শিরোনাম
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৩:৪৯, ১৭ জানুয়ারি ২০২৬
ছবি: ঢাকা এক্সপ্রেস
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভূমিকম্পপ্রবণ ঢাকায় পুরনো ভবনের ওপর এভাবে অতিরিক্ত তলা নির্মাণ মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ। ভবনের ভিত্তি ও কাঠামোগত সক্ষমতা পরীক্ষা ছাড়া এমন সম্প্রসারণ পুরো ভবন ধসে পড়ার আশঙ্কা বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়, যা শুধু ভবনের বাসিন্দা নয়—পাশের ভবন ও সাধারণ পথচারীদের জীবনকেও হুমকির মুখে ফেলছে।
এ বিষয়ে ডাক্তার জয়ের কাছে জানতে চাইলে তিনি দাবি করেন, রাজউকের এক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বললে তিনি এ ধরনের নির্মাণে তাকে সাহস দিয়েছেন। তবে রাজউকের সংশ্লিষ্ট এলাকার দায়িত্বপ্রাপ্ত ইমারত পরিদর্শক এই অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ভবন নির্মাণসংক্রান্ত সব কাগজপত্র নিয়ে রাজউক ভবনে হাজির হতে বলা হলেও ডাক্তার জয় তা করেননি। বরং রাজনৈতিক ব্যক্তিদের মাধ্যমে রাজউক কর্মকর্তাদের ফোন করিয়ে বিষয়টি নিয়ে তদন্ত না করতে চাপ দেওয়া হয়েছে।
ওই কর্মকর্তা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তে রাজউকের আইন উপেক্ষা করে ভবন নির্মাণ করা সরাসরি অপরাধ। যদি রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে সব অনিয়ম বৈধতা পায়, তাহলে আমাদের দায়িত্ব পালন করাই অসম্ভব হয়ে পড়ে।’
রাজউক সূত্র জানায়, প্রচলিত ইমারত নির্মাণ আইন ও বাংলাদেশ ন্যাশনাল বিল্ডিং কোড (BNBC) অনুযায়ী অনুমোদিত নকশা ছাড়া ভবন নির্মাণ, পুরনো ভবনের ওপর কাঠামোগত পরীক্ষা ছাড়াই অতিরিক্ত তলা যোগ করা এবং রাস্তার নির্ধারিত জায়গা না ছেড়ে নির্মাণ করা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এসব অপরাধে ভবন ভাঙার আদেশ, আর্থিক জরিমানা এবং ক্ষেত্রবিশেষে কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, শুধু ভবনের ঝুঁকিই নয়, রাস্তার জায়গা দখল করে নির্মাণ করায় সড়ক সংকুচিত হয়ে পড়েছে। এতে ফায়ার সার্ভিস, অ্যাম্বুলেন্সসহ জরুরি যান চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। সম্ভাব্য ভূমিকম্প বা অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় পুরো এলাকা ভয়াবহ বিপর্যয়ের মুখে পড়তে পারে।
স্থানীয় বাসিন্দারা অবিলম্বে অবৈধ নির্মাণ বন্ধ করে ভবনটির প্রকৌশলগত নিরাপত্তা পরীক্ষা, আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং রাজনৈতিক চাপমুক্ত হয়ে রাজউকের কার্যকর ভূমিকা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
ঢাকা এক্সপ্রেস/ইউকে