শিরোনাম
বরগুনা প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১১:২১, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ছবি: ঢাকা এক্সপ্রেস
আর মাত্র কয়েক মাস পরেই স্থানীয় সরকার নির্বাচন। এ নির্বাচনকে ঘিরে বরগুনার আমতলী উপজেলার ১ নম্বর গুলিশাখালী ইউনিয়নের রাজনৈতিক অঙ্গনে এখন সবচেয়ে বেশি আলোচিত নাম তৃণমূলের পরীক্ষিত নেতা মো. তোফাজ্জেল হোসেন।
দীর্ঘ ২৫ বছরের বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবন, জেল-জুলুম ও ত্যাগের কারণে তিনি আজ গুলিশাখালীর সাধারণ মানুষের আস্থার প্রতীক হয়ে উঠেছেন। এবার তিনি ইউনিয়নবাসীর সেবা করার জন্য চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চান।
তোফাজ্জেল হোসেন ১ নম্বর গুলিশাখালী ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের খেকুয়ানী গ্রামের মৃত আঃ গনি হাওলাদারের ছেলে। শিক্ষাগত যোগ্যতায় তিনি বি.এ পাস। এলাকায় তিনি একজন সৎ, নির্লোভ ও সমাজসেবক হিসেবে পরিচিত।
শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে তিনি ছাত্রজীবন থেকেই জাতীয়তাবাদী রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হন। তার রাজনৈতিক পথচলা দীর্ঘ ২৫ বছরের ও সংগ্রামমুখর।
২০০২ সালে তিনি ১ নম্বর গুলিশাখালী ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব শুরু করেন। সাংগঠনিক দক্ষতার কারণে ২০০৪ সালে তিনি পুনরায় সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। এরপর ২০১৩ সালের ১১ অক্টোবর তিনি ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
২০২৪ থেকে ২০২৬ পর্যন্ত বর্তমানে তিনি আমতলী উপজেলা বিএনপির পূর্ণাঙ্গ আহ্বায়ক কমিটির অন্যতম যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন।
ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের বিগত ১৭ বছরের শাসনামল ছিল তোফাজ্জেল হোসেনের জন্য এক কঠিন অগ্নিপরীক্ষা। তার দাবি, শুধুমাত্র বিএনপি করার অপরাধে তার বিরুদ্ধে আমতলী থানায় ২০১৩, ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালে একাধিক মিথ্যা ও গায়েবি মামলা দায়ের করা হয়।
তিনি বলেন, এসব মামলায় আমাকে একাধিকবার রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে, চারবার কারাবরণ করতে হয়েছে। মাসের পর মাস বাড়ি ছাড়া ছিলাম। কিন্তু আমি দলের আদর্শ বিক্রি করিনি, দল ছেড়ে পালাইনি।
স্থানীয়রা বলেন, দলের দুঃসময়ে তোফাজ্জেল ভাইকে আমরা সব সময় মাঠে পেয়েছি। তিনি আমাদের সুখে-দুঃখে থাকেন। তিনি একজন ভালো মানুষ। আমরা তার মতো সৎ চেয়ারম্যান চাই, যিনি আমাদের সরকারি ভাতা মেরে খাবেন না।
তার ভাই মরহুম এবিএম সিদ্দিকুর রহমান দীর্ঘদিন ১ নম্বর গুলিশাখালী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হিসেবে সৎ ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন। সেই ক্ষেত্রে তার পরিবারের প্রতিটি ওয়ার্ডে ব্যাপক ভোটব্যাংক রয়েছে। তারই ধারাবাহিকতায় গুলিশাখালী ইউনিয়নে সব প্রার্থীর চেয়ে বিপুল ভোটে তিনি এগিয়ে আছেন। তাকে দল থেকে মনোনয়ন দিলে তিনি বিপুল ভোটের ব্যবধানে জয়লাভ করবেন। তাতে কোনো সন্দেহ নেই।
এ প্রসঙ্গে মো. তোফাজ্জেল হোসেন বলেন, “আমি চেয়ারম্যান হতে চাই না, আমি গুলিশাখালীর মানুষের খাদেম হতে চাই। আমি নির্বাচিত হলে আমার প্রথম কাজ হবে—
১. গুলিশাখালীকে মাদক, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজমুক্ত করা।
২. বাল্যবিবাহমুক্ত ও ১০০ শতাংশ শিক্ষাবান্ধব ইউনিয়ন গড়া।
৩. বয়স্ক, বিধবা ও প্রতিবন্ধী ভাতাসহ সব সরকারি সেবা বিনামূল্যে ও স্বচ্ছতার সঙ্গে মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া।
৪. তরুণ সমাজের জন্য খেলাধুলা ও কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা।
তৃণমূলের এই ত্যাগী নেতা এখন দলীয় মনোনয়ন পেতে আশাবাদী। তার বিশ্বাস, দল তার ২৫ বছরের ত্যাগের মূল্যায়ন করবে।
ঢাকা এক্সপ্রেস/এসএস