ঢাকা, শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬

১৬ আশ্বিন ১৪৩৩, ১৮ রবিউস সানি ১৪৪৮

সদ্য বিবাহিত দম্পতিদের শাহরুখ খানের পরামর্শ

বিনোদন ডেস্ক

প্রকাশ: ১০:৩২, ১ অক্টোবর ২০২৬

সদ্য বিবাহিত দম্পতিদের শাহরুখ খানের পরামর্শ

ছবি: সংগৃহীত

বলিউডের ‘কিং অব রোমান্স’ শাহরুখ খান বাস্তব জীবনেও যে সম্পর্কের রসায়ন গভীরভাবে বোঝেন, তার প্রমাণ মিলল আরও একবার। সামাজিক মাধ্যমে এক ভক্ত নবদম্পতিদের সুখী বিবাহিত জীবনের ‘গ্রিন ফ্ল্যাগ’ বা মূল চাবিকাঠি কী, তা জানতে চাইলে শাহরুখ খান বলেন, সুখী দাম্পত্যের অন্যতম ইতিবাচক দিক হলো পারস্পরিক সমঝোতা ও মানিয়ে নেওয়া।

সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যমে আয়োজিত ‘আস্ক এসআরকে’ সেশনে এমন প্রশ্নের উত্তরে এই পরামর্শ দেন বলিউড বাদশাহ।

শাহরুখ খান বলেন, ‘একে অপরের রঙে রঙিন হয়ে ওঠো...। নিজেদের মধ্যে মানিয়ে নাও, যাতে তোমরা দুজনেই সঙ্গীকে আরও সুখী করতে পারো।’

শাহরুখ খানের এই মন্তব্য শুধু রোমান্টিক নয়, এর পেছনে রয়েছে গভীর মনস্তাত্ত্বিক তত্ত্বও। এ বিষয়ে রিলেশনশিপ কোচের মতে, দুজন মানুষ যদি সম্পর্কে আগের মতোই বেঁচে থাকার জেদ ধরে রাখেন, তাহলে কোনো ভালোবাসার সম্পর্কই দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে না।

তিনি বলেন, স্বাস্থ্যকর অ্যাডজাস্টমেন্টের অর্থ হলো সঙ্গীর জন্য নিজের জীবনে জায়গা তৈরি করে নেওয়া। সঙ্গী কীভাবে মানসিক দ্বন্দ্বে সাড়া দেন, তা বুঝে যোগাযোগের মাধ্যম বদলানো, সপ্তাহান্ত কীভাবে কাটাবেন, দায়িত্ব কীভাবে ভাগ করে নেবেন কিংবা কঠিন দিনের পর সঙ্গীর নীরবতার প্রয়োজনকে সম্মান জানানো—এসব ছোট ছোট বিষয়ও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

বাদশাহর ভালোবাসার ভিত্তির একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, অন্যকে খুশি করতে গিয়ে নিজের অস্তিত্বকে ছোট করা যাবে না। অসুস্থতা, ক্যারিয়ারের চাপ, গর্ভাবস্থা কিংবা শোকের মতো কঠিন সময়ে একজন সঙ্গীকে বেশি দায়িত্ব বহন করতে হতে পারে। তবে দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্কে দুজনকেই অনুভব করতে হবে—‘তোমার আনন্দ যেমন আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ, আমার আনন্দও তোমার কাছে সমান গুরুত্বপূর্ণ।’

ভালোবাসায় দুজন মানুষ অনিবার্যভাবেই একে অপরের অভ্যাস, স্বাদ ও চিন্তাভাবনা দ্বারা প্রভাবিত হন। তবে সম্পর্ক গভীর হতে গিয়ে দুজনের নিজস্ব রঙ বা ব্যক্তিত্ব হারিয়ে যাবে না। দুটি আলাদা রঙ অক্ষুণ্ণ রেখে একটি নতুন সুন্দর শেড তৈরি করাই আসল ভালোবাসা।

সম্পর্কের লক্ষ্য কেবল সঙ্গীকে খুশি করা নয়; বরং এমন একটি বন্ধন গড়ে তোলা, যেখানে দুজন মানুষই সমান ভালোবাসা, মর্যাদা, স্বতন্ত্রতা এবং সুখ অনুভব করতে পারেন। সাইকোথেরাপিস্টের ভাষায়, ভালোবাসায় অবশ্যই মানিয়ে নেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে। তবে সুস্থ ভালোবাসা কখনো নিজের অস্তিত্ব বিসর্জন দেওয়ার দাবি করে না।

তাই সম্পর্কে কোনো বড় সিদ্ধান্ত বা অ্যাডজাস্টমেন্ট করার আগে বিশেষজ্ঞরা দম্পতিদের নিজেদের কাছে পাঁচটি প্রশ্ন করার পরামর্শ দিয়েছেন।

প্রথমত, আমি কি এটি নিজের ইচ্ছায় বেছে নিচ্ছি, নাকি ‘না’ বললে পরিণতি কী হবে, সেই ভয়ে মেনে নিচ্ছি?

দ্বিতীয়ত, আমার সঙ্গীও কি একইভাবে আমার প্রয়োজন ও মানসিক শান্তির জন্য জায়গা তৈরি করছেন?

তৃতীয়ত, এই অ্যাডজাস্টমেন্ট কি কেবল একটি অভ্যাস বদলাতে বলছে, নাকি আমার গুরুত্বপূর্ণ নীতি ও ব্যক্তিত্ব বিসর্জন দিতে বলছে?

চতুর্থত, অসম্মান বা মানসিক অবহেলার শিকার না হয়ে আমি কি সম্পর্কের মধ্যে দ্বিমত পোষণ করতে পারি?

পঞ্চমত, বারবার আপস করার পরও কি আমি নিজেকে এই সম্পর্কের মধ্যে চিনতে পারি?

ঢাকা এক্সপ্রেস/এসএস

আরও পড়ুন