ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬

১৪ কার্তিক ১৪৩৩, ১৭ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮

তুরাগে সাবেক বিমান কর্মকর্তার মরদেহ উদ্ধার, সহপাঠীর পোস্টে আলোচনা

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১৫:৫৬, ২৯ অক্টোবর ২০২৬

তুরাগে সাবেক বিমান কর্মকর্তার মরদেহ উদ্ধার, সহপাঠীর পোস্টে আলোচনা

ছবি: ঢাকা এক্সপ্রেস

রাজধানীর তুরাগ নদীর ঘাটসংলগ্ন এলাকা থেকে বিমানবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সৌরির (২৮) মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তাঁর মৃত্যুর কারণ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দিয়েছেন সহপাঠী কেএসএম ইনতিসার ইনজিমাম। ব্যক্তিগত বিরোধ বা দুর্ঘটনার বিষয়টি স্পষ্টভাবে প্রমাণিত না হলে ঘটনাটিকে রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার দিক থেকে দেখবেন বলে পোস্টে উল্লেখ করেন তিনি। তবে মৃত্যুর কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) বিকেল আনুমানিক ৪টার দিকে রাজধানীর উত্তরখান থানার রাজাবাড়ীসংলগ্ন তুরাগ নদীর ঘাট এলাকা থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

তাহসিফের সহপাঠী কেএসএম ইনতিসার ইনজিমাম জানান, তাঁরা আদমজী কলেজে একসঙ্গে পড়াশোনা করেছেন। পরে বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমিতে ৭৯ বিএমএ ইক্যুইভ্যালেন্ট কোর্সে সহপাঠী ছিলেন তাঁরা।

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) রাত ২টা ২৯ মিনিটে ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে ইনজিমাম লেখেন, ‘ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তাহসিফ সাউরি। হাসিনার ভিডিও ভাইরাল করার সাথে জড়িত এই ছেলেটার লাশ আজকে তুরাগ নদীতে ভেসে আসছে। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। কাল বাদ আসর তার জানাজা। উত্তরায়।’

পোস্টে তিনি আরও দাবি করেন, তাহসিফ গত পরশু রাতে বাসা থেকে বের হওয়ার পর এ ঘটনা ঘটে। মরদেহের ছবিতে হাতে কাদা থাকার বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি লেখেন, মৃত্যুর পেছনে ব্যক্তিগত বিরোধ বা দুর্ঘটনার বিষয়টি স্পষ্টভাবে প্রমাণিত না হলে তিনি ঘটনাটিকে রাজনৈতিক বলে ধরে নেবেন।

তাহসিফের সঙ্গে নিজের বন্ধুত্বের স্মৃতিচারণ করে ইনজিমাম লেখেন, আদমজী কলেজে তাঁরা বন্ধু ছিলেন। পরে বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমিতে একই কোর্সে অংশ নেন। তাঁদের আদর্শগত পার্থক্য থাকলেও তাহসিফ তাঁর কথা মনোযোগ দিয়ে শুনতেন বলে উল্লেখ করেন তিনি।

ইনজিমামের দাবি, ৫ আগস্টের ঘটনার একটি ভিডিও ফাঁস হওয়ার পর তাহসিফকে বিভিন্নভাবে মানহানির শিকার হতে হয়েছিল। তাঁর ধারণা, ওই ভিডিও ফাঁসের ঘটনার সঙ্গে তাহসিফের মৃত্যুর কোনো যোগসূত্র থাকতে পারে। তবে তাঁর এসব বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া ব্যক্তিগত দাবি; এর সত্যতা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, তাহসিফ মাঝেমধ্যে তুরাগ নদীর ওই ঘাট এলাকায় যেতেন। স্থানীয় বাসিন্দারা ছোট নৌকায় নদী পারাপারের জন্য ঘাটটি ব্যবহার করেন। ঘটনার দিনও তিনি উত্তরার বাসা থেকে সেখানে গিয়েছিলেন বলে জানা গেছে।

পরিবারের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, ঘটনার দিন তাহসিফ এক জুনিয়র বন্ধুর সঙ্গে বাইরে বের হয়েছিলেন। এরপর তিনি আর বাসায় ফেরেননি। পরিবারের সদস্যরা তাঁর খোঁজ শুরু করার পর নদীর ঘাটসংলগ্ন এলাকা থেকে মরদেহ উদ্ধারের খবর পান।

পুলিশ জানিয়েছে, মরদেহের অবস্থান এবং শরীরে আঘাতের চিহ্ন না থাকার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। বিষক্রিয়া, শ্বাসরোধ কিংবা অন্য কোনো কারণে তাঁর মৃত্যু হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ময়নাতদন্ত ও ফরেনসিক পরীক্ষার প্রতিবেদন পাওয়ার আগে মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে চায় না পুলিশ।

মরদেহ উদ্ধারের পর ঘটনাস্থলে সিআইডির ফরেনসিক দল গিয়ে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করে। পাশাপাশি পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) তদন্তে যুক্ত হয়েছে। ঘটনাস্থলের পরিস্থিতি, মরদেহের অবস্থান ও উদ্ধার করা আলামত বিশ্লেষণ করা হচ্ছে।

তদন্তের অংশ হিসেবে তাহসিফের সঙ্গে সর্বশেষ বাইরে যাওয়া ব্যক্তির বিষয়টিও খতিয়ে দেখছে পুলিশ। ঘটনার দিন তাঁরা কোথায় গিয়েছিলেন, কার সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন এবং এরপর কী ঘটেছিল, সে বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।

ঢাকা এক্সপ্রেস/এসআই

আরও পড়ুন