ঢাকা, রোববার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬

২৪ কার্তিক ১৪৩৩, ২৭ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮

ইসরায়েলে সরকার গঠন করছেন আইজেনকট

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ: ০৮:২৮, ৮ নভেম্বর ২০২৬

ইসরায়েলে সরকার গঠন করছেন আইজেনকট

ছবি: সংগৃহীত

ইসরায়েলে নতুন জোট সরকার গঠনের জন্য বিরোধীদলীয় নেতা গাদি আইজেনকটকে আনুষ্ঠানিকভাবে আমন্ত্রণ জানানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট।

গত সপ্তাহের নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু কিংবা আইজেনকট—কোনো পক্ষই পার্লামেন্ট নেসেটে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি। এ অবস্থায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে দফায় দফায় আলোচনা শেষে এ সিদ্ধান্তের কথা জানান প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজোগ।

নতুন সরকার গঠনের জন্য ২৮ দিন সময় পাবেন দেশটির সাবেক সেনাপ্রধান আইজেনকট। তবে প্রয়োজন হলে এ মেয়াদ আরও ১৪ দিন বাড়ানো হতে পারে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে আইজেনকট লেখেন, ‘এখন সময় এসেছে একটি জাতীয় জরুরি সরকার গঠনের। জনগণের বিশ্বাসের প্রতি পূর্ণ সম্মান রেখে আমি সবটুকু করার চেষ্টা করব।’

ইসরায়েলের রাজনৈতিক ইতিহাসে এখন পর্যন্ত কোনো দল একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারেনি। ফলে দেশটিতে সব সময়ই জোট সরকার গঠিত হয়ে আসছে।

১২০ আসনের নেসেটে নেতানিয়াহুর ডানপন্থি লিকুদ পার্টি এবং তার অতি-ডানপন্থি ও আল্ট্রা-অর্থোডক্স মিত্ররা পেয়েছে ৫৩টি আসন। অন্যদিকে, আইজেনকটের মধ্যপন্থি ‘ইশার’ পার্টি এবং তার জোটের অপর তিনটি বিরোধী দল মিলে পেয়েছে ৪৮টি আসন।

তবে এবারের নির্বাচনে সবচেয়ে বড় চমক দেখিয়েছে দুটি আরব জোট—ইউনাইটেড আরব লিস্ট ও জয়েন্ট লিস্ট। আরব ভোটারদের উপস্থিতির হার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাওয়ায় জোট দুটি একসঙ্গে রেকর্ড ১৯টি আসনে জয় পেয়েছে।

এমন ফলাফলে আরব দলগুলো সরকার গঠনের ক্ষেত্রে অন্যতম নিয়ামক হয়ে ওঠার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। যদিও একটি ব্যতিক্রমী দল ছাড়া সব ইহুদি রাজনৈতিক দলই নির্বাচনের আগে আরব দলগুলোর সঙ্গে সরকার গঠন না করার অঙ্গীকার করেছিল।

সপ্তাহজুড়ে সব দলের সঙ্গে আলোচনা শেষে প্রেসিডেন্ট হারজোগ জানান, সরকার গঠনের প্রথম সুযোগটি তিনি আইজেনকটকেই দিতে যাচ্ছেন।

প্রেসিডেন্টের কার্যালয় থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়, এ সিদ্ধান্তের কথা ইতোমধ্যে আইজেনকট ও নেতানিয়াহু উভয়কেই জানানো হয়েছে।

নবনির্বাচিত নেসেট সদস্যদের মধ্যে আইজেনকট ৬৭ জন আইনপ্রণেতার সমর্থন পেয়েছেন। অন্যদিকে, নেতানিয়াহুর পক্ষে সমর্থন এসেছে ৪৬ জনের। বিবৃতিতে এ তথ্য উল্লেখ করা হয়।

ইসরায়েলি আইন অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি আসন পাওয়া দলের নেতাকেই সরকার গঠনের দায়িত্ব দিতে হবে—এমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। জোট গঠনের ক্ষেত্রে যিনি সবচেয়ে বেশি এগিয়ে থাকবেন, তাকে বেছে নেওয়ার পূর্ণ এখতিয়ার প্রেসিডেন্টের রয়েছে।

নির্বাচনের ফলাফলের পর সরকার গঠনের তিনটি পথ খোলা রয়েছে। প্রথমত, নেতানিয়াহু ও আইজেনকটের সমন্বয়ে জাতীয় ঐক্যের সরকার গঠন। দ্বিতীয়ত, আইজেনকটের জোটের কয়েকজন সংসদ সদস্যকে দলে টেনে নেতানিয়াহুর নেতৃত্বে ডানপন্থি জোট গঠন। তৃতীয়ত, আরব দলগুলোর সমর্থনে আইজেনকটের নেতৃত্বে সরকার গঠন।

আইজেনকট ও তার জোটের প্রায় সব সদস্য এত দিন আরব দলগুলোর সঙ্গে সরকার গঠনের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে আসছিলেন। তবে পর্দার আড়ালে কোনো ধরনের সমঝোতা হতে পারে বলেও গুঞ্জন রয়েছে।

এ ছাড়া আল্ট্রা-অর্থোডক্স দলগুলোর সঙ্গেও চুক্তি করার চেষ্টা চালাতে পারেন আইজেনকট। যদিও সেটি বেশ কঠিন ও জটিল হিসাব।

ইসরায়েলে ঐক্যের সরকার গঠনের ইতিহাস নতুন নয়। এর আগে ২০২০ সালে পরপর তিনটি নির্বাচন অচল হয়ে পড়লে নেতানিয়াহু ও তার তৎকালীন প্রতিদ্বন্দ্বী বেনি গ্যান্টস ক্ষমতার পালাবদলের ভিত্তিতে একটি চুক্তি করেছিলেন। ওই ব্যবস্থাকে বলা হয় ‘রোটেশনাল গভর্নমেন্ট’।

নির্বাচনের পর থেকেই আরেকটি পুনর্নির্বাচন এড়ানো এবং স্থিতিশীল সরকার গঠনের ওপর জোর দিয়ে আসছেন প্রেসিডেন্ট হারজোগ। রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা চলাকালে তিনি মন্তব্য করেন, ‘বর্তমান বাস্তবতায় দল ও তাদের প্রতিনিধিদের বুঝতে হবে—সব প্রতিশ্রুতি ও অঙ্গীকার রক্ষা করা সব সময় সম্ভব হয় না।’

উল্লেখ্য, ২০১৯ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত চরম রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্য দিয়ে গেছে ইসরায়েল। নেতানিয়াহু ও তার বিরোধীদের মধ্যে সমঝোতা না হওয়ায় ওই তিন বছরে পাঁচবার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।

ঢাকা এক্সপ্রেস/এসএস

আরও পড়ুন