শিরোনাম
গবি প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৩:২০, ৩১ অক্টোবর ২০২৬ | আপডেট: ১৩:২২, ৩১ অক্টোবর ২০২৬
ছবি: ঢাকা এক্সপ্রেস
বিশ্ববিদ্যালয়ের চার বছরের ক্ষুদ্র একটি জীবন। এই জীবনে কেবল পড়াশোনা, পরীক্ষা আর সনদপত্রের মাঝেই সীমাবদ্ধ নয়। এই ক্ষুদ্র জীবনে জড়িয়ে থাকে হাজারো স্মৃতি, বহু বন্ধু, হাসি-আনন্দ আর না পাওয়ার গল্প। কারও জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের পথচলা শুরু হয় নতুন স্বপ্ন নিয়ে, আবার কারও জন্য সেই পথচলার ইতি ঘটে ভবিষ্যতের নতুন অধ্যায়ে পা রাখার প্রস্তুতির মধ্য দিয়ে।
নবীন শিক্ষার্থীদের স্বাগত জানানো এবং বিদায়ী শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয়জীবনের স্মৃতিকে সম্মান জানাতে আয়োজন করা হয় নবীন বরণ ও বিদায় অনুষ্ঠান। সহপাঠী, শিক্ষক আর প্রিয় ক্যাম্পাসকে ঘিরে তৈরি হওয়া মুহূর্তগুলো যেন একসঙ্গে ধরা দেয় এই আয়োজনে।
নবীন শিক্ষার্থীরা এসেছে একঝাঁক নতুন স্বপ্ন নিয়ে, অজানাকে জানায় পরিণত করতে। নতুন পরিবেশ, নতুন বন্ধু আর শিক্ষকদের সান্নিধ্যে শুরু হয়েছে তাদের বিশ্ববিদ্যালয়জীবনের পথচলা। অন্যদিকে বিভাগের একঝাঁক পরিচিত মুখ নিমিষেই হয়ে যাবে দূরের। যে ক্যাম্পাসে কেটেছে জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সময়, তা একসময় থেকে যাবে শুধু স্মৃতির পাতায়।
৩২ একরের পরিচিত আঙিনা হয়তো একসময় ছেড়ে যেতে হয়, কিন্তু সেখানে কাটানো সময়, গড়ে ওঠা সম্পর্ক আর শেখার অভিজ্ঞতা সহজে ফুরিয়ে যায় না। সময়ের সঙ্গে শিক্ষার্থীরা ছড়িয়ে পড়ে নানা পথে, নানা পেশায়। তবু প্রিয় বিভাগ, শিক্ষক আর সহপাঠীদের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা স্মৃতিগুলো তাদের মনে জায়গা করে রাখে।
গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের একই আয়োজনে ছিল নতুনদের বরণ ও পুরোনোদের বিদায়। অনুষ্ঠানে নবীনদের চোখে ছিল নতুন জীবনের স্বপ্ন, আর বিদায়ী শিক্ষার্থীদের কথায় ফুটে উঠেছে ফেলে আসা দিনগুলোর প্রতি গভীর মায়া।
নবীন শিক্ষার্থী মালিহা রহমান বলেন, প্রত্যেকটি মানুষের বিশ্ববিদ্যালয়জীবন নিয়ে শখ ও স্বপ্ন থাকে। নবীন হিসেবে আমার ক্ষেত্রেও ব্যতিক্রম নয়। নবীনবরণ অনুষ্ঠান বিশ্ববিদ্যালয়জীবনের প্রথম অনুষ্ঠান, যার অনুভূতি ব্যক্ত করতেই ভালো লাগছে। শিক্ষকদের দোয়া ও ভালোবাসা নিয়ে নতুন পথচলা শুরু করেছি। এ ছাড়া সিনিয়রদের সৌজন্যমূলক আচরণ দিনটিকে আরও প্রাণবন্ত করে তুলেছে। অনুষ্ঠানের প্রতিটি মুহূর্ত মনে রাখার মতো ছিল।
নতুনদের কাছে যে পথচলা কেবল শুরু, বিদায়ীদের কাছে সেই পথচলাই স্মৃতির এক দীর্ঘ অধ্যায়। বিশ্ববিদ্যালয়জীবনের চেনা দিনগুলো পেছনে ফেলে নতুন বাস্তবতার মুখোমুখি হওয়ার মুহূর্তে আনন্দের পাশাপাশি কাজ করে বিচ্ছেদের অনুভূতিও।
সদ্য বিদায়ী ব্যাচের শিক্ষার্থী ও গণ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (গকসু) সহসভাপতি (ভিপি) ইয়াসিন আল মৃদুল দেওয়ান বলেন, 'বিশ্ববিদ্যালয়জীবনের প্রথম দিনটির কথা মনে পড়লে আজও শিহরিত হই। সেদিনটি ছিল আমার সেশনে ভর্তির একেবারে শেষ দিন। সময়ের পরিক্রমায় গ্র্যাজুয়েশনের এই প্রান্তে দাঁড়িয়ে আজ উপলব্ধি করি, শুরুর দিকের ছোটখাটো নানা অভিযোগও কীভাবে যেন সময়ের হাত ধরে এক গভীর মায়া ও কষ্টে রূপ নিয়েছে।'
অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আবুল হোসেন বলেন, 'বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ডিগ্রি নিয়ে বের হওয়া যায়, কিন্তু প্রকৃত অর্থে ক্যাম্পাসকে মন থেকে বিদায় দেওয়া যায় না। বিদায়ী শিক্ষার্থীদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করি। আশা করি, নিজেদের অর্জনের মাধ্যমে তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম অক্ষুণ্ণ রাখবে।'
অনুষ্ঠানের সভাপতি ও বাংলা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. দেলোয়ার হোসেন বলেন, 'আমাদের বিভাগের শিক্ষার্থীরা পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলায়ও দক্ষ ও দূরদর্শী। শিক্ষার্থীরা জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ক্রীড়াঙ্গনেও অবদান রেখেছে।'
বিশ্ববিদ্যালয়জীবনের পরিসর হয়তো চার বছরের, কিন্তু এই সময়ের অভিজ্ঞতা ও স্মৃতি থেকে যায় দীর্ঘদিন। কেউ নতুন স্বপ্নের পথে যাত্রা শুরু করে, কেউবা অর্জিত অভিজ্ঞতা সঙ্গে নিয়ে পা বাড়ায় নতুন গন্তব্যে। সময়ের স্রোতে বদলে যায় পরিচিত মুখ, বদলে যায় প্রতিদিনের অভ্যাস। তবু ৩২ একরের এই আঙিনায় ফেলে আসা দিনগুলো বারবার মনে করিয়ে দেয়, বিশ্ববিদ্যালয় কেবল ডিগ্রি অর্জনের জায়গা নয়, বরং জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়, যেখানে শুরুর সঙ্গে শেষেরও মিশে থাকে গভীর মায়া।
ঢাকা এক্সপ্রেস/এসএস