শিরোনাম
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২০:১১, ৩ অক্টোবর ২০২৬ | আপডেট: ২০:১২, ৩ অক্টোবর ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
নিম্নমানের পাঠ্যবই সরবরাহের সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। শনিবার (২ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে ঢাকাস্থ কচুয়া উপজেলা সমিতির আয়োজনে ‘কচুয়ার উন্নয়নে জনমনের ভাবনা’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
পাঠ্যপুস্তক প্রণয়ন, ছাপা ও বিতরণ নিয়ে বক্তব্য দিতে গিয়ে মন্ত্রী বলেন, বইয়ের মানের সঙ্গে কোনো আপস করা হবে না। ইতোমধ্যে পাওয়া নিম্নমানের বই বাতিল ও নষ্ট করা হয়েছে।
তিনি বলেন, পাঠ্যবই ছাপার ক্ষেত্রে কাগজ, কালি ও ছাপাখানার মান নিয়ে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। মানসম্মত বই নিশ্চিত করতে কঠোরভাবে কাজ করা হচ্ছে।
মন্ত্রী বলেন, দেশীয় মুদ্রণশিল্পের বিকাশে প্রধানমন্ত্রী গুরুত্ব দিয়েছেন। তাই এবার বিদেশি কোনো কোম্পানিকে পাঠ্যবই ছাপার কাজ দেওয়া হয়নি।
তিনি বলেন, অতীতেও সময়মতো মানসম্মত পাঠ্যবই ছাপানো সম্ভব হয়েছে। আগামীতেও তা সম্ভব হবে বলে আশা করছেন তিনি।
১৫০ উপজেলায় চলছে মিড ডে মিল
মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে দেশের ১৫০টি উপজেলায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ‘মিড ডে মিল’ কর্মসূচি চালু রয়েছে বলে জানান মন্ত্রী।
ভবিষ্যতে এ কর্মসূচি সারাদেশে সম্প্রসারণের পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। শিক্ষার্থীদের মানসম্মত খাবার নিশ্চিত করতে কুপন ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, কুপনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা ক্যান্টিন থেকে নিজেদের খাবার কিনতে পারবে। খাবারের তালিকায় নতুন কিছু খাবার যুক্ত করার পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে।
খাবার সরবরাহের প্রক্রিয়া বিকেন্দ্রীকরণের কথাও জানান তিনি। স্থানীয় অর্থনীতি সচল ও উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করতে কয়েকটি জেলায় প্রথমে এ ব্যবস্থা পরীক্ষামূলকভাবে চালু করা হবে।
পরে সফল হলে তা সারাদেশে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান তিনি।
কারিগরি শিক্ষায় গুরুত্ব
মন্ত্রী বলেন, চতুর্থ শ্রেণিতে স্পোর্টস ও কালচারাল বই অন্তর্ভুক্ত করা হবে। পাশাপাশি কারিগরি শিক্ষাকে গুরুত্ব দিয়ে নতুন সিলেবাস প্রণয়ন করা হচ্ছে।
পরিবর্তিত বিশ্ব পরিস্থিতিতে মানবসম্পদ উন্নয়নের বিকল্প নেই উল্লেখ করে তিনি প্রতিটি উপজেলায় টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনার কথা জানান।
এসব প্রতিষ্ঠানে তৃতীয় ভাষা চালু করা হবে। সৌদি আরবেও টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
পরীক্ষা ব্যবস্থায় পরিবর্তনের পরিকল্পনা
মন্ত্রী জানান, আগামীতে পরীক্ষার দুই সেট প্রশ্ন দুই জায়গা থেকে প্রস্তুত করা হবে। এর একটি হবে বিজি প্রেস এবং অন্যটি আর্মি সিকিউরিটি প্রেস থেকে।
পরীক্ষা গ্রহণে শিক্ষার্থীদের সময় যাতে নষ্ট না হয়, সেদিকে গুরুত্ব দেওয়া হবে। একই সঙ্গে বর্ষাকালীন দুর্যোগ এড়িয়ে সময়মতো পরীক্ষা নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
পরীক্ষার খাতা পুনর্মূল্যায়নের পরিবর্তন বাস্তবতার নিরিখে করা হয়েছে বলেও জানান শিক্ষামন্ত্রী।
বাংলাদেশকে এডুকেশন হাব করার উদ্যোগ
বাংলাদেশকে ‘এডুকেশন হাব’ হিসেবে গড়ে তুলতে ক্রস-বর্ডার এডুকেশন সিস্টেম চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানান ড. মিলন।
তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে বিশ্বের শীর্ষ ৫০০ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে থাকা বিদেশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাংলাদেশে শাখা খুলতে চাইলে অনুমোদন দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।
এ জন্য বিশ্ববিদ্যালয় আইন সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
ঢাকা এক্সপ্রেস/এসআই