শিরোনাম
ময়মনসিংহ প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১১:৫৫, ২১ অক্টোবর ২০২৬
ছবি: ঢাকা এক্সপ্রেস
ময়মনসিংহের ত্রিশাল ও ফুলবাড়ীয়া উপজেলার অন্যতম সংযোগস্থল পোড়াবাড়ী বাজারসংলগ্ন খীরু নদীর ওপর কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে একটি দৃষ্টিনন্দন পিসি গার্ডার সেতু নির্মাণ করা হয়েছে।
তবে সংযোগ সড়কের অভাবে সেতুটি সাধারণ মানুষের চরম দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সেতুর মূল অবকাঠামোর কাজ প্রায় শেষ হলেও দুই প্রান্তে সংযোগ সড়ক না থাকায় স্থানীয় বাসিন্দাদের কাঠের মই বেয়ে সেতুতে ওঠানামা করতে হচ্ছে।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ সরকার ও বিশ্বব্যাংকের যৌথ অর্থায়নে ‘প্রোগ্রাম ফর সাপোর্টিং রুরাল ব্রিজেস’ প্রকল্পের আওতায় ত্রিশাল-আছিম সড়কের মঠবাড়ী ইউনিয়নের পোড়াবাড়ী বাজার এলাকায় সেতুটি নির্মাণ করা হয়েছে। সেতুটির দৈর্ঘ্য ৭০ মিটার। এর প্রাক্কলিত ব্যয় ৮ কোটি ৬৮ লাখ টাকা। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এমসিই-এমএলএম (জেভি)। কাজ শুরু হয় ২০২২ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি। প্রকল্পের কাজ শেষ করার নির্ধারিত সময় ছিল ২০২৩ সালের ২৬ আগস্ট। তবে জমিসংক্রান্ত জটিলতায় তিন দফা সময় বাড়ানো সত্ত্বেও কাজটি ঝুলে আছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, ময়মনসিংহ জেলা সদর থেকে প্রায় ২৯ কিলোমিটার এবং ত্রিশাল উপজেলা সদর থেকে ১১ কিলোমিটার দূরের পোড়াবাড়ী বাজার এলাকায় নির্মিত নতুন সেতুর এক প্রান্তে বসতঘর, অন্য প্রান্তে দোকানপাট রয়েছে। সেতুর দুই পাশে সংযোগ সড়ক তৈরি না হওয়ায় এর ওপর ওঠানামার কোনো স্বাভাবিক পথ নেই।
ফলে পথচারী ও স্থানীয় শিক্ষার্থীদের বাধ্য হয়ে কাঠের তৈরি উঁচু মই বেয়ে সেতুতে উঠতে হচ্ছে। অন্য প্রান্তে নেমে তারা যাতায়াত করছেন। বিশেষ করে নারী, শিশু ও বয়স্কদের জন্য এভাবে ঝুঁকি নিয়ে মই বেয়ে নদী পার হওয়া অত্যন্ত বিপজ্জনক হয়ে দাঁড়িয়েছে।
অন্যদিকে, নদী পারাপারের জন্য পাশে থাকা প্রায় তিন দশকের পুরোনো ও জরাজীর্ণ বেইলি সেতুটির স্টিলের পাটাতন ভেঙে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে হেলেদুলে সেই পুরোনো ও ভঙ্গুর সেতু দিয়েই দূরপাল্লার বাস-ট্রাকসহ ভারী যানবাহন চলাচল করছে। এতে যেকোনো মুহূর্তে ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা রয়েছে।
স্থানীয় পথচারী হাসেন আলী বলেন, “ভাঙা বেইলি ব্রিজ দিয়া হাঁটতে ভয় লাগে, হ্যার লাইগা মই দিয়া নতুন ব্রিজে উঠি। দীর্ঘদিন ধইরা এভাবে মই বেয়ে পারাপার করতাছি, জানি না কবে এই নতুন ব্রিজ চালু অইব।”
পোড়াবাড়ী উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নাফিজা ইসলাম উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, “পুরোনো জরাজীর্ণ বেইলি সেতুটি যেকোনো সময় ভেঙে পড়তে পারে। ভয় পেয়ে আমরা মই দিয়ে পাকা সেতুতে উঠি। দ্রুত সংযোগ সড়ক তৈরি করে পাকা সেতু চালু না করলে দুই উপজেলার যোগাযোগ পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে।”
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এমসিই-এমএলএম জেভির ব্যবস্থাপক মকবুল হোসেন এ বিষয়ে বলেন, “আমাদের সেতুর মূল কাঠামোর কাজ আগেই শেষ হয়েছে। কিন্তু প্রশাসন জমি অধিগ্রহণ করে জমি বুঝিয়ে দিতে না পারায় আমরা সংযোগ সড়কের কাজ শেষ করতে পারছি না। কাজের মেয়াদ বারবার বাড়ায় এবং সঠিক সময়ে কাজ সম্পন্ন করতে না পেরে আমরা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান হিসেবেও আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছি।”
জমির মালিকদের ক্ষতিপূরণের টাকা পরিশোধ না হওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করে ত্রিশাল উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রকৌশলী যুবায়েত হোসেন বলেন, “জমি অধিগ্রহণের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ ইতিমধ্যে ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে জমা দেওয়া হয়েছে। জমির মালিকদের দ্রুত এই ক্ষতিপূরণের টাকা পরিশোধ করা হলে ঠিকাদারকে জমি হস্তান্তর করা যাবে এবং তাৎক্ষণিকভাবে সংযোগ সড়কের কাজ শুরু করা সম্ভব হবে।”
আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও জমি অধিগ্রহণের অর্থ ছাড়ে দীর্ঘসূত্রতার কারণে সাড়ে আট কোটি টাকার বেশি ব্যয়ে নির্মিত একটি সরকারি সম্পদ এখনো সাধারণ মানুষের পুরোপুরি কাজে আসছে না। অবিলম্বে জেলা প্রশাসন ও এলজিইডির সমন্বয়ে ক্ষতিপূরণ পরিশোধ করে সংযোগ সড়ক নির্মাণের কাজ শেষ এবং সেতুটি জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করার জোর দাবি জানিয়েছেন দুই উপজেলার বাসিন্দারা।
ঢাকা এক্সপ্রেস/এসএস