শিরোনাম
ময়মনসিংহ প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১১:৪০, ২ নভেম্বর ২০২৬
ছবি: ঢাকা এক্সপ্রেস
জুমার খুতবায় বিষয়ভিত্তিক আলোচনা করতে গিয়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ‘স্বৈরাচার’ বলেন এক খতিব। এ অভিযোগে তাকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়েছে মসজিদ কমিটি। ঘটনার সাত দিন পর গত ৩১ অক্টোবর তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে অব্যাহতি দেওয়া হয়।
ময়মনসিংহের নান্দাইল পৌরসভার বাইতুল মাহফুজ পুরাবাড়িয়া মোড় জামে মসজিদের এ ঘটনা ঘটে। অব্যাহতি দেওয়া হয় খতিব মাওলানা মোজাহিদুল ইসলামকে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২৪ অক্টোবর শুক্রবার জুমার নামাজের খুতবায় ‘মূর্তি ও ভাস্কর্যের ইতিহাস-ঐতিহ্য এবং তা থেকে মুসলমানদের উত্তরণ’ বিষয়ে আলোচনা করছিলেন খতিব মাওলানা মোজাহিদুল ইসলাম। আলোচনার একপর্যায়ে শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্যের প্রসঙ্গ টেনে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ‘স্বৈরাচার’ বলে মন্তব্য করেন তিনি। এ বক্তব্যকে কেন্দ্র করে মসজিদ কমিটির মধ্যে আপত্তি ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়। পরে ৩১ অক্টোবর মসজিদ কমিটির বৈঠকে তাকে খতিবের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়।
দায়িত্ব থেকে অব্যাহতির বিষয়টি নিশ্চিত করে মাওলানা মোজাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘আমি কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত নই। জুমার খুতবায় বিষয়ভিত্তিক আলোচনা করতে গিয়ে কেবল উদাহরণ হিসেবে ওই মন্তব্যটি করেছিলাম। মসজিদ কমিটির সভাপতি আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। তিনি রাজনৈতিক প্রতিহিংসাবশত কোনো আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দিয়েই আমাকে অন্যায়ভাবে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়েছেন।’
খতিবের রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অভিযোগ অস্বীকার করে মসজিদ কমিটির সভাপতি ফেরদৌস ভূঁইয়া বলেন, ‘খতিব সরাসরি জামায়াতের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। প্রায় এক বছর আগে স্থানীয় এক ছাত্রদল নেতা সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নামে দোয়া করতে বললেও তিনি তা করেননি। তা ছাড়া তিনি প্রায়ই মসজিদের ভেতরে রাজনৈতিক বিষয় নিয়ে আলোচনা করতেন। গত জুমার খুতবায় সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে ‘স্বৈরাচার’ বলার বিষয়টি নিয়ে সাধারণ মুসল্লিদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ তৈরি হয়। তাই কমিটির সবার সর্বসম্মতিক্রমেই তাকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।’
ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর নান্দাইলের স্থানীয় মুসল্লি ও সাধারণ বাসিন্দাদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা আ. হক ও সোলাইমান মিয়া বলেন, খতিবের দায়িত্ব শুধু নামাজ পড়ানো নয়, সত্য কথা বলা ও সমাজকে দিকনির্দেশনা দেওয়াও তার দায়িত্ব। খুতবার কোনো বক্তব্যে আপত্তি থাকলে মসজিদ কমিটি আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টি সমাধান করতে পারত। এভাবে হঠাৎ করে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া ঠিক হয়নি।
ময়মনসিংহ জেলা মানবাধিকার কমিশনের সভাপতি অ্যাডভোকেট এএইচএম খালেকুজ্জামান বলেন, অতীতের নানা ঘটনার কারণে আলেম-ওলামাদের একটি অংশের মধ্যে ক্ষোভ থাকা স্বাভাবিক। সেখান থেকেই হয়তো খতিব এমন মন্তব্য করেছেন। তবে একটি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি রক্ষায় হুট করে অব্যাহতি না দিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে সহনশীল আলোচনা করা যেত।
ঢাকা এক্সপ্রেস/এসএস