শিরোনাম
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ১০:১৬, ১০ অক্টোবর ২০২৬ | আপডেট: ১০:১৬, ১০ অক্টোবর ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশের প্রস্তুতি নিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। বিক্ষোভকারীদের ঠেকাতে নয়াদিল্লিকে কার্যত অবরুদ্ধ করে ফেলেছে কেন্দ্রীয় সরকার।
শনিবার (১০ অক্টোবর) দিল্লির যন্তর মন্তরে এ সমাবেশ হবে।
বিক্ষোভ ঘিরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর ২০ হাজারের বেশি সদস্য মোতায়েনের পরিকল্পনা করেছে সরকার। রাজধানীতে ট্রেন, মেট্রোরেলসহ বিভিন্ন পরিবহনে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন স্থানে বসানো হয়েছে ব্যারিকেড। এমনকি বাড়ি বাড়ি গিয়ে শিক্ষার্থী ও তাঁদের পরিবারকে সতর্ক করা হচ্ছে।
শনিবার রাজপথে কেউ যাতে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিতে ‘জ্ঞানেশ হটাও’ কর্মসূচিতে অংশ নিতে না পারেন, সে জন্য পুলিশ ও প্রশাসন ব্যাপক তৎপরতা শুরু করেছে।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সরকারের এমন কঠোর অবস্থান নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট। বিক্ষোভ ঠেকাতে সড়ক, মেট্রোরেল ও ট্রেন চলাচল বন্ধের পদক্ষেপ নেওয়া হলেও আদালতের নির্দেশে এসব পরিবহন সচল করা হয়েছে।
শুক্রবার (০৯ অক্টোবর) প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ কেন্দ্রীয় সরকারের উদ্দেশে বলেন, মাছি মারতে হাতুড়ি চালানো যায় না। আন্দোলন ঠেকাতে দিল্লি মেট্রোর ৫৭টি স্টেশন বন্ধ রাখার যৌক্তিকতা গ্রহণযোগ্য নয়। টানা ১০ ঘণ্টা রেলস্টেশনে ট্রেনের আসা-যাওয়া বন্ধ রাখাও যায় না। ট্রেন চলাচল কিংবা শহরের অভ্যন্তরে যান চলাচল এমনভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে, যাতে সাধারণ মানুষকে ভোগান্তিতে পড়তে না হয়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ককরোচ জনতা পার্টির নেতা অভিজিৎ দীপকসহ অন্য নেতারা ঘোষণা দিয়েছেন, ১০ অক্টোবরের ‘যন্তর মন্তর ২.০’ কর্মসূচিতে জনপ্রিয় ইউটিউবার ধ্রুব রাঠি অংশ নেবেন। আন্দোলনে যোগ দিতে ভারতে এসে ধ্রুব নিজেও বলেছেন, ‘এটা গণতন্ত্র বাঁচানোর লড়াই। ১০ তারিখে কেউ দিল্লি আসতে ভুলবেন না।’
যন্তর মন্তরকে ঘিরে চার কিলোমিটার এলাকাজুড়ে শুক্রবার রাত ১০টা থেকে শনিবার রাত ১০টা পর্যন্ত ইন্টারনেট সেবা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জনপথ ও কর্তব্যপথের চার কিলোমিটার এলাকার মধ্যে ২৪ ঘণ্টা ইন্টারনেট সেবা বন্ধ রাখতে মোবাইল অপারেটরগুলোকে নির্দেশ দিয়েছে পুলিশ।
মহাসমাবেশের অনুমতি না থাকায় আইন লঙ্ঘন করলে ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে দিল্লি পুলিশ। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এরই মধ্যে বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
এনডিটিভির প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, রাজীব চক, নয়াদিল্লি, সেন্ট্রাল সেক্রেটারিয়েট, প্যাটেল চক ও কাশ্মীরি গেটসহ দিল্লি মেট্রোর ৪৫টি স্টেশনের প্রবেশ ও বের হওয়ার ফটক বন্ধ রাখা হবে। এ ছাড়া শনিবার ভোর ৪টা থেকে দুপুর ২টার মধ্যে নয়াদিল্লি ও হজরত নিজামুদ্দিন স্টেশনে পৌঁছানোর কথা রয়েছে—এমন দিল্লির বাইরে থেকে আসা ২৫০টির বেশি ট্রেন এবং লোকাল ট্রেনের চলাচল বাতিল করা হয়েছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিভিন্ন স্থান থেকে শিক্ষার্থীদের আটক করে ভ্যানে তুলে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। তবে কোথায় নেওয়া হচ্ছে কিংবা কেন আটক করা হচ্ছে, সে বিষয়ে পুলিশ কিছু জানাচ্ছে না।
টানা বিক্ষোভের মধ্যে দলের অসংখ্য নেতাকর্মী ও সমর্থককে আটক করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন ককরোচ জনতা পার্টির নেতা অভিজিৎ দীপক। ধরপাকড় উপেক্ষা করেই শনিবার দিল্লির যন্তর মন্তরে ফের বিক্ষোভের ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।
অভিজিৎ হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ভয় দেখিয়ে ভারতীয় যুবসমাজের আন্দোলন দমিয়ে রাখা যাবে না।
এদিকে, ভোট চুরির অভিযোগে আন্দোলনের চতুর্থ দিনে সংসদ ভবন থেকে রাষ্ট্রপতি ভবন অভিমুখে মিছিলের ঘোষণা দিয়েছে বিরোধী জোট ইন্ডিয়া ব্লক। কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী জানিয়েছেন, ভোটার তালিকায় অনিয়মের অভিযোগে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ না হওয়া পর্যন্ত তাঁদের আন্দোলন চলবে।
এর আগে শুক্রবার রাতে রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বে সংসদ ভবন থেকে রাষ্ট্রপতি ভবনের দিকে মিছিল করেন ইন্ডিয়া ব্লকের সংসদ সদস্য ও নেতারা। পরে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন বিরোধী প্রতিনিধি দলের সদস্যরা। নির্বাচন কমিশনের কার্যক্রম নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে ১৬টি দলের ১৬ নেতা রাষ্ট্রপতির কাছে স্মারকলিপি জমা দেন।
ঢাকা এক্সপ্রেস/এসএস