শিরোনাম
ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ: ১৯:৪৩, ৩ অক্টোবর ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
ভালোবাসার কোনো নির্দিষ্ট মূল্য নেই। কিন্তু জীবনসঙ্গী খুঁজতে জাপানের অনেক তরুণ-তরুণী এখন আর শুধু ভালোবাসার অপেক্ষায় থাকছেন না। বিয়ের উদ্দেশ্যে সম্পর্ক গড়তে তারা নিচ্ছেন পেশাদার ঘটকের সহায়তা। পরিচয় করিয়ে দেওয়া থেকে শুরু করে সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়া পর্যন্ত বিভিন্ন ধাপে পাশে থাকছে এসব প্রতিষ্ঠান।
জাপানে অবশ্য ঘটকালির এই ধারণা নতুন নয়। দেশটিতে দীর্ঘদিন ধরে প্রচলিত ছিল ‘ওমিয়াই’ নামের ঐতিহ্যবাহী ঘটকালি প্রথা।
এই ব্যবস্থায় আত্মীয়, পারিবারিক বন্ধু কিংবা কর্মক্ষেত্রের বয়োজ্যেষ্ঠরা অবিবাহিত নারী-পুরুষের মধ্যে যোগাযোগ তৈরি করে দিতেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরও জাপানের বিয়ের সংস্কৃতিতে ‘ওমিয়াই’ পরিচিত একটি প্রথা ছিল।
তবে সময়ের সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক তৈরির ধরন বদলে যায়। নিজের পছন্দে সম্পর্ক তৈরির প্রবণতা বাড়ে। পরে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে ডেটিং অ্যাপ।
ডেটিং অ্যাপের মাধ্যমে অল্প সময়েই অপরিচিত মানুষের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ তৈরি হয়। জাপানের তরুণদের মধ্যেও দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে ওঠে এই মাধ্যম।
কিন্তু এখন সেই প্রবণতার বিপরীতে দেখা যাচ্ছে নতুন পরিবর্তন। ডেটিং অ্যাপের বদলে অনেকে আবার সরাসরি মানুষের সহায়তায় জীবনসঙ্গী খুঁজছেন।
১০০ সোয়াইপের বদলে একটি ‘ওমিয়াই’
জাপানের বিভিন্ন শহরে তরুণদের আকৃষ্ট করতে বিজ্ঞাপন দিচ্ছে পেশাদার ম্যাচমেকিং প্রতিষ্ঠানগুলো।
টোকিওর মেট্রোতেও এমন বিজ্ঞাপন দেখা যাচ্ছে। সেখানে জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষাতের দায়িত্ব বিশেষজ্ঞদের হাতে তুলে দেওয়ার আহ্বান জানানো হচ্ছে।
কিছু প্রতিষ্ঠান আবার ডেটিং অ্যাপের অসংখ্য সোয়াইপের বিপরীতে একটি ‘ওমিয়াই’-এর ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে।
এর পেছনে ডেটিং অ্যাপ ব্যবহারে একধরনের ক্লান্তিও কাজ করছে। অনলাইনে পরিচয়ের পর হঠাৎ যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যাওয়া, ভুয়া প্রোফাইল কিংবা অপর পক্ষের উদ্দেশ্য বুঝতে না পারার অভিজ্ঞতা অনেককে বিরক্ত করছে।
ফলে যারা শুরু থেকেই বিয়ের উদ্দেশ্যে সম্পর্ক গড়তে চান, তাদের কাছে সরাসরি মানুষের সহায়তা আবার আকর্ষণীয় হয়ে উঠছে।
আইবিজের সাম্প্রতিক তথ্যেও এই পরিবর্তনের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটির নেটওয়ার্কে গত পাঁচ বছরে ২০ বছর বয়সী সদস্যের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
অ্যালগরিদমের পাশাপাশি থাকছেন কাউন্সিলর
নতুন প্রজন্মের ম্যাচমেকিং প্রতিষ্ঠানগুলোর বিশেষত্ব হলো শুধু কম্পিউটারনির্ভর ম্যাচিং নয়। প্রতিটি সদস্যের জন্য থাকছেন একজন করে কাউন্সিলর।
টোকিওর ম্যাচমেকিং সংস্থা আইবিজের গ্রাহক তাইজেন ইয়াসুদার অভিজ্ঞতাও এমন। প্রতিষ্ঠানে যোগ দেওয়ার পর তিনি সম্ভাব্য পাত্রীর তালিকা ছোট করে আনেন।
এরপর কাউন্সিলরের সঙ্গে আলোচনা করেন কীভাবে নিজের কথা তুলে ধরবেন। অস্বস্তিকর প্রশ্নের উত্তর কীভাবে দেবেন, কিংবা নিজের ইতিবাচক দিকগুলো কীভাবে সামনে আনবেন—এসব বিষয়েও পরামর্শ পান তিনি।
কিছু প্রতিষ্ঠানে বাস্তব সাক্ষাতের আগেই ‘মহড়া ডেট’-এর ব্যবস্থাও রয়েছে। সেখানে কীভাবে কথা বলতে হবে এবং কোন আচরণে ভুল বোঝাবুঝি তৈরি হতে পারে, তা অনুশীলন করানো হয়।
অর্থাৎ প্রযুক্তির যুগে জাপানের একাংশ তরুণ আবার ফিরছেন মানুষের তৈরি সেই পুরোনো যোগাযোগের ব্যবস্থার কাছেই। তবে এবার সেই ঘটকালি হচ্ছে আধুনিক পরামর্শ, কাউন্সেলিং ও পেশাদার সেবার সমন্বয়ে।
ঢাকা এক্সপ্রেস/এসআই