শিরোনাম
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১১:৫৫, ১৬ অক্টোবর ২০২৬ | আপডেট: ১১:৫৬, ১৬ অক্টোবর ২০২৬
ছবি: ঢাকা এক্সপ্রেস
ইয়েমেনের সশস্ত্র গোষ্ঠী হুতিদের হামলার পর সৌদি আরবের রিয়াদ ও দাম্মামগামী ফ্লাইট বন্ধ থাকায় বিকল্প পথে দেশটিতে যাওয়ার চেষ্টা করছেন বাংলাদেশি যাত্রীরা। তাদের অনেকেই সৌদি আরব যেতে বেছে নিচ্ছেন জেদ্দা ও মদিনাগামী ফ্লাইট।
পরিস্থিতি সামাল দিতে মদিনা রুটে বড় উড়োজাহাজ যুক্ত করার পাশাপাশি জেদ্দা রুটে অতিরিক্ত ফ্লাইট পরিচালনার উদ্যোগ নিয়েছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস।
রিয়াদ ও দাম্মাম রুটে ফ্লাইট চলাচল স্থগিতের মেয়াদ ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত বাড়িয়েছে রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী সংস্থাটি। অন্যদিকে, বেসরকারি ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনস ২১ অক্টোবর পর্যন্ত রিয়াদগামী ফ্লাইট বাতিলের ঘোষণা দিয়েছে।
গত শনিবার হুতিদের হামলার পর রিয়াদের কিং খালেদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সব ধরনের ফ্লাইট চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এরপর মঙ্গলবার থেকে দাম্মামগামী ফ্লাইটও বন্ধ ঘোষণা করে সৌদি সরকার।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস জানিয়েছে, জরুরি প্রয়োজনে যাত্রীরা সৌদি আরবের জেদ্দা ও মদিনা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ব্যবহার করে দেশটিতে যাতায়াত করতে পারবেন।
যাত্রীদের চাহিদা বিবেচনায় মদিনা রুটে বোয়িং ৭৮৭ উড়োজাহাজের পরিবর্তে বোয়িং ৭৭৭ যুক্ত করা হয়েছে। এতে প্রতি ফ্লাইটে আসনসংখ্যা বেড়েছে ১৪৮টি। পাশাপাশি জেদ্দা রুটে অতিরিক্ত তিনটি ফ্লাইট পরিচালনার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এ বিষয়ে জানতে যাত্রীদের বিমানের টিকিট বিক্রয়কেন্দ্রে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।
টিকিট বদলাতে যাত্রীদের ভিড়
রিয়াদগামী ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় অনেক যাত্রীকে গন্তব্য পরিবর্তন করে জেদ্দা বা মদিনার টিকিট নিতে হচ্ছে। কেউ যাচ্ছেন ওমরাহ পালনে, আবার কেউ কাজের উদ্দেশ্যে সৌদি আরব যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। ফ্লাইট বাতিল ও টিকিট পরিবর্তনের কারণে বাড়তি ভোগান্তিতে পড়েছেন তারা।
লক্ষ্মীপুরের এক ব্যবসায়ী পরিবারের পাঁচ সদস্যকে নিয়ে ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে সৌদি আরব যাচ্ছেন। অন্যদিকে, প্রথমবারের মতো সৌদি আরবে যেতে যাওয়া এক যাত্রী রিয়াদের পরিবর্তে জেদ্দাগামী ফ্লাইট বেছে নিয়েছেন। সৌদি আরবের রিয়াদে একটি দোকানে কাজ করার কথা তার।
রিয়াদগামী আরও কয়েকজন যাত্রীকে টিকিট পরিবর্তনের জন্য ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরসংলগ্ন বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বলাকা কার্যালয়ে যেতে হয়েছে। তাদের কেউ ময়মনসিংহের ভালুকা থেকে এসেছেন। আবার কেউ নির্ধারিত ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় মদিনাগামী টিকিট নেওয়ার চেষ্টা করছেন।
১০৩ ফ্লাইটে বিঘ্ন, ক্ষতিগ্রস্ত ১৫ হাজার ৭৭৯ যাত্রী
ফ্লাইট চলাচলে বিঘ্নের কারণে গত শনিবার থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ঢাকা থেকে সরাসরি সৌদি আরবগামী এবং সৌদি আরব হয়ে চলাচলকারী ট্রানজিট ফ্লাইট মিলিয়ে মোট ১০৩টি ফ্লাইটের কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন ১৫ হাজার ৭৭৯ জন যাত্রী।
বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, সরাসরি ফ্লাইটের মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ১৭টি, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের ১০টি, সৌদিয়ার আটটি এবং রিয়াদ এয়ারের সাতটি ফ্লাইট চলাচল ব্যাহত হয়েছে। সব মিলিয়ে সরাসরি ফ্লাইটের সংখ্যা ৪২টি।
অন্যদিকে, ট্রানজিট ফ্লাইটের মধ্যে ইন্ডিগোর ২২টি, সালাম এয়ারের সাতটি, ইজিপ্ট এয়ারের একটি, এমিরেটসের ১৪টি, কাতার এয়ারওয়েজের আটটি, ফ্লাইদুবাইয়ের ছয়টি এবং এয়ার ইন্ডিয়ার তিনটি ফ্লাইট চলাচলে বিঘ্ন ঘটেছে। এসব ট্রানজিট ফ্লাইটের সংখ্যা ৬১টি।
ফলে রিয়াদ ও দাম্মামের পরিবর্তে জেদ্দা-মদিনা রুটে যাতায়াতের ওপর সৌদিগামী যাত্রীদের নির্ভরতা বাড়ছে। তবে রিয়াদ ও দাম্মাম রুটে নিয়মিত ফ্লাইট কবে চালু হবে, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো ঘোষণা পাওয়া যায়নি।
ঢাকা এক্সপ্রেস/এসএস