শিরোনাম
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ০৮:৫১, ১ নভেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ০৯:০২, ১ নভেম্বর ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
দখলদার ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে ক্ষমতা থেকে সরাতে প্রধান বিরোধী দলকে আরব দলগুলোর সঙ্গে সমঝোতায় আসার আহ্বান জানিয়ে রাজধানী তেল আবিবের রাজপথে নেমেছেন হাজার হাজার মানুষ।
শনিবারের এই বিক্ষোভে অংশ নেওয়া আন্দোলনকারীরা ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপিকে জানান, এটিই হয়তো দেশটিতে ‘প্রকৃত পরিবর্তনের শেষ সুযোগ’। তারা নেতানিয়াহুকে ইসরায়েলের ইতিহাসে দীর্ঘতম মেয়াদে দায়িত্ব পালনকারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে তাকে ‘বড় চালবাজ’ বলে আখ্যা দেন।
ইসরায়েলের প্রধান বিরোধী নেতা গাদি আইজেনকোট এর আগে দেশটির আরব দলগুলোর সঙ্গে জোট গঠনের সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছিলেন। তবে মঙ্গলবারের নির্বাচনের পর নতুন করে যে রাজনৈতিক অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে, তাতে আরব দলগুলোর সমর্থন পেলে তার পক্ষে সরকার গঠন করা সম্ভব হতে পারে।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিনিধি নূর ওদেহ শনিবার রামাল্লা থেকে জানান, মানুষ সত্যিই চায় এই ভোটের মাধ্যমে পরিবর্তনের একটি পথ বের হোক। তারা বিশ্বাস করে, গাদি আইজেনকোট ও ইহুদি-ইসরায়েলি অন্য নেতাদের সাধারণ মানুষের এই জোরালো দাবি মেনে নেওয়া উচিত।
ওদেহ আরও জানান, এই বিক্ষোভের পাশাপাশি পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি নিয়ে হাজির হয়েছিলেন নেতানিয়াহুর সমর্থকরাও। তাদের চিৎকার করে বলতে শোনা যায়, ‘তথাকথিত সন্ত্রাসীদের সঙ্গে নিয়ে ইসরায়েলে কোনো সরকার গঠন করা যাবে না।’
মঙ্গলবারের নির্বাচনে ১২০ আসনের ইসরায়েলি পার্লামেন্ট নেসেটে নেতানিয়াহুর জোট ৫৩টি আসন পেয়েছে। অন্যদিকে আইজেনকোটের জোট পেয়েছে ৪৮টি আসন। ফলে কোনো পক্ষই এককভাবে সরকার গঠনের মতো সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারেনি।
তবে এই নির্বাচনে উল্লেখযোগ্য সাফল্য পেয়েছে আরব নেতৃত্বাধীন তিনটি দল। একজোট হয়ে তারা মোট ১৯টি আসনে জয়লাভ করেছে।
ইসরায়েলের কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, নির্বাচনে ‘রাআম’ এবং আরব নেতৃত্বাধীন তিন দলের জোট ‘জয়েন্ট লিস্ট’-এর পক্ষে পড়েছে প্রায় ৮ লাখ ৪০ হাজার ভোট। ২০২২ সালের শেষ নির্বাচনের তুলনায় এই ভোট প্রায় ৬৪ শতাংশ বেশি।
আরব দলগুলোর এই জয়ের ফলে আইজেনকোট তাদের সঙ্গে জোট গঠন করলে ৬৭টি আসনের সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবেন। তবে ইসরায়েলের রাজনৈতিক অঙ্গনে অনেক ইহুদির কাছে আরবদের সঙ্গে জোট গঠনের বিষয়টি এখনো রাজনৈতিকভাবে অগ্রহণযোগ্য বা মেনে নেওয়া কঠিন।
এদিকে নেতানিয়াহু ফিলিস্তিনি-ইসরায়েলি দলগুলোর বিরুদ্ধে কাতার থেকে অর্থ এনে নির্বাচন ‘চুরি’ করার চেষ্টা করার অভিযোগ তুলেছেন। তবে কাতার এই অভিযোগ অস্বীকার করে একে ভুয়া ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচার বলে উড়িয়ে দিয়েছে।
সাংবাদিক নূর ওদেহ বলেন, ইসরায়েলের চরম ডানপন্থি গোষ্ঠীগুলো ফিলিস্তিনি-ইসরায়েলিদের এই ঐতিহাসিক ভোট প্রদানকে ‘নির্বাচনি সন্ত্রাসবাদ’ বলে আখ্যা দিচ্ছে। এমনকি তারা একে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার সঙ্গে তুলনা করছে। সেদিন হামাস যোদ্ধারা দক্ষিণ ইসরায়েলে আক্রমণ চালিয়ে ১ হাজার ২০০-এর বেশি মানুষকে হত্যা এবং শতাধিক মানুষকে জিম্মি করে নিয়ে যায়।
নূর ওদেহ আরও বলেন, ফিলিস্তিনি-ইসরায়েলিদের ভোট ও কণ্ঠস্বর এখন আক্রমণের নিশানা হয়ে উঠেছে। কারণ, আইজেনকোট সরকার গঠন করতে পারবেন কি না, তা নির্ধারণের গুরুত্বপূর্ণ চাবিকাঠি এখন তাদের হাতেই রয়েছে।
ঢাকা এক্সপ্রেস/এসএস