শিরোনাম
ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ: ১৩:৪৯, ১৮ অক্টোবর ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
কেউ গাড়ি কেনেন, কেউ কেনেন বাড়ি। তবে চীনের এক নারী কিনেছেন একটি আবাসিক এলাকার ১৯৬টি পার্কিং স্পেস। শুরুতে সেগুলো ভাড়া দিলেও কয়েক বছর পর চাহিদা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভাড়া দ্বিগুণ করেন তিনি। পাশাপাশি পার্কিং স্পেসগুলো মূল দামের চেয়ে বেশি দামে বিক্রির উদ্যোগও নেন।
তার এই একচেটিয়া ব্যবসার বিরুদ্ধে ক্ষুব্ধ বাসিন্দারা আদালতের দ্বারস্থ হলেও শেষ পর্যন্ত আইনি লড়াইয়ে জয়ী হয়েছেন ওই নারী।
অদ্ভুত এ ঘটনাটি ঘটেছে চীনের হুনান প্রদেশের চাংশা শহরের একটি আবাসিক এলাকায়। সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট ও স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের বরাতে জানা যায়, ২০১৮ সালে আবাসন প্রকল্পটি উন্মুক্ত করার সময় সেখানে দোকানপাট, স্কুল ও গণপরিবহনের মতো মৌলিক সুবিধা ছিল না। এ কারণে অনেকেই ওই এলাকায় অ্যাপার্টমেন্ট বা পার্কিং স্পেস কিনতে আগ্রহ দেখাননি।
তবে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের আঞ্চলিক উন্নয়ন পরিকল্পনা ভালোভাবে পর্যালোচনা করে উ নামের ওই নারী সেখানে বড় বিনিয়োগের সম্ভাবনা দেখতে পান। তীব্র আর্থিক সংকটে থাকা আবাসন নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে তিনি একাই ১ কোটি ৪০ লাখ ইউয়ান, যা প্রায় ২০ কোটি টাকা, দিয়ে মোট ১৯৯টি পার্কিং স্পেসের মধ্যে ১৯৬টি কিনে নেন।
কয়েক বছরের মধ্যেই উ-এর অনুমান সত্যি প্রমাণিত হয়। এলাকার দ্রুত উন্নয়নের ফলে অ্যাপার্টমেন্টের বাসিন্দাদের মধ্যে পার্কিংয়ের চাহিদা ব্যাপকভাবে বেড়ে যায়। এ পরিস্থিতিতে সুযোগ বুঝে অবৈধ ব্যবহার ঠেকাতে পার্কিং স্পেসগুলোতে নিজস্ব তালা বসান উ। এরপর প্রতি মাসে ৭৫ ডলার বা প্রায় সাড়ে ৯ হাজার টাকা ভাড়ায় সেগুলো দেওয়া শুরু করেন। এই ভাড়া ২০১৮ সালে নির্ধারিত ভাড়ার দ্বিগুণ। এ ছাড়া পার্কিং স্পেসগুলো মূল দামের চেয়ে সর্বোচ্চ ৮০ শতাংশ বেশি দামে বিক্রির জন্যও উন্মুক্ত করেন তিনি।
পার্কিংয়ের জায়গা না পেয়ে অতিষ্ঠ ও ক্ষুব্ধ বাসিন্দারা নির্ধারিত মূল্যে ভাড়া বা বিক্রির দাবি জানান। সরকারি মধ্যস্থতার চেষ্টা ব্যর্থ হলে বাসিন্দারা ঐক্যবদ্ধ হয়ে উ-এর বিরুদ্ধে আদালতে রিট করেন। তাদের যুক্তি ছিল, পার্কিং আবাসিক সুবিধার একটি অপরিহার্য অংশ। তাই ব্যক্তিগত মুনাফার উদ্দেশ্যে একজন ব্যক্তি পুরো এলাকার পার্কিং স্পেস একচেটিয়াভাবে দখলে রাখতে পারেন না।
তবে শুনানি শেষে স্থানীয় আদালত উ-এর পক্ষেই রায় দেন। বিচারক পর্যবেক্ষণে বলেন, আবাসন নির্মাতা প্রতিষ্ঠান যখন পার্কিং স্পেসগুলো বিক্রি করতে চেয়েছিল, তখন সব বাসিন্দারই সেগুলো কেনার সুযোগ ছিল। কিন্তু তারা সেই সুযোগ কাজে লাগাননি। অন্যদিকে উ ঝুঁকি নিয়ে নিজের সঞ্চিত অর্থ বিনিয়োগ করে সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
আদালত আরও বলেন, চীনের আইনে একজন ব্যক্তি সর্বোচ্চ কতটি পার্কিং স্পেসের মালিক হতে পারবেন, সে বিষয়ে কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই। ফলে উ-এর এই ক্রয় সম্পূর্ণ বৈধ।
ঢাকা এক্সপ্রেস/এসএস