ঢাকা, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬

১ কার্তিক ১৪৩৩, ০৪ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮

ফ্যামিলি ও কৃষক কার্ডে দারিদ্র্য কমার আশা, বলছে বিশ্বব্যাংক-আইএমএ

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১৫:০৭, ১৬ অক্টোবর ২০২৬ | আপডেট: ১৫:০৯, ১৬ অক্টোবর ২০২৬

ফ্যামিলি ও কৃষক কার্ডে দারিদ্র্য কমার আশা, বলছে বিশ্বব্যাংক-আইএমএ

প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা আজ ব্যাংককে আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংক গ্রুপের বার্ষিক সভার ফাঁকে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় করেন।

দীর্ঘস্থায়ী মূল্যস্ফীতি ও মধ্যপ্রাচ্যের সংকটে চাপে থাকা সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ কমাতে সরকারের ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড ও সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছে বিশ্বব্যাংক ও আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। এসব কর্মসূচির মাধ্যমে দারিদ্র্য হ্রাসের পাশাপাশি নতুন করে মানুষের দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমে যাওয়ার ঝুঁকিও কমানো সম্ভব হবে।

প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর আজ শুক্রবার থাইল্যান্ডের ব্যাংককে আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংক গ্রুপের বার্ষিক সভার ফাঁকে সাংবাদিকদের এ কথা জানান।

তিনি বলেন, দীর্ঘস্থায়ী মূল্যস্ফীতির কারণে বাংলাদেশে প্রায় ৮০ লাখ মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে চলে গেছে বলে বিশ্বব্যাংকের হিসাবে উঠে এসেছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। স্বাধীন গবেষণা সংস্থাগুলোর মূল্যায়ন অনুযায়ী, ফ্যামিলি কার্ড কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে দারিদ্র্য প্রায় ৫ শতাংশ কমতে পারে।

উপদেষ্টা বলেন, অতীতে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে উপকারভোগী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে ত্রুটি ছিল। প্রকৃত সহায়তাপ্রার্থীদের অনেকে তালিকায় স্থান পাননি, আবার অযোগ্য ব্যক্তিরাও সুবিধা পেয়েছেন। এ সমস্যা দূর করতে সরকার ডিজিটাল জনপরিকাঠামোর মাধ্যমে প্রকৃত উপকারভোগী শনাক্ত করার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে।

মধ্যপ্রাচ্যের সংকট ও জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব তুলে ধরে তিনি বলেন, এসব কারণে জ্বালানি, বিদ্যুৎ, এলএনজি ও সারের আমদানি ব্যয় বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। তবে সাধারণ মানুষের ওপর বাড়তি চাপ সীমিত রাখতে সরকার পদক্ষেপ নিচ্ছে। কৃষকদের স্বার্থ বিবেচনায় ডিজেলের দাম না বাড়ানোর বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ।

মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে শুধু কঠোর মুদ্রানীতি যথেষ্ট নয় উল্লেখ করে তিতুমীর বলেন, রাজস্ব ও আর্থিক খাতের সংস্কারও প্রয়োজন। সরকারের লক্ষ্য রাজস্ব আয় বাড়ানো, কর ফাঁকি ও কর জালিয়াতি কমানো এবং ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা।

তিনি জানান, গত অর্থবছরে রাজস্ব প্রবৃদ্ধি ছিল প্রায় ৩ শতাংশ। বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত সময়ে তা বেড়ে ১২ থেকে ১৩ শতাংশে পৌঁছেছে। সরকারের সংস্কার কার্যক্রমের অগ্রগতি ফলাফলের মাধ্যমে তুলে ধরার চেষ্টা চলছে।

ব্যাংকিং খাতের অনিয়ম ও অর্থ লুটপাটের কারণে প্রায় ৪০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের সমপরিমাণ আর্থিক ক্ষতির বিষয়টি উল্লেখ করে উপদেষ্টা বলেন, আমানতকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে কাজ চলছে। সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকে আমানতকারীদের অর্থ উত্তোলনের সুযোগ এবং একই সঙ্গে নতুন আমানত জমা দেওয়ার প্রবণতাকে তিনি আস্থা ফেরার ইতিবাচক ইঙ্গিত হিসেবে উল্লেখ করেন।

অর্থনীতি পুনরুদ্ধার, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং উৎপাদন ও রপ্তানি বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেন তিতুমীর। তিনি বলেন, বাংলাদেশকে উৎপাদনশিল্পের কেন্দ্র ও রপ্তানির প্রবেশদ্বার হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে সরকার কাজ করছে।

এর আগে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর নেতৃত্বে বাংলাদেশের একটি প্রতিনিধি দল বিশ্বব্যাংক, আইএমএফ, স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক ও ব্যাংক অব আমেরিকার কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করে।

বিশ্বব্যাংক গ্রুপ ও আইএমএফের ২০২৬ সালের বার্ষিক সভা ১২ থেকে ১৮ অক্টোবর থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সভায় বৈশ্বিক অর্থনীতি, দারিদ্র্য হ্রাস, উন্নয়ন অর্থায়ন, কর্মসংস্থান ও আর্থিক খাতের সংস্কার নিয়ে আলোচনা হচ্ছে।

ঢাকা এক্সপ্রেস/এসআই

আরও পড়ুন