শিরোনাম
নোয়াখালী প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৩:০১, ৬ অক্টোবর ২০২৬
মো. আমির হোসেন ওরফে ইলিয়াস
জীবিকার তাগিদে সৌদি আরবে যাওয়ার মাত্র আট দিন পর নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী থানায় দায়ের করা একটি মামলায় আসামি হয়েছেন মো. আমির হোসেন ওরফে ইলিয়াস (৩৯) নামে এক যুবক।
তার দাবি, যে সময়ের ঘটনায় তাঁকে আসামি করা হয়েছে, তখন তিনি সৌদি আরবের জেদ্দায় অবস্থান করছিলেন।
ইলিয়াস সোনাইমুড়ী উপজেলার আমিশাপাড়া ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের আবিরপাড়া-শোকরপুর গ্রামের নতুন বাড়ির শামছুল হকের ছেলে।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ১২ সেপ্টেম্বর জীবিকার তাগিদে সৌদি আরবে যান ইলিয়াস। এর আট দিন পর, ২০ সেপ্টেম্বর সোনাইমুড়ী থানায় দায়ের করা একটি মামলায় তাঁকে ১২ নম্বর আসামি করা হয়। ওই মামলায় মোট ১৭ জনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, ১৯ সেপ্টেম্বর ভোর ৫টা থেকে সকাল ৬টার মধ্যে সোনাইমুড়ী হাইওয়ে সড়কে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের একটি ঝটিকা মিছিল অনুষ্ঠিত হওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে মামলা দায়ের করে।
তবে মামলার আসামি ইলিয়াসের দাবি, ঘটনার সময় তিনি বাংলাদেশে ছিলেন না। গত ১২ সেপ্টেম্বর সৌদি আরবে যাওয়ার পর থেকে তিনি জেদ্দায় অবস্থান করছিলেন। ফলে ১৯ সেপ্টেম্বরের ওই ঘটনার সঙ্গে তাঁর সম্পৃক্ততার প্রশ্নই আসে না বলে দাবি তাঁর।
গণমাধ্যমের কাছে ইলিয়াস বলেন, তিনি একসময় স্থানীয় যুবলীগের কর্মী ছিলেন। রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে তাঁকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মামলায় আসামি করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
ইলিয়াসের ভাষ্য, সৌদি আরবে যাওয়ার পর তিনি জানতে পারেন, বাংলাদেশে একটি মামলায় তাঁকে আসামি করা হয়েছে। বিষয়টি জানার পর তিনি বিস্মিত হন। ঘটনার সময় তিনি বিদেশে অবস্থান করছিলেন—এমন প্রমাণপত্রও রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
এদিকে ইলিয়াসের আরও অভিযোগ, মামলা থেকে তাঁর নাম বাদ দেওয়ার কথা বলে স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। এজন্য তাঁর কাছে টাকা দাবি করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। টাকা দিলে মামলা থেকে নাম বাদ দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে—এমন কথাও তাঁকে বলা হয়েছে বলে দাবি তাঁর।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
ঘটনাটির সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং ঘটনার সময় তাঁর অবস্থান যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও নোয়াখালীর পুলিশ সুপারের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ইলিয়াস।
এ বিষয়ে সোনাইমুড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কবির হোসেন বলেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এখন তদন্তের মাধ্যমে যাচাই হবে, মামলায় উল্লেখ করা ঘটনার সময় ইলিয়াস সত্যিই সৌদি আরবে ছিলেন কি না এবং তিনি ওই ঘটনার সঙ্গে কোনোভাবে সম্পৃক্ত ছিলেন কি না।
ঢাকা এক্সপ্রেস/এসএস