী ও আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। এ ঘটনায় গত ১১ অক্টোবর মতিঝিল থানায় মামলা করে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর।

যেভাবে ছড়ায় প্রশ্নপত্র

এসআরবি-৩-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল ফায়েজুল আরেফীন বলেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মোবাইল ফোনের চ্যাট পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, ১০ অক্টোবর ভোর ৪টা ৪৩ মিনিটে নূর মোহাম্মদ একটি সূত্রের মাধ্যমে প্রশ্নপত্রের অস্পষ্ট ছবি পান। পরে সকাল ৬টা ১৫ মিনিটে জাহাঙ্গীর তাঁকে প্রশ্নপত্রের স্পষ্ট ছবি পাঠান।

এরপর নূর মোহাম্মদ প্রশ্নপত্রের উত্তর তৈরি করে জাহাঙ্গীর ও ইমদাদুলকে পাঠান। পরে চক্রের সদস্য ও তাঁদের সঙ্গে যুক্ত পরীক্ষার্থীদের কাছে প্রশ্নপত্র ও উত্তর পৌঁছে দেওয়া হয়। এ কাজে আসাদুল, রুবেল, মফিজুল ও সুজন যুক্ত ছিলেন বলে জানায় এসআরবি।

তদন্তসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভাষ্য, চক্রটি হোয়াটসঅ্যাপে ভুয়া পরিচয় ব্যবহার করে এ ধরনের কর্মকাণ্ড চালাত। নূর মোহাম্মদ ও জাহাঙ্গীর ফেসবুকের মাধ্যমে প্রশ্নপত্র পাওয়ার দাবি করলেও তাঁরা যেসব গ্রুপ ও আইডির কথা বলেছেন, সেগুলো যাচাই করা হচ্ছে।

প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী জড়িত কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে ফায়েজুল আরেফীন বলেন, এখন পর্যন্ত অধিদপ্তরের কারও সরাসরি সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে অন্য সরকারি দপ্তরের কর্মচারীদের এ ঘটনায় জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া গেছে।

গত ১০ অক্টোবর যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সহকারী যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা পদের ২৪২টি শূন্যপদে নিয়োগের বাছাই পরীক্ষা হওয়ার কথা ছিল। এতে আবেদন করেন ৩ লাখ ১৯ হাজার চাকরিপ্রার্থী। সকাল ১১টায় পরীক্ষা শুরুর কথা থাকলেও ওই দিন সকাল ১০টা ৩ মিনিটে প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর পরীক্ষা স্থগিত করে কর্তৃপক্ষ।

ঢাকা এক্সপ্রেস/এসআই

আরও পড়ুন