ঢাকা, শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬

২২ কার্তিক ১৪৩৩, ২৫ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮

ইরানের বাকি অংশ ধ্বংসের হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ: ০৮:৩৫, ৬ নভেম্বর ২০২৬

ইরানের বাকি অংশ ধ্বংসের হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের

ছবি: সংগৃহীত

ইরানের বাকি অংশও ধ্বংস করে দিতে হতে পারে বলে নতুন করে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, সম্ভব হলে দেশটির বাকি অংশ ধ্বংস করতে চান না। তবে পরিস্থিতি বিবেচনায় তাকে হয়তো সে পথেই যেতে হবে। এ বিষয়ে শিগগিরই জানা যাবে বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।

এদিকে ইরানকে ধ্বংসের হুমকির সমালোচনা করেছেন মার্কিন কংগ্রেস সদস্যরা। তাদের একজনের মতে, যুদ্ধ বন্ধের সিদ্ধান্ত এখন আর শুধু ট্রাম্পের হাতে নেই। অর্থ বরাদ্দের ক্ষমতা কাজে লাগিয়ে কংগ্রেসও এ যুদ্ধের অবসান ঘটাতে পারে। ডেমোক্র্যাট কংগ্রেস সদস্য ও সাবেক এক আর্মি রেঞ্জারও বলেছেন, ‘এই যুদ্ধের অবসান ঘটাতেই হবে।’

সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা জানায়, বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ইরানে সম্ভাব্য হামলা নিয়ে কথা বলেন ট্রাম্প। তার ধারণা, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধের পর ইরানের নিজেকে পুনর্গঠনে ২৫ বছর সময় লাগবে। তিনি বলেন, ‘সম্ভব হলে আমি দেশটির বাকি অংশ ধ্বংস করতে চাই না। কিন্তু হয়তো আমাকে তা করতে হবে। খুব শিগগিরই আপনারা জানতে পারবেন।’

হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এদিন আরও কিছু মন্তব্য করেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেন, আট মাসের বেশি সময় ধরে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে জড়িত যুক্তরাষ্ট্র এখন দেশটিতে ‘যা কিছু নিয়ন্ত্রণে নিতে চেয়েছিল, সবই’ নিয়ন্ত্রণ করছে। তিনি বলেন, ‘আমরা আরও এগোব কি না, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেব।’

তেহরান থেকে পাঠানো একটি পারমাণবিক প্রস্তাব সম্পর্কে জানতে চাইলে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের ‘অনুমোদন ছাড়া’ ইরান তার পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে কিছুই করতে পারবে না।

এদিকে ইরানে আরও হামলা চালানোর হুমকি দেওয়ায় ট্রাম্পের সমালোচনা করেছেন মার্কিন কংগ্রেস সদস্য ইয়াসামিন আনসারি। তার অভিযোগ, ৯ কোটি মানুষের একটি দেশকে ধ্বংস করে দেওয়ার হুমকি দিচ্ছেন ট্রাম্প।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে আনসারি লিখেছেন, ‘তিনি আবারও ৯ কোটি মানুষের একটি দেশকে নিশ্চিহ্ন করে দেওয়ার হুমকি দিচ্ছেন। এটি মানবতাবিরোধী অপরাধ।’

ট্রাম্পের ‘বেপরোয়া ও নিজের পছন্দে শুরু করা যুদ্ধ’ বন্ধে ডেমোক্র্যাটদের জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বানও জানিয়েছেন তিনি। আনসারি বলেন, ‘প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটে আবার নিয়ন্ত্রণ ফিরে পাওয়ার পর ট্রাম্পের এই বেপরোয়া যুদ্ধ বন্ধে ডেমোক্র্যাটদের জরুরি ভিত্তিতে কাজ করতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘অনেক হয়েছে, আর নয়।’ ট্রাম্প ইরানের বাকি অংশ ধ্বংস করতে চান না বলার পরও প্রয়োজনে তা করতে হতে পারে বলে হুঁশিয়ারি দেওয়ার পরই এসব মন্তব্য করেন আনসারি।

অন্যদিকে, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ কখন শেষ হবে, সে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা এখন আর শুধু ট্রাম্পের হাতে নেই বলে মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের এক কংগ্রেস সদস্য। মধ্যবর্তী নির্বাচনে ট্রাম্পের দল রিপাবলিকান পার্টি প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট—উভয় কক্ষেই নিয়ন্ত্রণ হারানোর পর তিনি এ কথা বলেন।

কলোরাডোর ডেমোক্র্যাট কংগ্রেস সদস্য ও সাবেক আর্মি রেঞ্জার জেসন ক্রো বলেন, ‘অর্থ বরাদ্দের ক্ষমতা আমাদের হাতে। কীভাবে অর্থ ব্যয় হবে, তা আমরা নির্ধারণ করতে পারি। আর যুদ্ধ চালাতে অর্থের প্রয়োজন হয়। এ পর্যন্ত করদাতাদের প্রায় ১০০ বিলিয়ন ডলার ব্যয় করা হয়েছে। তাই আমরা এই অর্থের প্রবাহ বন্ধ করে দিতে পারি।’

আল জাজিরাকে ক্রো বলেন, ‘রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট—দুই দলেরই বিপুলসংখ্যক মার্কিন নাগরিক এই যুদ্ধের অবসান চান। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে এটি এমন একটি ইস্যু, যেখানে দুই দলের মধ্যে ব্যাপক ঐকমত্য রয়েছে। আসলে এ কারণেই ডোনাল্ড ট্রাম্প বছরের পর বছর মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ বন্ধের প্রতিশ্রুতি দিয়ে নির্বাচনী প্রচার চালিয়েছেন। কারণ, তিনি জানেন, এটাই মার্কিন নাগরিকদের চাওয়া।’

তিনি আরও বলেন, ‘এই যুদ্ধের অবসান ঘটাতেই হবে। আর মার্কিন নাগরিকদের বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশও সেটাই চায়।’

ঢাকা এক্সপ্রেস/এসএস

আরও পড়ুন