ঢাকা, শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬

২৩ কার্তিক ১৪৩৩, ২৬ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮

ঘুমিয়েই জিতলেন সাড়ে ৯ লাখ টাকা

ডেস্ক রিপোর্ট

প্রকাশ: ১০:১৩, ৭ নভেম্বর ২০২৬

ঘুমিয়েই জিতলেন সাড়ে ৯ লাখ টাকা

ছবি: সংগৃহীত

পেশাদার দুনিয়ায় রাত জেগে কাজ করার চল থাকলেও এবার কেবল ঘুমিয়েই বাজিমাত করেছেন এক নারী। ভারতের মুম্বাইয়ের বাসিন্দা জিনিয়া চ্যাটার্জি এক ব্যতিক্রমী প্রতিযোগিতায় জয়ী হয়ে জিতে নিয়েছেন ৯ লাখ ৬০ হাজার রুপি এবং স্পন্সর করা একটি ছুটি কাটানোর সুযোগ।

‘স্লিপ ইন্টার্নশিপ’ নামের এই প্রতিযোগিতায় গোটা ভারত থেকে দুই লাখের বেশি আবেদনকারীর মধ্য থেকে তাকে দেশটির ‘স্লিপ চ্যাম্পিয়ন’ হিসেবে নির্বাচিত করা হয়।

ঘুম ও আরামদায়ক জীবনযাত্রার ব্র্যান্ড ‘ওয়েকফিট’-এর উদ্যোগে এই ব্যতিক্রমী ইন্টার্নশিপ পরিচালিত হয়। প্রতিযোগীদের মূল কাজ ছিল নিয়মিত ঘুমানো, ঘুমের নির্দিষ্ট রুটিন বজায় রাখা এবং সৃজনশীল কিছু সাপ্তাহিক চ্যালেঞ্জে অংশ নেওয়া।

প্রাথমিক বাছাই ও ব্যক্তিগত ইন্টার্নশিপের কয়েকটি ধাপ পেরিয়ে দুই লাখের বেশি আবেদনকারীর মধ্য থেকে মাত্র ১০ জন প্রার্থীকে চূড়ান্ত করা হয়। প্রায় ৬০ দিন ধরে চলা এই প্রতিযোগিতায় প্রার্থীরা তাদের ঘুমের পারফরম্যান্সের হিসাব রাখতেন। প্রতিদিনের স্কোরের ভিত্তিতে লিডারবোর্ডে তাদের অবস্থান নির্ধারিত হতো।

তবে প্রতিযোগিতাটি কেবল বেশি বা ঠিকমতো ঘুমানোর মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না। এর পাশাপাশি প্রতিযোগীদের বিভিন্ন সৃজনশীল ও মজার অ্যাসাইনমেন্টেও অংশ নিতে হয়েছিল।

সাপ্তাহিক এসব চ্যালেঞ্জের মধ্যে ‘স্লিপ সিনেমা’ পর্বে প্রতিযোগীদের বিখ্যাত সিনেমার দৃশ্য ঘুমের বিষয়বস্তু দিয়ে পুনর্নির্মাণ করতে হতো। ‘স্লিপ বিঙ্গো’ পর্বে এক সপ্তাহ ধরে নিজের ঘুমের অভ্যাস মূল্যায়ন করতে হতো। আর ‘আন্ডারকভার স্লিপ মিশন’ নামের অদ্ভুত চ্যালেঞ্জে সাধারণ কথোপকথনের মধ্যে ধরা না পড়ে ১০ বার ‘কম্বল’ বা ‘বালিশ’ শব্দ দুটি ব্যবহার করতে হতো। প্রতি সপ্তাহে সেরা পারফরম্যান্স করা প্রতিযোগীকে ‘প্রো স্লিপার অব দ্য উইক’ খেতাব দেওয়া হতো।

এভাবে দুই মাস পর জিনিয়া চ্যাটার্জির পাশাপাশি রত্নগিরি মানিকান্দিন ও মেহিক খোত সেরা তিনজনের তালিকায় জায়গা করে নেন। তবে হায়দরাবাদের করিম খান সবচেয়ে বেশি সাপ্তাহিক চ্যালেঞ্জ জেতার সুবাদে ওয়াইল্ডকার্ড এন্ট্রি নিয়ে ফাইনালে প্রবেশ করেন। এতে ফাইনালে প্রতিদ্বন্দ্বীর সংখ্যা দাঁড়ায় চার।

যেভাবে জয়ী হন জিনিয়া

‘বিগ বেড’ নামের গ্র্যান্ড ফাইনালে দুটি প্রধান চ্যালেঞ্জ ছিল। প্রথমটি ছিল ‘মেমোরি ফোম চ্যালেঞ্জ’। এতে রেফারেন্স ছবি দেখে বেডরুমের সাজসজ্জা হুবহু তৈরি করতে হতো। এর মাধ্যমে প্রতিযোগীদের পর্যবেক্ষণ ক্ষমতা, স্মৃতিশক্তি ও দলগত কাজের দক্ষতা পরীক্ষা করা হয়।

দ্বিতীয়টি ছিল ‘স্লিপ অকশন’ বা ঘুমের নিলাম। এই পর্বে ফাইনালিস্টদের বালিশ, কম্বল, শীতাতপনিয়ন্ত্রণ যন্ত্রের নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা, আলো ও শব্দের ব্যবস্থার মতো প্রয়োজনীয় উপকরণের জন্য নিলামে দাম হাঁকতে হয়।

এরপর ফাইনালিস্টরা নিজেদের পছন্দমতো সাজানো পরিবেশে শেষ রাতের মতো ঘুমান। সেই রাতের ঘুমের স্কোরই নির্ধারণ করে দেয় চূড়ান্ত বিজয়ী। শেষ পর্যন্ত সবাইকে পেছনে ফেলে বিজয়ের হাসি হাসেন মুম্বাইয়ের জিনিয়া চ্যাটার্জি।

উল্লেখ্য, ২০১৯ সালে শুরু হওয়া এই স্লিপ ইন্টার্নশিপের প্রথম চার মৌসুমে ১০ লাখের বেশি আবেদন জমা পড়েছে। এসব মৌসুমে মোট ৬৫ জন ইন্টার্ন প্রত্যেকে এক লাখ টাকা করে স্টাইপেন্ড জিতেছেন। ওয়েকফিটের অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে ইতোমধ্যে প্রতিযোগিতার ষষ্ঠ মৌসুমের প্রাক্‌-নিবন্ধনও শুরু হয়েছে।

ঢাকা এক্সপ্রেস/এসএস

আরও পড়ুন