শিরোনাম
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ০৬:৪২, ৪ অক্টোবর ২০২৬ | আপডেট: ০৬:৪৩, ৪ অক্টোবর ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
নেপাল-চীন সীমান্তে ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসের ঘটনায় নিখোঁজ ৫৫ মালয়েশীয় নাগরিকের মধ্যে একজনকে ৩৭ দিন পর জীবিত অবস্থায় খুঁজে পাওয়া গেছে।
হিমালয়ের লাংটাং লিরুং পর্বতের কাছে হিমবাহ ধসের পর সৃষ্ট বন্যায় নিখোঁজ হওয়া ওই মালয়েশীয় পর্যটক নিরাপদে দেশে ফিরে গেছেন বলে জানা গেছে। খবর দ্য ইন্ডিপেনডেন্টের।
শুক্রবার (০২ অক্টোবর) ‘মালয়েশিয়া সলিডারিটি: ফ্যামিলিজ ইন হোপ’ (মাসফি)-এর মুখপাত্র মনিভান্নান রেথিনাম এক বিবৃতিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
বিবৃতিতে তিনি জানান, নেপাল ভ্রমণে যাওয়া ওই নাগরিক কাঠমান্ডুতে অবস্থিত মালয়েশিয়ার দূতাবাসে উপস্থিত হয়ে নিজের নিরাপত্তার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। ভয়াবহ ওই প্রাকৃতিক দুর্যোগের ৩৭ দিন পর তাঁকে জীবিত অবস্থায় খুঁজে পাওয়ায় নিখোঁজ অন্যদের পরিবারের মধ্যেও কিছুটা স্বস্তি ও আশা ফিরে এসেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপসংস্থার বিশ্লেষণ অনুযায়ী, লাংটাং লিরুং পর্বতে হিমবাহ ও বরফ ধসের ফলে সৃষ্ট কম্পনের মাত্রা ছিল ৫ দশমিক ২ মাত্রার ভূমিকম্পের সমতুল্য। এই ধ্বংসাত্মক ঘটনায় নেপাল ও সংলগ্ন তিব্বত অঞ্চলে এক হাজার ৪০০ জনের বেশি মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে। এখনো পাঁচ হাজারের বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন।
এর আগে গত ২৭ আগস্ট মালয়েশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছিল, নেপালে বন্যার পর কাঠমান্ডুতে অবস্থিত দেশটির দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া ৫৫ মালয়েশীয় নাগরিকের কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না।
মনিভান্নান রেথিনাম জানান, গত ২৫ আগস্ট বিকেল ৩টা ২৬ মিনিটে, অর্থাৎ বন্যার ঠিক এক দিন আগে, ওই পর্যটক নাগথালি ভিউপয়েন্টে ছিলেন বলে তাঁদের জানানো হয়েছিল। স্থানীয় রাস্তাঘাট ও সেতু ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় এবং বিদ্যুৎ ও খাবার পানির তীব্র সংকটের কারণে তিনি ওই দুর্গম এলাকায় সাময়িকভাবে আটকা পড়েছিলেন।
নেপালে সাম্প্রতিক ওই দুর্যোগের পর ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর সঙ্গে যোগাযোগব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় উদ্ধার তৎপরতাও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। গত ১৭ সেপ্টেম্বর নেপালের পর্যটন দপ্তরের হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, ভারত, যুক্তরাষ্ট্র, ইউক্রেন, মালয়েশিয়া, অস্ট্রেলিয়া ও যুক্তরাজ্যসহ ৩০টির বেশি দেশের নাগরিক এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ১৮০ জনের বেশি ভারতীয়, ৬৫ জন আমেরিকান, ৫৪ জন ইউক্রেনীয়, ৫৪ জন মালয়েশীয় এবং ৩৭ জন চীনা নাগরিক রয়েছেন।
ঢাকা এক্সপ্রেস/এসএস