ঢাকা, সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬

১৯ আশ্বিন ১৪৩৩, ২২ রবিউস সানি ১৪৪৮

বিশ্ব শিক্ষক দিবস আজ

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০৮:৩৬, ৫ অক্টোবর ২০২৬

বিশ্ব শিক্ষক দিবস আজ

ছবি: সংগৃহীত

আজ বিশ্ব শিক্ষক দিবস। ১৯৯৫ সাল থেকে জাতিসংঘের অঙ্গ সংস্থা ইউনেস্কোর সদস্যভুক্ত প্রতিটি দেশে এ দিনে বিশ্ব শিক্ষক দিবস পালিত হয়ে আসছে। শিক্ষকদের সম্মান রক্ষা ও সমাজে তাদের অবদান স্মরণে বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও যথাযথ মর্যাদায় দিবসটি পালিত হচ্ছে।

শিক্ষাবিদরা বলেন, মেধার বিকাশ, নীতি-নৈতিকতার শিক্ষা দেওয়ার পাশাপাশি জীবনকে সুন্দরভাবে গড়ে তোলার পথ দেখান শিক্ষকরা। শিক্ষকতা কেবল একটি পেশা বা জীবিকা নয়, এটি মানুষ গড়ার মহান ব্রত। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ইতিবাচক পরিবর্তন আনার পাশাপাশি দেশ ও জাতির ভবিষ্যৎ বিনির্মাণে ভূমিকা রাখেন শিক্ষকরা।

তবে অর্থনৈতিক বাস্তবতাসহ নানা কারণে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মহান এ পেশা মেধাবীদের তেমনভাবে আকৃষ্ট করতে পারছে না। সামাজিক অবক্ষয়, রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতাসহ নানা অজুহাতে প্রায়ই অপমান-অপদস্থ হতে হয় শিক্ষকদের। ৫ আগস্ট-পরবর্তী সময়ে জোর করে শিক্ষককে পদত্যাগে বাধ্য করানোসহ শিক্ষাঙ্গনে বহু অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনারও সাক্ষী হয়েছে দেশবাসী। এমন বাস্তবতার মধ্যেই দেশে পালিত হচ্ছে বিশ্ব শিক্ষক দিবস।

শিক্ষার্থীরা বলেন, যে মানুষগুলো নিজেদের বিলিয়ে দিয়ে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম গড়ে তোলেন, বেশিরভাগ সময় তাদের নিজেদের ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল থাকে না।

একজন শিক্ষার্থী বলেন, ‘আসলে একজন শিক্ষক একটি জাতির দর্পণ। কিছু শিক্ষক আছেন, যারা মা-বাবার দায়িত্ব পালন করেন।’

শিক্ষকেরা জানান, বাতিঘর হয়ে নীরবে তারা প্রজন্মকে ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত করে দেন। তবে নিজেদের কষ্টের কথা বলার সুযোগ কম। তারপরও এ পেশায় প্রাপ্তিও কোনো অংশে কম নয়।

স্ট্যামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যম বিভাগের সহকারী অধ্যাপক শবনম জান্নাত বলেন, শিক্ষকদের বিভিন্ন ধরনের অপ্রাপ্তি রয়েছে। তবে দিন শেষে শিক্ষার্থীদের ভালো করাই তাদের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। বহু ব্যাচকে পড়ানোর পরও প্রত্যেক শিক্ষার্থী তাদের কাছে মূল্যবান হয়ে থাকেন। তাই কোনো শিক্ষার্থীকে তারা ভুলে যান না, সবার কথাই মনে পড়ে।

স্ট্যামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভাষক ফারিশতা সিদ্দিকী বলেন, শিক্ষকদের চিন্তাভাবনা ও মানসিকতার সঙ্গে অন্য অনেক পেশার তুলনা চলে না। এ কারণেই শিক্ষকতাকে মহান পেশা বলা হয়। তার মতে, শিক্ষকরা যতটুকু পান, তার চেয়ে অনেক বেশি দেন। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে শ্রেণিকক্ষে সময় কাটানোর যে শান্তি, অন্য কোনো পেশা হয়তো তাকে সেই অনুভূতি দিতে পারবে না।

শিক্ষকদের জীবনমান উন্নয়নে আলাদা বেতন কাঠামো তৈরির বিষয়টি সরকার গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।

তিনি বলেন, একটি দিন দিয়ে মানুষের জীবন হয় না। নির্দিষ্ট একটি দিনে সম্মান জানানোর বিষয়টি ভিন্ন। সরকার শিক্ষকদের অবস্থানের উন্নয়ন এবং তাদের পুরো জীবনের মানোন্নয়ন নিয়ে কাজ করছে।

শিক্ষকদের উন্নয়নের মাধ্যমে বিএনপি সরকার শিক্ষাখাতে গুণগত সংস্কার করতে চায় বলেও জানান তিনি।

ববি হাজ্জাজ আরও বলেন, শিক্ষকরা যেহেতু সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ, তাই বেতন, পদোন্নতি থেকে শুরু করে প্রশিক্ষণ—সব ক্ষেত্রেই তাদের বিষয়ে বিশেষ নজর দেওয়া প্রয়োজন। সরকার সেভাবেই কাজ করছে।

ঢাকা এক্সপ্রেস/এসএস

আরও পড়ুন