শিরোনাম
ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ: ১১:০৪, ৯ অক্টোবর ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
আজ বিশ্ব ডিম দিবস। প্রতি বছর অক্টোবর মাসের দ্বিতীয় শুক্রবার বিশ্বজুড়ে দিবসটি পালিত হয়। এ দিবসের মূল উদ্দেশ্য ডিমের পুষ্টিগুণ, স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের ভূমিকা এবং মানুষের খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ডিমের গুরুত্ব তুলে ধরা।
এ বছরের দিবসটির প্রতিপাদ্য ‘প্রোটিন দ্যাট পাওয়ার্স অ্যান্ড প্রোটেক্টস’ অর্থাৎ ‘যে প্রোটিন শক্তি জোগায় ও সুরক্ষা দেয়’।
১৯৯৬ সালে অস্ট্রিয়ার ভিয়েনায় দিবসটি পালনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এবার বিশ্ব ডিম দিবসের ৩০ বছর পূর্তি হচ্ছে।
ডিম সহজলভ্য ও পুষ্টিকর খাবার হিসেবে পরিচিত। এতে উচ্চমানের প্রোটিন, ভিটামিন বি১২, ভিটামিন ডি, কোলিন এবং শরীরের প্রয়োজনীয় বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান রয়েছে। শরীরের বৃদ্ধি, পেশি গঠন ও রক্ষণাবেক্ষণ এবং মস্তিষ্কের স্বাভাবিক কার্যক্রমে এসব পুষ্টি উপাদান ভূমিকা রাখে। বিশেষ করে শিশু-কিশোরদের বেড়ে ওঠা এবং বয়স্কদের পুষ্টির চাহিদা পূরণে ডিম গুরুত্বপূর্ণ খাদ্য হতে পারে।
সুষম খাদ্যের অংশ হিসেবে ডিম দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় রাখা যায়। তুলনামূলক সহজে রান্না করা যায় বলে এটি নানা বয়সি মানুষের জন্য সুবিধাজনক খাবার। তবে ব্যক্তির বয়স, শারীরিক অবস্থা ও পুষ্টির চাহিদা অনুযায়ী খাদ্যাভ্যাস নির্ধারণ করা প্রয়োজন। শুধু ডিম নয়, শাকসবজি, ফল, ডাল, মাছ ও অন্যান্য পুষ্টিকর খাবারও খাদ্যতালিকায় থাকা জরুরি।
ডিমের পুষ্টিগুণের পাশাপাশি এর নিরাপদ সংরক্ষণ ও সঠিকভাবে রান্না করাও গুরুত্বপূর্ণ। পরিষ্কার পরিবেশে ডিম সংরক্ষণ এবং ভালোভাবে রান্না করে খেলে খাদ্যবাহিত অসুস্থতার ঝুঁকি কমানো যায়।
ডিম উৎপাদন ও বিপণনের সঙ্গে পোলট্রি খামারি, খাদ্য প্রস্তুতকারক, পরিবহণকর্মী এবং ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা যুক্ত। ফলে ডিমের বাজার দেশের কর্মসংস্থান ও গ্রামীণ অর্থনীতির সঙ্গেও সম্পর্কিত। উৎপাদন খরচ, মুরগির খাবারের দাম, রোগবালাই এবং বাজারব্যবস্থার পরিবর্তন ডিমের সরবরাহ ও দামের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।
সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে ডিমের সরবরাহ নিশ্চিত করা গেলে পুষ্টিকর খাবার গ্রহণের সুযোগ বাড়ে। এ জন্য উৎপাদন ও বিপণনব্যবস্থার উন্নয়ন, খামারিদের সহায়তা এবং বাজারে ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ।
বিশ্ব ডিম দিবসের তাৎপর্য শুধু একটি খাবারের পুষ্টিগুণ তুলে ধরার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। পুষ্টিকর খাদ্য সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানো, ডিম উৎপাদনের সঙ্গে যুক্ত মানুষের অবদান স্বীকার করা এবং সবার জন্য নিরাপদ ও সাশ্রয়ী খাবার নিশ্চিত করার গুরুত্বও এ দিবসের সঙ্গে জড়িত।
ঢাকা এক্সপ্রেস/এসএস