শিরোনাম
ঝিনাইদহ প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৯:৫০, ২৪ অক্টোবর ২০২৬
ছবি: ঢাকা এক্সপ্রেস
ঝিনাইদহের সদর উপজেলায় পরকীয়ার অপবাদ দিয়ে এক নারীর মাথার চুল কেটে শরীরে মরিচের গুঁড়া লাগিয়ে নির্যাতনের ঘটনায় মামলার প্রধান আসামিসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শনিবার (২৪ অক্টোবর) দুপুরে হরিণাকুণ্ডু ও সদর উপজেলায় অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন সদর উপজেলার করাতীপাড়া গ্রামের আনোয়ার হোসেনের স্ত্রী আন্নি খাতুন (৪৫) ও তাঁর ছেলে অনি হোসেন (২৬)।
ঝিনাইদহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া) শেখ বিল্লাল হোসেন জানান, এ ঘটনায় মামলা হওয়ার পর পুলিশের সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন টিম, গোয়েন্দা পুলিশ ও সদর থানা পুলিশ আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু করে। গোপন তথ্যের ভিত্তিতে হরিণাকুণ্ডু উপজেলার কাপাশহাটিয়া গ্রামের একটি বাড়ি থেকে আন্নি খাতুনকে গ্রেপ্তার করা হয়। অনি হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয় সদর উপজেলা থেকে। মামলার অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
পুলিশ ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা গেছে, আনোয়ার হোসেনের সঙ্গে পরকীয়ার সম্পর্ক রয়েছে—এমন সন্দেহের জেরে তাঁর স্ত্রী, দুই মেয়ে ও ছেলে ওই নারীর বাড়িতে গিয়ে নির্যাতন করেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, বৃহস্পতিবার দুপুরে তিনি নিজ বাড়িতে অবস্থান করছিলেন। এ সময় পার্শ্ববর্তী নারায়ণপুর গ্রামের আব্দুর রশিদ তাঁর বাড়িতে গিয়ে আনোয়ার হোসেনের সঙ্গে পরকীয়ার সম্পর্কের অভিযোগ তুলে তাঁকে শাসিয়ে চলে যান। কিছুক্ষণ পর আনোয়ার হোসেনের স্ত্রী, দুই মেয়ে ও ছেলে তাঁর বাড়িতে প্রবেশ করেন। একপর্যায়ে তাঁরা তাঁর মাথার চুল কেটে শরীরে মরিচের গুঁড়া লাগিয়ে দেন।
তাঁর চিৎকার শুনে পরিবারের সদস্যরা এগিয়ে এসে তাঁকে উদ্ধার করেন এবং স্থানীয় এক পল্লিচিকিৎসকের কাছে নিয়ে চিকিৎসা করান। পরে ওই রাতেই পাঁচজনকে আসামি করে ঝিনাইদহ সদর থানায় মামলা করেন ভুক্তভোগী।
ঝিনাইদহ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আসাদুজ্জামান বলেন, নারী নির্যাতনের অভিযোগে করা মামলায় প্রধান আসামিসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। অন্য অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারেও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
ঢাকা এক্সপ্রেস/এসআই