ঢাকা, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬

২০ কার্তিক ১৪৩৩, ২৩ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮

ক্যান্সারের ঝুঁকি কমাতে যা খাবেন

ডেস্ক রিপোর্ট

প্রকাশ: ১২:১৭, ২১ আগস্ট ২০২৬

ক্যান্সারের ঝুঁকি কমাতে যা খাবেন

ছবি: সংগৃহীত

ক্যানসার প্রতিরোধে স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। প্রতিদিনের খাবারে থাকা কিছু সহজলভ্য ও পুষ্টিকর উপাদান শরীরের কোষকে সুরক্ষায় সহায়তা করতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এমন পাঁচটি খাবার হলো—

১. হলুদ: হলুদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপাদান কারকিউমিন। এটি অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও প্রদাহবিরোধী বৈশিষ্ট্যের জন্য পরিচিত। ক্যানসার প্রতিরোধে কারকিউমিনের সম্ভাব্য ভূমিকা নিয়ে গবেষণা হয়েছে। তরকারি, স্যুপসহ বিভিন্ন খাবারে পরিমাণমতো হলুদ ব্যবহার করা যায়। গোলমরিচের সঙ্গে হলুদ খেলে কারকিউমিনের শোষণ বাড়তে পারে বলেও কিছু গবেষণায় ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।

২. টমেটো: টমেটোতে রয়েছে লাইকোপেন। এটি একটি শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। শরীরের কোষকে অক্সিডেটিভ ক্ষতি থেকে সুরক্ষায় এটি সহায়তা করতে পারে। কিছু গবেষণায় লাইকোপেনের সঙ্গে কয়েক ধরনের ক্যানসারের ঝুঁকি কমার সম্পর্ক পাওয়া গেছে। রান্না করা টমেটো থেকে শরীর তুলনামূলকভাবে বেশি লাইকোপেন গ্রহণ করতে পারে।

৩. তুলসী: তুলসীতে ইউজেনলসহ বিভিন্ন উপকারী যৌগ রয়েছে। এসব উপাদানের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও প্রদাহবিরোধী বৈশিষ্ট্য রয়েছে। স্তন ক্যানসারসহ কিছু ক্যানসারের ক্ষেত্রে তুলসীর সম্ভাব্য ভূমিকা নিয়ে গবেষণা হয়েছে। তবে তুলসী ক্যানসারের চিকিৎসা নয়। এ বিষয়ে আরও গবেষণা প্রয়োজন।

৪. আমলকী: আমলকীতে প্রচুর ভিটামিন সি ও বিভিন্ন উদ্ভিজ্জ রাসায়নিক উপাদান রয়েছে। এগুলো অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে। ফলে কোষকে অক্সিডেটিভ ক্ষতি থেকে সুরক্ষায় সহায়তা করতে পারে। কিছু গবেষণায় আমলকীর সঙ্গে ফুসফুস ও স্তন ক্যানসারের ঝুঁকি কমার সম্ভাব্য সম্পর্কের কথা বলা হয়েছে।

৫. পালং শাক: পালং শাকের মতো পাতাযুক্ত শাকসবজিতে ফোলেট, আঁশ ও বিভিন্ন উদ্ভিজ্জ পুষ্টি উপাদান থাকে। ফোলেট ডিএনএ তৈরি ও মেরামতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। পর্যাপ্ত ফোলেট গ্রহণ কোলোরেক্টাল ক্যানসারের ঝুঁকি কমার সঙ্গে সম্পর্কিত বলে কিছু গবেষণায় দেখা গেছে। আঁশ হজমতন্ত্র ও অন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো রাখতেও সহায়তা করে।

কোনো একটি খাবার ক্যানসার প্রতিরোধের নিশ্চয়তা দেয় না। বরং বিভিন্ন ধরনের শাকসবজি, ফল, পূর্ণ শস্য ও অন্যান্য পুষ্টিকর খাবার নিয়ে সুষম খাদ্যাভ্যাস গড়ে তোলা বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

এর পাশাপাশি ধূমপান ও অতিরিক্ত মদ্যপান এড়িয়ে চলা, স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখা এবং নিয়মিত শরীরচর্চা ক্যানসারের ঝুঁকি কমাতে সহায়ক হতে পারে।

তাই দামি কোনো বিশেষ খাবারের ওপর নির্ভর না করে প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় সহজলভ্য ও পুষ্টিকর খাবার রাখাই ভালো অভ্যাস।

ঢাকা এক্সপ্রেস/এসএস

আরও পড়ুন