শিরোনাম
চট্টগ্রাম প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২০:৪৮, ২ জানুয়ারি ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
পুলিশ সূত্র জানিয়েছে, বিদেশে পলাতক ‘সন্ত্রাসী’ সাজ্জাদ আলী বা বড় সাজ্জাদের নির্দেশে তার সহযোগীরা চাঁদা না পেয়ে এই হামলা চালিয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
মুজিবুর রহমান ২০২৪ সালের জাতীয় নির্বাচনে চট্টগ্রামের বাঁশখালি থেকে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি নেতৃত্ব দিচ্ছেন স্মার্ট গ্রুপকে, যা দেশের একটি বড় শিল্পগোষ্ঠী। ব্যবসায়ীর বিনিয়োগ রয়েছে পোশাক, টেক্সটাইল, রিয়েল এস্টেট ও জ্বালানি খাতে।
নগর পুলিশের উপকমিশনার (দক্ষিণ) হোসাইন মোহাম্মদ কবির ভূঁইয়া জানিয়েছেন, সকাল সাতটার দিকে একটি মাইক্রোবাসে করে আটজন মুখোশধারী এসে মুজিবুর রহমানের বাড়ির সামনের এবং পেছনের অংশে গুলি চালায়। পরে তারা দ্রুত সেখান থেকে চলে যায়। পুলিশ এলাকা ঘিরে আলামত সংগ্রহ করেছে এবং থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
পুলিশ জানায়, সাজ্জাদের লোকজন দুবাইভিত্তিক একটি নম্বর থেকে কোটি টাকার চাঁদা দাবি করেছিলেন। মুজিবুর রহমান বলেন, মাস দেড়েক আগে বড় সাজ্জাদের পরিচয় দিয়ে ফোনে চাঁদার বিষয়টি জানানো হয়েছিল, কিন্তু তিনি তা আমলে নেননি। ঘটনার সময় তিনি ঘুমিয়ে ছিলেন।
অপর দিকে সাজ্জাদ আলী বলেছেন, ‘ঘটনাটি কারা করেছে আমি জানি না। তবে যারা করেছে, তারা সঠিক কাজ করেছে। মুজিবুর রহমানের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের দোসরদের পুনর্গঠনের অভিযোগও আছে।’
এটি একমাত্র হামলার ঘটনা নয়। গত ১৪ ডিসেম্বর পাঁচলাইশের হামজার বাগ এলাকায় একটি নির্মাণাধীন ভবনের মালিকের কাছ থেকে ৫০ লাখ টাকা চাঁদা না পেয়ে সন্ত্রাসীরা সেখানে হামলা চালায়। পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে অস্ত্রসহ একজনকে গ্রেপ্তার করে। পুলিশ ধারণা করে, সাজ্জাদের অনুসারীরাই এই ধরনের সহিংসতায় জড়িত।
চট্টগ্রাম নগরীর চান্দগাঁও, বায়েজিদ বোস্তামী, পাঁচলাইশ এবং জেলার হাটহাজারী, রাউজানসহ পাঁচ থানার মানুষ সাজ্জাদের বাহিনীর ভয়ে দীর্ঘদিন আতঙ্কে বসবাস করছে। গত বছরের আগস্ট থেকে জেলায় অন্তত ১০টি হত্যাকাণ্ডে সাজ্জাদের অনুসারীদের নাম উঠে এসেছে। তারা আধিপত্য বজায় রাখতে প্রতিপক্ষকে হত্যা করছে এবং কখনো ভাড়াটে খুনির মতো ব্যবহারও করছে।
ঢাকা এক্সপ্রেস/এসএইচ